আরো টেস্ট খেলা দরকার : সাকিব

sakib

২০০৬ সালে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এই সাত বছরে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে নিজেকে দেশের সেরা ক্রিকেটারে পরিণত করেছেন সাকিব আল হাসান। আর শুধু দেশেই নয়, সব ধরনের ক্রিকেটে এখন দেশের বাইরেও এক পরিচিত মুখ সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক সম্প্রতি পাকিস্তানের পাকপ্যাশন ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে সাকিব নিজের খেলোয়াড়ী জীবন, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতিতে ঘাটতি, বাংলাদেশ দলের টেস্ট স্ট্যাটাস, অধিনায়কত্ব এবং সমপ্রতি বাংলাদেশ জাতীয় দলে তরুণ খেলোয়াড়দের উঠে আসা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আছেন প্রায় সাত বছর হতে চলছে। আপনার নিজের পারফরমেন্স এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনার অর্জন নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট কি-না?

সাকিব : আমার মনে হয় আমিই ভালই করেছি। এ পর্যন্ত যা হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। ক্যারিয়ারের চিত্রটা আরো ভাল হতে পারতো বলে মনে করি। কিন্তু ক্রিকেটে এমনটাই হয়- আপনি কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন না এবং সব সময়ই আপনাকে আরো ভাল করার দিকে নজর রাখতে হবে।

আমি যে দলেই খেলি না কেন সব সময়ই আমি উন্নতি করতে, শিখতে এবং আরো বেশি ভাল করার দিকে নজর দেই। হোক সেটা আন্তর্জাতিক কিংবা বিশ্বের যে কোন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট।

প্রশ্ন : প্রত্যাশা করা হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ খুব একটা উন্নতি করতে পারছে না?

সাকিব : অবশ্যই। আমরা যেমনটা আশা করেছিলাম- টেস্ট ক্রিকেটে আমরা তেমন অবস্থা সৃষ্টি করতে পারিনি এবং কার্যত এটা আমাদের জন্য হতাশার। যে কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটে এখন আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত দল এবং সেটা অর্জন করতে আমাদের বেশ কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে এখনো আমাদের সত্যিকারের যোগ্যতা আমরা এখনো দেখাতে পারিনি এবং এটা করার জন্য আমাদের অনেক প্রচেষ্টা দরকার।

টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের পারফরমেন্সের মান বাড়াতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি এবং আমি মনে করি আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত অন্তত নিজ মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারা, একটা ভিত্তি স্থাপন করতে পারা। নিজ দেশে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারলে সেটা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে এবং তারপর বিদেশের মাটিতেও টেস্ট ক্রিকেটে চ্যালেঞ্জ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।

প্রশ্ন : টেস্ট ক্রিকেটে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে মূলত কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি করা প্রয়োজন?

সাকিব : প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের আরো বেশি টেস্ট খেলা দরকার। এই মুহূর্তে আমরা খুব বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারছি না এবং আমাদের টেস্ট ক্রিকেটারদের উন্নতিতে সেটা একটা বড় বাধা। আমরা যত বেশি পাঁচ দিনের ম্যাচ খেলব, আমাদের আরো বেশি ক্রিকেটাররা খেলাটির সর্বক্ষেত্রেই উন্নতি করবে।

আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরো বেশি তিন অথবা চার দিনের ক্রিকেট খেলাও নিশ্চিত করতে হবে। যা আমাদের ক্রিকেটারদের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করবে।

সংক্ষিপ্ত ভার্সনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের অনেক ক্রিকেটারই বেশ ভালভাবে ধাতস্থ হচ্ছে। কারণ তারা এ সকল ফরম্যাটে খেলে থাকে এবং অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু যেহেতু ঘরোয়া ক্রিকেটে তারা তিন-চার দিনের বেশি খেলে না তাই টেস্ট ক্রিকেটে মানিয়ে নেয়াটা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

প্রশ্ন : বলা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মত শক্তিশালী দলের পরিবর্তে দ্বিতীয় সারির দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট খেলা উচিত। এমন কিছু হলে সেটাকি ভাল হবে বলে আপনি মনে করেন?

সাকিব : এটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত এবং এমন ধরনের খেলা তারা চালাবে কি না। তবে আমার প্রাধান্য থাকবে টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় সারির দলের চেয়ে শীর্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলাটা।

প্রশ্ন : অতীতে আপনি আপনার দেশের অধিনায়কত্ব করেছেন। অধিনায়কত্বে একটি চাপ থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে কি আবারো একবার দলের অধিনায়ক হতে চাইবেন?

সাকিব : এই মুহূর্তে সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশ দলের একজন সদস্য হয়েই আমি খুশী এবং আবারো বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হওয়ার বিষয়ে সত্যিই আমি খুব বেশি চিন্তা করি না। ভবিষ্যতে যদি এমন সুযোগ আসে তখন এ বিষয়ে চিন্তা করবো এবং সে সময়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

প্রশ্ন : বর্তমানে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ফরম্যাটের মধ্যে সবক’টিতেই একজন অধিনায়কের অধীনে খেলা একজন খেলোয়াড় হিসেবে সহজ কি-না?

সাকিব : যেহেতু অধিনায়কের চারিত্রিক গুণাবলী ও ব্যক্তিত্ব এবং তার ধারণার সঙ্গে আপনার মিল আছে তাই একজন অধিনায়কের অধীনে খেলা একজন খেলোয়াড়ের জন্য অনেক বেশি সহজ বলে আমি মনে করি। অধিনায়কের দিক থেকে কৌশল, পরিকল্পনা ও দল এবং খেলোয়াড়দের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ। কেননা, তিন দলের দায়িত্বেই আপনি। তিন ফরম্যাটেই নেতৃত্ব দেয়াটা অধিনায়ককে চাপে ফেলে দেয় এবং কাজের চাপ কমানোটা অবশ্যই একটি বিষয় হতে পারে। তবে এটা অসম্ভব নয় এবং আমি নিশ্চিত যে, প্রয়োজন হলে অধিকাংশ ক্রিকেটারই তার দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্ব করাটাকে পছন্দ করে।

প্রশ্ন : নাসির হোসেন এবং আরো কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার যেভাবে বেড়িয়ে আসছে এবং এমন দারুণভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছে। সেটাতো অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভাল…

সাকিব : অবশ্যই। বেশ ক’জন তরুণ ও মেধাবী খেলোয়াড় যেভাবে বেড়িয়ে এসেছে তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটা বড় সংবাদ। বাংলাদেশের তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে নাসির হোসেন একজন যাকে নিয়ে আমরা অনেক বড় আশা করছি।

আরো অনেক তরুণ খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হিসেবে উন্নতি করতে পারে। দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য আরো বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বাড়তি বিষয়। সামর্থ্যের মতোই মেধাবী এমন ধরনের ক্রিকেটারের সঙ্গে একই দলে খেলাটা বেশ উত্তেজনাকর।

প্রশ্ন : স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে সাকলাইন মুশতাককে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাকলাইনের সঙ্গে কাজ করাটা কেমন লাগছে?

সাকিব : এটা অত্যন্ত ভালো একটি কাজ হয়েছে। ক্রিকেটের অনেক জ্ঞানসম্পন্ন এবং দারুণ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে তিনি অত্যন্ত চমত্কার একজন ব্যক্তি। তার সঙ্গে কাজ করাটা অত্যন্ত আনন্দের এবং বাংলাদেশের যে সকল খেলোয়াড় সাকলাইনের সঙ্গে কাজ করেছে আমি নিশ্চিত তারা উপকৃত হয়েছে।

প্রশ্ন : আগামী মাস ও বছরগুলোতে আপনার নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?

সাকিব : ২০১৫ বিশ্বকাপ আমার নিজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও। এটা এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে আমরা ভালো করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং এ টুর্নামেন্টের প্রতিই আমাদের নজর বেশি। ব্যক্তিগতভাবে দলের মতো আমিও ২০১৫ বিশ্বকাপে ভালো করতে চাই। বাংলাদেশ প্রমাণ করতে চায় যে, আমরা কেবল অংশগ্রহণের জন্য নয়, বড় ধরনের টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সৃষ্টি করতে পারি। -বাসস

মন্তব্য