সুস্থ দাঁতের নেই স্বাভাবিক মৃত্যু

dental
ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ : সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য সুস্থ ও অকৃত্রিম হাসির বিকল্প নেই। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রোগ হয় মুখের অভ্যন্তরে। উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন জরিপে দেখা যায় প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ তাদের জীবদ্দশায় কখনও না কখনও ডেন্টাল সমস্যায় ভোগেন।
আমাদের অবহেলা, উদাসিনতা, স্বচ্ছ জ্ঞানের অভাব, মনগড়া যুক্তিহীন ধারণা ইত্যাদি নানা কারণে আমাদের দাঁত ধ্বংস হয়। দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখতে কিন্তু খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। শুধু একটু সচেতনতা পারে আজীবন দাঁতকে সুস্থ রাখতে। চারটা বিষয় আমরা স্পষ্টভাবে বুঝলে ও মানলেই হয়তো ডেন্টাল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা
অধিকাংশ মানুষ এখন দাঁত ব্রাশ করে। কিন্তু ব্রাশের পদ্ধতিটা সঠিক হচ্ছে কিনা জানা প্রয়োজন। প্রতিটা দাঁতের ৫টি পৃষ্ঠ রয়েছে। ঠোঁট বা চোয়ালের দিকের পৃষ্ঠ, জিহ্বার দিকের পৃষ্ঠ, চর্বণে ব্যবহৃত পৃষ্ঠ আর দুই দাঁতের মধ্যবর্তী সামনে ও পেছনের পৃষ্ঠ। স্বভাবজনিত কারণে আমরা বেশিরভাগ সময় বাইরের পৃষ্ঠ আর চর্বণে ব্যবহৃত পৃষ্ঠকেই প্রাধান্য দেই।
প্রয়োজনে ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ মতো জেনে নিতে হবে ব্রাশের পদ্ধতি, জিহ্বা ও মাড়ির যতœ ব্রাশ ও পেস্টের ধরন। ফ্লস ব্যবহার ও প্রয়োজনে মাউথওয়াশ ব্যবহার পদ্ধতি। নিজের সুস্থতার জন্য নিজেকেই উৎসাহিত হতে হবে। মনগড়া পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার থেকে বিরত থাকতে হবে।
খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তন:
মিষ্টিজাতীয় খাদ্যের পরিবর্তে আমরা আঁশযুক্ত খাবার, ফলমূল সামুদ্রিক মাছ, টক দই, দুধ, ডিম ইত্যাদি খাবার তালিকায় রাখি। শিশুদের ভালোবেসে চকলেট, আইসক্রিম, কোমলপানীয় কম দেয়া উচিত। বয়স অনুযায়ী স্বাস্থ্যবান্ধব খাদ্য তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে দাঁতের অসুখের পেছনে খাদ্য অন্যতম কারণ। পান, জর্দা, ধূমপান পরিহার করতে হবে।
নিয়মিত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ
বিশ্বে বছরে অন্তত দুইবার ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য জোর দেয়া হয়। অনেকের জন্মগত বা অনিয়ন্ত্রিত কিছু সমস্যার কারণে ডেন্টাল সমস্যা তৈরি হয়। সেগুলো চিকিৎসকরা পর্যালোচনা করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেবেন। শুরুতেই দাঁতের রোগ শনাক্ত ও তার সঠিক চিকিৎসা আপনাকে সময়, অর্থনৈতিক, মানসিক, জটিলতা থেকে মুক্তি দেবে। -যুগান্তর

মন্তব্য