স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় আসতে হলে আপনাকে যা করতে হবে

[মার্শাল গারনিক কানাডার একজন ইমিগ্রেশন ল’ইয়ার। ইমিগ্রেশন বিষয়ে হাম্বার কলেজের খন্ডকালীন শিক্ষক। প্রবাসী কন্ঠের পাঠক/পাঠিকাদের জন্যে মিঃ গারনিক কানাডার ইমিগ্রেশন বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখবেন। ইমিগ্রশন বিষয়ে আপনাদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেয়ার ব্যাপারেও তিনি তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। তার ইমেইল নম্বর info@marshallgarnick.com – সম্পাদক, প্রবাসী কন্ঠ ]

বর্তমানে কানাডার ইমিগ্রেশন আইন আর সরকারের নীতিমালা এতোটাই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত যে ইমিগ্রেশনের সেই উদার নীতির প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া ভার। বিশেষ করে ২০১১ সালে কনজারবেটিভ সরকার সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ইমিগ্রশনের দৃশ্যপট খুব দ্রুত বদলাতে শুরু করে।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে কানাডার ইমিগ্রেশন ও সিটিজেনশীপ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই। বিশেষ করে কানাডার ভিজিট ভিসা ও অস্থায়ীভাবে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ প্রাপ্তির উপায় কি?

এই দু’টি বিষয়ে কানাডা সরকারের বর্তমান পলিসি নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাই।

প্রথমেই শুরু করা যাক স্টুডেন্ট ভিসার ব্যাপারে। বর্তমানে কানাডা আন্তর্জাতিক ছাত্র/ছাত্রীদের জন্যে একটি অত্যন্ত আকর্ষনীয় স্থান।

এই পত্রিকার পাঠক/পাঠিকারা অবহিত আছেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশীদের জন্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের আবেদন পত্র প্রসেস হয় সিঙ্গাপুরে।

আপনারা জানেন কি-এ বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে যেসব বাংলাদেশী নাগরিকরা, যাদের বয়স ১৪ থেকে ৭৯ পর্যন্ত, যারাই ভিজিটর ভিসা, লেখাপড়া কিংবা ওয়ার্ক পারমিটের জন্যে আবেদন করবেন, তাদেরকে আবেদনের সাথে অবশ্যই তাদের বায়োমেট্রিকস (ফ্রিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি) জমা দিতে হবে? সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখ থেকে কানাডা সরকার বিশ্বের ২৯টি দেশে ও ১টি টেরিটরিতে এই নতুন বধ্যবাধকতা যুক্ত করেছে।

এজন্যে আবেদন প্রতি ফি ধরা হয়েছে ৮৫ ডলার। ভিজিট ভিসা, লেখাপড়া কিংবা ওয়ার্ক পারমিটের জন্যে আবেদনের জন্যে যে ফি রয়েছে-বায়োমেট্রিকস ফি এর অতিরিক্ত ফি হিসেবে দিতে হবে। তবে পারিবারিকভাবে আবেদন করলে এজন্যে ফি কিছুটা হ্রাসের ব্যবস্থা আছে। যেমন ৪জনের জন্যে আবেদন করলে দিতে হবে ১৭০ ডলার। অর্থাৎ মাত্র দু’জনের ফি দিয়ে ৪জনের জন্যে আবেদন করা যাবে। আগ্রহীরা সিআইসি.সিএ/বায়োমেট্রিকস-এ ওয়েব সাইটে বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন।

অনেকেই আমার কাছে জানতে চান, ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়ার জন্যে স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা স্টাডি পারমিট পেতে হলে কিভাবে আবেদন করতে হয় এবং আবেদন জমা হওয়ার পরে কতোদিনের মধ্যে তা প্রসেস হয়?

সিঙ্গাপুর ভিসা অফিসের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে যতোদূর জানতে পেরেছি, তাতে সরকারের নীতিমালা পরিবর্তনের সাথে এটা সঙ্গতিপূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত এর সময়সীমা হচ্ছে ৮ সপ্তাহ।

এর পরের প্রশ্নটিই থাকে, স্টাডি পারমিটের আবেদনের সাফল্যের মাপকাঠি কি? কিসের ভিত্তিতে ভিসা অফিস এই আবেদন অনুমোদন করে?

এর উত্তর হচ্ছে:ছাত্র/ছাত্রীর আর্থিক অবস্থা অবশ্যই ভাল থাকতে হবে এবং পাশাপাশি এখানে লেখাপড়া শেষ করে সে যে দেশে ফেরত যাবে কাগজে পত্রে তারও একটা পরিকল্পনা বা নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে মোদ্দা কথা হচ্ছে, যারাই এখানে লেখাপড়ার জন্যে আসেন তারা যে আর দেশে ফিরে যেতে চাননা তাদের মূল টার্গেটই হচ্ছে কানাডার ইমিগ্রেশন প্রাপ্তি-সে বিষয়ে নতুন করে আর বলার কিছু নেই। তবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের জন্যে ওয়ার্ক পারমিট প্রাপ্তির সুযোগ আছে। কানাডায় চাকরির জন্যে যে ‘কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্সি’র কথা বলা হয়-তার এর মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। এবং চাকরি প্রাপ্তির মাধ্যমে তারা ‘পারমানেন্ট রেসিডেন্সির’ও সুযোগ পেতে পারেন। এই কর্মসূচির নাম হচ্ছে ‘কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স ক্লাশ’। তবে এই কর্মসূচিতে সাফল্য অর্জন খুব সহজ নয়। এই কর্মসূচিতে যারাই আবেদন করবেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাষায় দক্ষ এবং দক্ষ শ্রমিক কিংবা সফল পেশাজীবীদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করবেন। এক্ষেত্রে ‘ন্যাশনাল অকুপেশনাল ক্লাসিফিকেশনে’র কোড কড়াকড়িভাবে অনুসরণের বিধান রয়েছে। তবে এই কর্মসূচির আইন কিংবা নীতি (পলিসি) এখনো নতুন বিধায় ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের পরামর্শ গ্রহন করলে তা প্রার্থীর জন্যে ইতিবাচক ফল বয়ে আনার জন্যে সহায়ক হতে পারে।

[পাদটীকাঃ এই নিবন্ধটি একটি সাধারণ আলোচনা। নিবন্ধকারের কোন আইনী পরামর্শ নয়।]

মন্তব্য