শখের শাড়ি একটাই

sharee

ফারহানা আলম : ২০০১ সালের কথা। নাদিয়া তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি একটা চাকরিও করেন। প্রথম আলোর নকশায় দেখেন ডিজাইনার শাহরুখ শহীদের এক্সক্লুসিভ শাড়ির খবর। ছবি দেখে শাড়িগুলো খুব পছন্দ হয়। সরাসরি হাজিরও হয়ে যান ডিজাইনারের স্টুডিওতে। আর সামনে পেয়েই কোনো কিছু চিন্তা না করেই কিনে ফেলেন পত্রিকায় দেখা শাড়িটি। কালো ক্যানভাসে শিল্পি এঁকেছেন প্রজাপতি, সূর্যমুখী আর প্রকৃতি। প্রায় পুরো মাসের বেতন দিয়েই কিনেছিলেন শাড়িটা। আজ ১৩ বছর পর ফারিয়ার আলমারিতে আরও অনেক এক্সক্লুসিভ শাড়ি আছে। কিন্তু এ শাড়িটার আবেদন অন্য রকম। ডিজাইনার শাহরুখ শহীদ আজ নেই। তাঁর কাজ আছে, হোক না শাড়ির ক্যানভাসে। এটাই বুঝি এক্সক্লুসিভ শাড়ির আবেদন।

ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে শখের শাড়ি একটাই হবে এমন চাওয়াটা দোষের নয়। খুব দামি হতেই হবে তা নয়, তবে সংগ্রহের শাড়িটি হবে এক্সক্লুসিভ। রং, নকশা, বুননে অনন্য একটি শাড়ি থাকুক পোশাক সংগ্রহে, যা আর কারও কাছে নেই। এই আত্মতৃপ্তি অনেককেই আনন্দ দেয়। আর তাদের জন্যই ডিজাইনাররা তৈরি করেন এক্সক্লুসিভ সব শাড়ি। এমন পোশাক বা শাড়ি বাজারে বিকোবেনা হরেদরে। বাজারে গেলেই দেখা মিলবে না এমন শাড়ির। তারকাদের অনেকেই পরেন এমন এক্সক্লুসিভ শাড়ি। কিন্তু ফ্যাশন সচেতনেরাও ইদানীং খোঁজ করছেন এবং সংগ্রহে রাখছেন এসব শাড়ির।

অভিনেত্রী জয়া আহসান পোশাকের রং, উপকরণ, প্যাটার্নের ক্ষেত্রে একটি নিজস্ব ধারা মেনে চলেন। জয়া বলেন, ‘আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই এবং আভিজাত্য প্রকাশ করে আমি তেমন পোশাকই নির্বাচন করি। একটু বেছে, একটু অন্য রকম কিছু পরার চেষ্টা করি। তবে অবশ্যই আমার স্টাইল বজায় রেখে। এটাই পোশাকের ক্ষেত্রে আমার সিগনেচার। সাধারণত আমার আনুষ্ঠানিক শাড়ির উপকরণটা হয় লেইস, মসলিন বা ফরাসি শিফন।’ আর পাঠক দর্শকরাও খেয়াল করে থাকবেন জয়া আহসানের প্রতিটি শাড়িই একটি অন্যটির চেয়ে আলাদা।

জমকালো অনুষ্ঠানে এখন কাতান শাড়ির জয়জয়কার। তবে কাতানেও রয়েছে অভিনবত্ব। আর কাতানে এক্সক্লুসিভ নকশা নিয়ে কাজ করছে মিরপুরের মানিক বেনারসি। প্রথমে তারা তৈরি করল ঠাকুরবাড়ির শাড়িগুলোর নকশায় কাতান বেনারসী। শতভাগ রেশমে বোনা ওই শাড়িগুলো যেন একেকটি অনবদ্য শিল্পকর্ম। মানিক বেনারসির চেয়ারম্যান সাফায়াৎ আলী তরফদার বলেন, ‘আমাদের এসব বিশেষ শাড়ি একটি করেই তৈরি হয়। আমরা দেশের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির জন্য এক্সক্লুসিভ শাড়ি তৈরি করছি। আর এই শাড়িগুলো পাওয়া যাবে ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়।’

ডিজাইনাররাও তৈরি করছেন এক্সক্লুসিভ, একপিস শাড়ি। মাহিন খানের মতে, হাতে বোনা এবং হাতে কাজ করা প্রতিটি শাড়িই একেকটি মাস্টারপিস। তবে হাতে বুনিয়ে বা হাতের কাজ করিয়ে একেটি শাড়িকে আরও অনন্য করে তোলা হয়। মসলিন, হাফসিল্ক, শিফনে তিনি তৈরি করেছেন এ ধরনের শাড়ি।

ড্রেসিডেল বরাবরই শাড়ি তৈরি করে একটু অন্য রকম ধাঁচে। দেখা গেল কোনো একটি শাড়ি এক্সক্লুসিভ বা বিশেষ রংয়ে করার জন্য তারা ডাই করে কাপড়ের রংই বদলে ফেলেছে। আর তাতে প্রিন্ট, প্যাচওয়ার্ক পাইপিং, এমব্রয়ডারির সমন্বয়ে তা হয়ে ওঠে অনন্য। ড্রেসিডেলের প্রধান নির্বাহী মায়া রহমান বলেন, ‘আমাদের সবগুলো শাড়িই অনন্য। শিফন, তসর, মসলিনে যেমন আমরা নিজস্ব ডিজাইনে প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, পাইপিং, পুঁতির ব্যবহার করি, তেমনিভাবে জামদানির প্রচলিত নকশার সঙ্গে আমাদের নিজস্ব নকশার সমন্বয় ঘটানো হয়। তাঁতিদের দিয়ে তা বিশেষভাবে বোনানো হয়। আর এভাবেই তৈরি হয় ড্রেসিডেলের এক্সক্লুসিভ শাড়ি।’

বাংলাদেশের শাড়ি প্রেমীদের মধ্যে এক্সক্লুসিভ এইসব শাড়ি কালেকশনের আগ্রহ এখন লক্ষ্যনীয়। আর তাই অনেক ডিজাইনাররাই তৈরি করছেন এই ধরনের এক্সক্লুসিভ শাড়ি।

মন্তব্য