তৈলাক্ত ত্বকের সমাধান রান্নাঘরেই!

rupchorcha1

আপনার রান্নাঘরের তাকে, রেফ্রিজারেটরে থাকা দৈনন্দিন খাবারদাবার আর ব্যবহার্য এটা-সেটা দিয়েই এই গরমের মৌসুমে ত্বক তেলমুক্ত, স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল রাখতে পারেন আপনিশরীরে ভিটামিন বি-২ এবং বি-৫-এর ঘাটতি থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা বেড়ে যেতে পারে। আর এই গরমের দিনে ভাজা-পোড়া বা হাবিজাবি ফাস্টফুড বেশি খেলে তার প্রভাব ত্বকের ওপর পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। এ ছাড়া এই মৌসুমে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম বেশি হয়। এ জন্য ত্বকের তেলগ্রন্থি থেকে নিঃসরণও বেশি হয়। এত সব সামলে তৈলাক্ত ত্বক ঠিকঠাক রাখা কী চাট্টিখানি কথা! বিষয়টা কিন্তু আসলে অতটা কঠিন নয়। আপনার রান্নাঘরের তাকে, রেফ্রিজারেটরে থাকা দৈনন্দিন খাবারদাবার আর ব্যবহার্য এটা-সেটা দিয়েই এই গরমের মৌসুমে ত্বক তেলমুক্ত, স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল রাখতে পারেন আপনি। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’।

দুধ-লেবুর রস

ঠান্ডা করে রাখা কাঁচা দুধের সঙ্গে অল্প পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে মুখ-হাত-পায়ে ভালো করে মাখুন। ১০ মিনিট রেখে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর হবে এবং ত্বক কম তৈলাক্ত থাকবে।

মধু ও মুলতানি মাটি

মধু ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে একটা ‘ফেসপ্যাক’ বানিয়ে নিন। পুরো মুখে তা ভালো করে মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এটা মুখের ত্বকে জমা হওয়া অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে এবং ত্বক সজীব ও কোমল দেখাবে।

ঘৃতকুমারী

এই গরমে ত্বক পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে ভালো উপাদান হলো ঘৃতকুমারী। এটা ত্বকের তেল শুষে নেওয়ার পাশাপাশি মুখে-হাতে-পায়ে ফুসকুড়ি থাকলে তাও পরিষ্কার করে। ঘৃতকুমারীর আঠাল রসের সঙ্গে স্ট্রবেরির মণ্ড এবং জইদানার গুঁড়ো মিশিয়ে একটা ‘ফেসপ্যাক’ তৈরি করে ব্যবহার করুন। এই ফেসপ্যাক কয়েক দিন রেফ্রিজারেটরে রেখে দিয়েও ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিমের সাদা অংশ

ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেওয়া এবং ত্বককে টানটান রাখার জন্য খুবই উপকারী ডিমের সাদা অংশ। একটি বা দুটি ডিম ভেঙে কুসুমটা সরিয়ে নিয়ে সারা মুখে ডিমের সাদা অংশ ভালো করে মাখুন। সাত থেকে ১০ মিনিট রাখার পর ভালো করে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

টমেটো

টমেটোও ত্বক পরিষ্কারে দারুণ উপকারী। মাঝারি আকারের একটি বা দুটি টমেটোর মণ্ড বানিয়ে সারা মুখে ভালো করে মেখে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এবার ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

চন্দনের গুঁড়ো, লেবুর রস ও গোলাপজল

চন্দন-কাঠের ভেষজ গুণের কথা কে না জানে। চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে একটি লেবুর রস ও গোলাপজল মিশিয়ে পেস্টের মতো বানিয়ে নিন। আলতো করে হাত বুলিয়ে সারা গায়ে ভালো করে মাখুন। কিছুক্ষণ রেখে ভালোমতো গোসল করে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক যেমন পরিষ্কার হবে, তেমনি শরীরজুড়ে ত্বকের নিচে রক্তপ্রবাহও বাড়বে। ত্বকে আসবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এবং কোমল ভাব।

মন্তব্য