কানাডার কোথায় কাজের রেফারেন্স পাওয়া যায়

সিলভিয়া ডি ব্লাসিও : খুঁটিনাটি সব পরীক্ষা করে সুন্দর করে একটি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করলেন, কোম্পানির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু জেনে নিজেকে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত করলেন, মানানসই পোশাক পড়ে সাক্ষাৎকার দিতে গেলে সেখানে আপনার কাছে জানতে চাওয়া হলো কঠিন এক প্রশ্ন: “আপনি কি আপনার কাজের রেফারেন্সের একটা তালিকা দিতে পারেন”? কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে অন্তত দুই বছর ধরে চেনে এমন লোকের রেফারেন্স  লাগবে এবং অবশ্যই তা কানাডা থেকে।

আপনি স্বাক্ষাতকার থেকে ফিরে গেলে তেতোমিষ্টি অভিজ্ঞতা নিয়ে: “কোথায় গেলে আমি এই রেফারেন্স পাব? আমি তো কানাডায় কাউকে চিনি না!”

অভিবাসী চাকরী প্রার্থীদের এটা একটা সাধারণ সমস্যা। বিষন্ন ও হতাশাবাদী হওয়া খুব সহজ। যদিও এ ধরণের কোন অনুভূতিই কাজে আসবে না। যা সাহায্য করবে তা হলো কি ঘটতে পারে তা চিন্তা করা এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

মোটের উপর, হাজার হাজার অভিবাসী কানাডায় এসে চাকরি খুঁজে পায়, কেউ কেউ তার নিজের পেশা অনুযায়ী চাকরিও পায়। এরা প্রায় প্রত্যেকেই আপনার মতো একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে: তারা ছিল নতুন, তারা এখানে কাউকেই চিনতো না এবং শুধুমাত্র নিজ দেশ থেকে নিয়ে আসা রেফারেন্স ছিল।

কে কাজের রেফারেন্স দিতে পারবে আর কে পারবে না

সাবেক অথবা বর্তমান ব্যবস্থাপক, পরিদর্শক, সহকর্মী, ক্লায়েন্টস, সাপ্লায়ারস, প্রশিক্ষক অথবা সহপাঠীর কাছ থেকে রেফারেন্স আসতে পারে।

নিয়ম হচ্ছে, আপনি যাকেই রেফারেন্সের জন্য নির্বাচন করেন না কেন, তাকে হয় আপনার সঙ্গে অন্তত দু’বছর কাজ করতে হবে অথবা আপনার কাজ পর্যবেক্ষণ করেছে এমন কেউ হতে হবে। তারমানে, আপনি আপনার জন্মভূমি থেকেও কাউকে রেফারেন্সের জন্য নির্বাচন করতে পারেন। কারণ কানাডার তুলনায় সেখানেই আপনার পরিচিত লোক বেশি থাকার সম্ভাবনা বেশি।

স্বেচ্ছাশ্রম, শিক্ষানবিশি, নেটওয়ার্কিং, কোন কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানে শিক্ষালাভ এবং মোটের উপর কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার মাধ্যমে কানাডিয়ান রেফারেন্স পাওয়া যেতে পারে। কানাডায় আসার পরপরই এসব কাজে জড়িত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন, এসব কিছু আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে, আপনাকে কানাডিয়ান অভিজ্ঞতা দেবে এবং পথ খুঁজে নিতে আপনাকে সহায়তা করবে।

আরেকটা নির্দেশনা হচ্ছে আপনি যার রেফারেন্স দিচ্ছেন, তাকে যেন ফোনে অথবা ই-মেইলে পাওয়া যায় এবং কোম্পানি তাকে যেসব প্রশ্ন করবে তিনি যেন তার জবাব দিতে পারেন। কাজেই আপনাকে এমন একজনকে বেছে নিতে হবে যার উপর আপনার আস্থা এবং আপনার সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে।

যার রেফারেন্স গ্রহণযোগ্য নয় অথবা যারা হয়তো ভাল করবে না এবং আপনার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে:

পরিবারের সদস্য অথবা বন্ধু, এবং যাদেরকে আপনি খুব অল্প সময় ধরে চিনেন অথবা যাদের সঙ্গে আপনার সুসম্পর্ক নেই।

যখন আপনি রেফারেন্স দেয়ার জন্য কাউকে নির্বাচন করবেন, সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি আপনার নিজের দেশ এবং কানাডা দু’জায়গা মিলিয়ে দিতে পারেন। যদি আপনি আপনার নিজ দেশের কোন রেফারেন্স দিতে না পারেন তাহলে আপনার নিয়োগকর্তার কাছে তা সন্দেহজনক হতে পারে। আর যদি আপনার কোন কানাডিয়ান রেফারেন্স না থাকে তাহলে তারা আপনাকে বলবেন আপনি কানাডায় নতুন, আপনি কাজের উপযোগী নন এবং কানাডিয়ান বিভিন্ন ইস্যুর সঙ্গে এখনো জড়িত নন। (যার ফলে, তারা ধরে নিবে, আপনার কানাডিয়ান অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে!)

কিভাবে এই প্রক্রিয়া কাজ করে

প্রথমে আপনি রেফারেন্সের জন্য সম্ভাব্য ব্যক্তিদের একটা তালিকা তৈরি করুন, তারপর কোন চাকরিতে আবেদন করার আগে তাদেরকে ফোন অথবা ই-মেইল করুন। আপনি বলতে পারেন “হাই,(নাম)কেমন আছেন? আপনি জানেন, আমি এখন কানাডায় এবং আমি চাকরি খুঁজছি। নিয়োগকর্তারা চাকরির জন্য আমি যোগ্য কিনা তা যাচাই করতে কারো রেফারেন্স চাইতে পারে, এবং আমরা যেহেতু একসঙ্গে কাজ/পড়াশুনা করেছি, আমি খুব খুশি হব যদি আপনি আমাকে রেফারেন্স দিতে রাজি হন”। যদি তারা রাজি হয়, তাহলে তাদের কাছে জানতে চান, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য কোন সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ আছে কিনা, কোন ভাষায় কথা বলতে চান অথবা তারা ই-মেইলে যোগাযোগ করা পছন্দ করবেন কিনা।

প্রস্তুত হতে সময় দেয়ার জন্য, তাদেরকে আগে থেকেই কিছু সম্ভাব্য প্রশ্ন দিন। আপনি কিছু প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে দিতে পারেন; এতে তাদের সময় বাঁচাবে এবং আপনার ভাল দিকগুলো স্মরণ করতে এটা তাদেরকে সাহায্য করবে।

সাক্ষাৎকারের পরে তিন থেকে পাঁচটি রেফারেন্স নিয়োগকর্তাদের হাতে দেয়া লাগতে পারে।

নোট: রেফারেন্সে যাদের নাম দিয়েছেন তাদের সঙ্গে কিছুতেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেইল পাঠান অথবা আপনার চাকরি খোঁজার বিষয়টি যাতে তাদের স্মরণে থাকে এজন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। চাকরি পাওয়ার পর অবশ্যই তাদের ভুলে যাওয়া চলবে না!

কি ধরণের প্রশ্ন আপনার সম্পর্কে নিয়োগকর্তারা জিজ্ঞেস করতে পারে

নিয়োগকর্তা, চাকরির পদ এবং যিনি রেফারেন্স যাচাই করবেন তার উপর প্রশ্ন কি হবে তা নির্ভর করে। যদিও, বেশিরভাগ সময় জানতে চাওয়া হয়, আপনি আসলেই বায়োডাটায় বর্ণিত কোম্পানি এবং ওই পদে কাজ করতেন কিনা। সেখানে আপনার কাজ কেমন ছিল এবং আপনি কেন চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছ এসব বিষয়। তারা আপনার নিয়মানুবর্তিতা, সময়জ্ঞান এবং সমস্যা সমাধানে আপনার সামর্থ্য, টিমওয়ার্ক ও স্বনির্ভরতা সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে। নিয়োগকর্তারা এছাড়াও আপনার অর্জনগুলো সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে, তারা কেন আপনার জন্য সুপারিশ করলেন এবং আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, সেই চাকরি আপনি করতে পারবে কি পারবে না এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোন উদ্বেগ আছে কিনা।

আপনার বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি ও রাজনৈতিক মতাদর্শসহ ব্যক্তিগত কোন বিষয় এক কথায় বৈষম্য তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কোন প্রশ্ন নিয়োগকর্তারা করতে পারেন না।

রেফারেন্স লেটারের ব্যবহার

নবাগত অনেকেই দারুণ সব রেফারেন্স লেটার নিয়ে আসে এবং হতাশ হয় যখন নিয়োগকর্তারা সেগুলোর দিকে ফিরেও তাকায় না।  পত্রগুলো তখনই ভাল হবে যখন সেগুলো ছয় মাসের বেশি পুরনো হবে না অর্থাৎ সবশেষ সব তথ্য থাকতে হবে, কোম্পানির লেটারহেড থাকবে এবং কোম্পানির মালিক অথবা সুপারভাইজরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। বেশিরভাগ নিয়োগকর্তাই প্রকৃত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করেন এবং চিঠিতে উল্লেখিত তথ্য মিলিয়ে দেখেন, চিঠিটা অসম্পূর্ণ অথবা খুব পুরনো কিনা।

এসব পত্রের জন্য সর্বোত্তম ব্যবহার হচ্ছে পোর্টফোলিও। আপনার সব সদন, কাজের বর্ণনা, রেফারেন্স লেটার এবং আপনার দক্ষতার সারমর্মের মানসম্পন্ন কপি (সম্ভব হলে রঙ্গিন) নিয়ে একটি প্রফেশনাল পোর্টফোলিও তৈরি করুন। আসল কপিগুলো অবশ্যই ঘরে যতœ করে রেখে দিবেন।

একটি ভাল লক্ষণ

যখন কোন নিয়োগকর্তা রেফারেন্সের কথা জানতে চায়, একে সাধারণত একটি ভাল লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেশিরভাগ নিয়োগকর্তাই নিয়োগ সম্পর্কে ৮০ভাগ সিদ্ধান্ত রেফারেন্স লেটার পরীক্ষা করার আগেই নিয়ে নেয়, কাজেই এই পর্যায়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি বাজে রেফারেন্স লেটার আবেদনকারীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। এক সপ্তাহ পর নিয়মিত খোঁজ নিন নিয়োগকর্তা কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা। আপনার আবেদন নিয়ে কাজ শুরুর প্রক্রিয়া কতদূর? আপনাকে জানানোর মতো কোন তথ্য কি তাদের কাছে আছে? রেফারেন্স যাচাই শেষ হয়েছে কিনা?

নতুন রেফারেন্স গড়ে তুলুন

কখনো ভুলবেন না যে অর্থনীতি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া অর্থতৈনিক পরিস্থিতিকে অনুসরণ করে। চাকরি বেশিদিন নিরাপদ থাকে না, এমনকি চাকরি পাওয়ার পরও চমৎকার রেফারেন্স লেটার তৈরির প্রয়োজন হতে পারে। নিজের যোগ্যতার সবটুকু ঢেলে দিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে আপনার জন্য সর্বোত্তম রেফারেন্স গড়ে তুলতে পার।

Silvia DiBlasio works as an employment counsellor and facilitator at Skills Connect for Immigrants at Immigrant Services Society of BC

মন্তব্য