দেশে ফিরে শহীদ মিনারে বসতে চেয়েছিলেন নভেরা

novera
আসিফুর রহমান সাগর ০৮ মে, ২০১৫
‘দেশে ফিরে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে একবার বসতে চেয়েছিলেন নভেরা আহমেদ। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। তাকে বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। অসুস্থ হয়ে পড়লেন।’ বলছিলেন স্বনামখ্যাত শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বুধবার রাতে প্যারিস থেকে দৈনিক ইত্তেফাককে ভাস্কর নভেরা আহমেদের মৃত্যু সংবাদটি তিনিই জানান। তখনই অভিমানী নভেরা আহমেদ প্রসঙ্গে অজানা অনেক কথা বলেন এই কীর্তিমান শিল্পী।
শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘একটা বিষয় জেনে খুব অবাক হয়েছি। আমার সঙ্গে মিল রয়েছে এ বিষয়টার। নভেরা আহমেদ বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করতেন। নভেরা আহমেদের অভিমান ছিল। বাংলাদেশী মানুষের সঙ্গে মিশতে চাইতেন না। দেখা করতে চাইতেন কম। দেশে যাবার ব্যাপারেও অনীহা ছিল। কিন্তু দেশকে ভালোবাসতেন প্রচন্ড। এতদিন ফ্রান্সে বসবাস করেছেন কিন্তু তিনি দেশটির নাগরিক হননি। একজন বাংলাদেশী হিসাবেই তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ফ্রান্সে বসবাস করেছেন। এই বিষয়টা আমাকে খুব খুব নাড়া দিয়েছে। দেশকে ভালো না বাসলে এটা করা যায় না। ভিন্ন রকমের তেজ লাগে।’
প্রবাসী এই শিল্পী আরও বলেন, নভেরা আহমেদ অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই হুইল চেয়ারে চেপেই কাটিয়েছেন। গত একটা বছর খুব খারাপ ছিল শরীর। তার রাশিয়ান বংশোদ্ভূত স্বামীর সঙ্গেই বাস করতেন। তার অনেক কথা, অনেক কিছু আমি ভিডিওতে ধারণ করেছি। বাংলাদেশের কথা বললে চোখের পানি ফেলতেন। কিন্তু আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে একটা দূরত্ব ছিল। একবার আমি এ বিষয়টি তুলতেই বলে উঠেছিলেন ‘শাট আপ’। সাংঘাতিক ‘পারসোনালিটি’ ছিল ওনার। অনেক দিন আগে নভেরা আহমেদের একবার গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল, তখন থেকেই পরিবারের লোকদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে শুনেছি। এরপর থেকে স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। সেই ভদ্রলোকই তার দেখাশোনা করেছেন।
শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম গত বছর। সব ব্যবস্থাও করে ফেলেছিলাম। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়লেন। গত একটা বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন। সেই অবস্থা আর কাটলো না। চলে গেলেন চিরতরে। যে বার একুশে পদক পেলেন সে বছরই নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, বাঙালি বলতে আমাদের পরিবারের চারজনের সঙ্গেই যোগযোগ ছিল। আমার স্ত্রী আনা ইসলামকে খুব পছন্দ করতেন। সপ্তাহখানেক আগে ফোন করে যেতে বলেছিলেন তার স্বামী। কিন্তু আনা গিয়ে আর কথা বলতে পারেননি।
দেশের আধুনিক ভাস্কর্যের অন্যতম পথিকৃত্, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম রূপকার একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী নভেরা আহমেদ গত মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ফ্রান্সে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। -ইত্তেফাক

মন্তব্য