আমেরিকার কড়চা

Fahim Reza Noor
ফাহীম রেজা নূর

আদালতে বাংলা

নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন আদালতে ইংরেজী ও অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি বাংলাও চালু হবে। নিউইয়র্ক সিটি কম্পোট্রোলার স্কট এম, ষ্ট্রিংগার এক বিবৃতিতে বলেছেন, নিউইয়র্ক সিটি সব সময় প্রবাসীদের জন্য একটা সুবিধাজনক শহর। তারা এই শহর গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে এবং এই সিটিতে ২০০ ভাষার বেশি কথ্যভাষা ব্যবহৃত হয়ে আসছে বিভিন্ন পরিবারে। সম্প্রতি তিনি ইৎড়হী (ব্রঙ্কস) আদালত পরিদর্শনকালে দেখতে পান সব নির্দেশনা কেবলই ইংরেজী লেখা। আর অনুবাদ সার্ভিস ও একেবারে প্রায় ভঙ্গুর (অসম্পূর্ণ)। ফলে অ-ইংরেজী ভাষাভাষী নিউইয়র্কাররা হাউজিং কোর্টে আসেন উচ্ছেদ বা ফোরক্লোজারের নোটিশ পেয়ে অথচ অনেক ইমিগ্রান্টই আদালতের ভাষা বোঝেন না। যে আদালত মানুষের সেবার উদ্দেশে গঠিত, সেই আদালত মানুষকে বিভ্রান্ত করলে সেখানে বিচার পাওয়া দুস্কর হয়ে ওঠে। আপনি ইংরেজী ভাষায় দক্ষ নন বলে বসতবাড়ি রক্ষার মামলায় হেরে যাবেন? তা হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের আদালত তাদের হতাশ করেছে। অনেকদিন ধরেই আমাদের আদালত অ-ইংরেজী ভাষী নিউইয়র্কারদের অবহেলা করে আসছে। আমি আশা করি হাউজিং আদালতে আমার সাথে সকলেই যোগ দেবেন যেনো আমরা আদালতে ন্যায়বিচার পেতে পারি। অচিরেই বাংলা ভাষায় কোর্টের নির্দেশনা ও মামলার রায়সহ যাবতীয় কার্যাদি হতে পারে সে প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করি।

eid holiday

মুসলমানদের দুই ঈদে স্কুল ছুটির ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র ডি ব্লাসিও

 

ঈদে ছুটি
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে নিউইয়র্কে মুসলমানদের বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটির দীর্ঘদিন একটি দাবি পূরন হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ব্রুকলিনের বে রিজের পিএস/আইএস-৩০ স্কুলে তিনি ও নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের চ্যান্সেলর কারম্যান ফারিনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্ক সিটির সকল পাবলিক স্কুলে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ছুটি ঘোষনা করেন। এই ঘোষনা আগামী ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা শতকরা প্রায় ১২ ভাগ। নিউইয়র্ক সিটি স্কুল বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের ১১ লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে এক লাখের মত মুসলমান।

এক বাংলাদেশির মৃত্যুদন্ড কার্যকর
লসএঞ্জেলেসের স্থানীয় সময় বুধবার (৩ মার্চ) ইফতেখার মোর্তজা (৩০) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০০৭ সালের ২১ মে মোর্তজা তার ভারতীয় বংশোদ্ভুত বান্ধবীর বাবা ও বোনকে হত্যা এবং বান্ধবীর মা-কে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ অভিযোগে আদালত তাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়। জানা যায়, লসএঞ্জেলেসের ভ্যাননাইসে বসবাসরত মোর্তজা ১৮ বছরের বান্ধবী শায়লা ধনকের সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক ওঠে। কিন্তু মেয়ের বাবা ধর্মীয় কারনে তাদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাবার চাপে সম্পর্ক ছিন্ন করলে মোর্তজা প্রতিহিংসায় উন্মাত্ত হয়ে ওঠে। বিচেছদের দু’মাস পর মোর্তজা তার প্রেমিকের এনাহেম হিলসের বাড়ীতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই আগুনে পুড়ে মারা যান প্রেমিকার বাবা এবং বোন। প্রেমিকার এক ভাই জয় প্রকাশ কৃষ্ণকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় নিকটস্থ সাইকেল ট্রেল পার্কে। আর মা লীলা ধনককে ছুরিকাহত অবস্থায় প্রতিবেশীর লনে পড়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে।

‘এইচ-১ বি’ ভিসা
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিভাগের (ইউএসসিআইএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সাধারনতঃ প্রযুক্তিসহ উচ্চতর দক্ষতা প্রয়োজন এমন খাতের কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে ‘এইচ-১ বি’ ভিসা পেয়ে থাকেন। আর তাদের স্বামী বা স্ত্রীরা পেয়ে থাকেন ‘এইচ-৪’ (স্বামী বা স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল বিবেচনায়) ভিসা। কিন্তু নির্ভরশীলদের আগে কাজের কোন সুযোগ ছিল না। এবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়া সংস্কারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সর্বশেষ নীতির আলোকে চলতি বছর প্রায় পৌনে দুইলাখ কর্মী বৈধভাবে কাজের সুযোগ পাবেন। পরবর্তী প্রতি বছরে আরও ৫৫ হাজার নতুন কর্মী এর আওতায় পড়বেন। এর ফলে বেশি সুফল পাবেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ভারতীয়রা। মার্কিন ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ‘এইচ-১ বি’ ভিসায় অবস্থানরতদের ৭৬ শতাংশই দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। এদের মধ্যে ভারতীয়ই বেশি।

মন্তব্য