মুসলমানদের জন্য কানাডিয়ানদের গভীর আলিঙ্গণ

haging muslim

প্রবাসী কন্ঠ ডেস্ক : মুসলমান মানেই টেররিস্ট অথবা আত্মঘাতি জঙ্গী। পশ্চিমা দেশগুলোতে এরকমই একটা ধারণা প্রচলিত হয়ে গেছে কিছু মানুষের মধ্যে। আর এই ধারণার প্রচলন শুরু হয় ৯/১১ এর ঘটনার পর। কানাডাও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সাম্প্রতিক কালে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে পশ্চিামা দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও পন্ডিত ব্যক্তিদের বক্তৃতা ও বিবৃতির ফলে এই মুসলিম ফোবিয়া ক্রমশ দুরীভূত হতে চলেছে বলে মনে হয়। উপরের স্থিরচিত্রে সেরকমই একটি দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

টরন্টোর ডাউনটাউনের জনাকীর্ণ ডানডাস এন্ড ইয়ং স্ট্রিটের মোড়ে এক মুসলিম যুবক দাড়িয়ে আছেন চোখ বেঁধে। তাঁর দু হাত প্রসারিত আলিঙ্গণের অপেক্ষায়। পাশেই হাতে লেখা দুটি পোস্টার রয়েছে যাতে লেখা আছে “আমি একজন মুসলিম। আমাকে টেররিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়”। “আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো? আমাকে একটি আলিঙ্গণ দাও।”

মাত্র কিছুক্ষণের জন্য অপেক্ষা। দেখা গেল অনেকেই এগিয়ে আসছেন চোখ বাঁধা ঐ যুবকটিকে আলিঙ্গণ করার জন্য। কারো কারো আলিঙ্গণ ছিল বেশ গভীর। একজনতো উল্টো দিকের ব্যস্ত রাস্তার ওপর গাড়ি থামিয়ে আলিঙ্গণ করতে আসেন রাস্তা পার হয়ে। আলিঙ্গণ শেষে আবার দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠেন।

পুরো বিষয়টি ভিডিওতে ধারণ করা হয়। এরপর তা ছেড়ে দেওয়া হয় ইউটিউবে। দেখা গেল কয়েকদিনের মধ্যেই এক মিলিয়ন লোকের বেশী ভিডিওটি অবলোকন করেন। টরন্টো বেজড্ ফিল্ম মেকিং গ্রুপ- টিম ভিশন এর সদস্য এক মুসলিম তরুণী আসুমী জে বলেন, বিষয়টি করা হয়েছিল নিছকই একটি সামাজিক নিরীক্ষা চালানোর জন্য। অনলাইনে দেওয়ার কোন পরিকল্পনা ছিল না আমাদের। তিনি বলেন, যখন আমি দেখলাম একজন লোক ব্যস্ত রাস্তার ওপর গাড়ি থামিয়ে আলিঙ্গণ করার জন্য আসলেন তখন আমি আমার চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। পুরো সেসনটাই আসলে ছিল সঞ্জীবনী এবং আমি সত্যিই খুব আবেগপীড়িত হয়ে পড়েছিলাম। কারণ, একজন মুসলিম মহিলা হিসেবে কানাডায় আমার অতীত অভিজ্ঞতা খুব সুখকর ছিল না।

চোখ বাঁধা যুবকটির নাম মুস্তফা মাওলা। তিনি বলেন, যাঁরা আমাকে আলিঙ্গণ করেছেন আমি তাঁদের কাউকে চোখে দেখিনি। কে কোন ধর্মের কোন বর্ণের আমি কিছুই জানি না। কিন্তু প্রতিটি আলিঙ্গণই ছিল আমার কাছে উদ্দীপক ও উৎসাহব্যঞ্জক। বিষয়টি আসলে মানবতার একটি দৃষ্টান্ত। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে আলিঙ্গণ করেছেন এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

মন্তব্য