চোখ ভেসে যায় চোখের জলে

Monish

মনিস রফিক

আমার দুচোখ আমার চোখের জলে ঝাপসা হয়ে এলো। এ কী দেখছি! আমাদের হালকা-পাতলা কিছুটা ছটপট করে ছুটে বেড়ানো স্যার এমন উপুড় আর নিথর হয়ে মাটিতে পড়ে আছেন কেনো? শালবাগানের স্যারের বাড়ীর সামনের যে রাস্তাটার হালকা পিচঢালা যে পথটা স্যারের গলার ভেতরের গলগল হয়ে বের হওয়া রক্তে লাল হয়ে গেছে, সেই রাস্তার মুখের খোলা চায়ের দোকানে কতদিন বন্ধুরা মিলে চা খেয়েছি। কবিতা, দর্শন, সমাজ, ধর্ম আর রাজনীতি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা আড্ডায় সন্ধ্যা পার করেছি। সেই রাস্তায় আমার শিক্ষাগুরু এমন নিথর বীভৎস্যভাবে পড়ে আছেন কেনো? আমার চোখ আমার জলেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। কেমন করে একজন ছাত্র মেনে নিবে অসুরের হাতে কর্তিত তার প্রিয় শিক্ষকের ছিন্ন মস্তক। এ মৃত্যু উপত্যকা কেনো আমার দেশ হলো!

রাজশাহী স্টেডিয়াম থেকে উত্তর দিকে কিছুটা এগুলেই স্যারের বাড়ী, আর স্টেডিয়াম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে এগিয়ে নগর ভবন পেরুলেই আমার। আমি তখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যাইনি, রাজশাহী কলেজে এইচএসসি পড়ি। আর্টস এর ছাত্র হওয়ায় কলেজে পড়ার সময়ই ভেবে রেখেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়বো। বিষয় সাম্রাজ্যের যাবতীয় বিষয় নিয়ে মনে মনে এক ধরনের কল্পনার জগতে যখন থাকতে শুরু করেছি, তখনই প্রথম দেখেছিলাম অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্যারকে। ছোট খাটো হালকা পাতলা চিকন করে মোচ কামানো সিদ্দিকী স্যার। প্রথম দেখায় মনেই হয়নি তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কিন্তু তারপরো তখন থেকেই মনে মনে তাঁকে সমীহ করা শুরু করি, পথে ঘাটে চলার পথে যেখানেই দেখা হতো আলতো করে মাথা নামিয়ে একটা সালাম দিই। প্রতি সালামেই স্যারকে দেখতাম কিছুটা বিস্ময় নিয়ে আমার দিকে তাকাতেন। বিষয়টা আমি কিছুটা অনুধাবন করে নিজে নিজেই বিড়বিড় করে বলতাম, স্যার আমি আপনার ছাত্র নই, তবে খুব শীঘ্রই আপনার ছাত্র হয়ে যাবো।

monis3

অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী

স্যার তাঁর লম্বা সুজুকি মোটর সাইকেল চালাতেন। আর আমরা একটা হোন্ডায় গো গো করে রাজশাহী শহর চোষে বেড়াতাম। ১৯৮৭ সালে ডিপার্টমেন্টের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আমাদের বরণ করা হলে, হাতে ধরা নবীনবরণের ফুলটা নিয়েই স্যারের সামনে গিয়ে আলতো করে সালাম দিয়েছিলাম। আমার সালাম পেয়ে স্যার আমার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে বললেন, “তোমাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে? ও চিনতে পেরেছি, গো গো করে হোন্ডা চালাতে তোমাকে দেখেছি আর দেখেছি জায়গাই জায়গাই আড্ডা মারতে। ভালো, ইংরেজিতে ভর্তি হয়েছো, ভালো। কিন্তু মনে রেখো, আর যাই করো ঠিকমত পড়াশুনা করবে, নাহলে কিন্তু পাশ করা কঠিন হয়ে পরবে।”

স্যারের সাথে প্রথম পরিচয়েই তিনি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, আমি আর যাই করি, পড়াশুনাটা যেনো মাথায় রাখি। স্যারের প্রথম উপদেশটা আমার কেনো যেনো ভালোই লেগেছিল। সবুজের মত মন নিয়ে তখন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছি, মনে মনেই তখন ঠিক করে ফেলেছি, ছাত্রায়ানং অধ্যায়নং তপঃ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকা মানে সবুজ কিশোর থেকে লাল যুবকে পরিণত হওয়া। অধ্যয়নের গভীর তপস্যা আস্তে আস্তে হালকা হতে থাকলো। দুকলম ইংরেজি জানা আমরা হঠাৎ ক্লাসে গিয়ে সেক্সপীয়ার, স্পেন্সার, মার্লো, মিল্টন, জন ডান পড়ছি, পাঁচশ বছরের ইংরেজি হরফ মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু সবকিছুই কানের এ পাশ থেকে ওপাশ দিয়ে চলে যায়। ইংরেজি সাহিত্যের আনন্দ নদীতে যখন কিছুটা নিরানন্দের স্রোত বইতে শুরু করেছে সেই সময় আমরা কম মনোযোগী কয়েকজন কিছুটা হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম সিদ্দিকী স্যারের সংস্পর্শে এসে।

আমরা তখন খেলা পাগল। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল – সবটায় খেলি, একেবারে মাঝারি ধরনের। ক্যাম্পাসের নতুন জীবন, মনে মনে নায়কোচিত আবেগ। ডিপার্টমেন্টে কিছুটা হৈ চৈ ফেলার বাসনা। অতএব কি করা যায়, আমরা কজন ডিপার্টমেন্টকে খেলাধূলায় এগিয়ে নেবার ব্রতে নেমে পড়লাম। খেলাধূলার কথা শুনে বিভাগের অন্যান্য স্যাররা যখন আমাদের দিকে আড় চোখে তাকাতেন, এমন কি কয়েকজন স্যার বলেই ফেললেন, ‘এত যখন খেলাধূলার শখ তখন অন্য বিষয়ে পড়লেই তো পারতে।’  ইংরেজীতে পড়তে এসে আসলে আমরা কেউ খেলোয়াড় হতে চাইনি, শুধু একটু খেলোয়াড়োচিত হৈ চৈ করতে চেয়েছিলাম। আমাদের এই কাজে আমরা একমাত্র পেয়েছিলাম সিদ্দিকী স্যারকে। তিনি আমাদের জোর গলায় বলেছিলেন, “খেলাধূলার সাথে ক্লাসের লেখাপড়ার কোনো সংঘাত থাকতে পারে না, এই যে আমি ছোটবেলা থেকে এখনো নিয়মিত খেলাধূলা করে যাচ্ছি, তাই বলে কি আমি পড়াশুনায় পিছিয়ে আছি? আমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষক হইনি?”

monis2

১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ক্রিকেট দল। মাঝে প্রফেসর রেজাউল করিম সিদ্দিকী। দাঁড়ানো বাম থেকে দ্বিতীয় মনিস রফিক

স্যারের এমন সব কথা শুনে আমরা নিজেরা মনে মনে তালি দিতাম। আর আমরা কয়েকজন এক ধরনের মনে মনে শপথ নিয়ে ফেললাম, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগীয় খেলায় অন্যান্য সব বিভাগের কাছে ইংরেজি বিভাগের বারবার হেরে যাওয়ার যে কলঙ্কজনক ইতিহাস আছে তা আমরা ঘুচিয়ে দিবো। সিদ্দিকী স্যার আমাদের কয়েকজনের এমন অদম্য মনোভাব দেখে নিজেই নিজেই এক ধরনের সুখ আনন্দে উচ্ছসিত হয়েছিলেন। ক্লাস শেষে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিসের সময় তাই তিনি প্রতিদিনই হাজির হতেন, আর প্রায় প্রতিদিনই তিনি আমাদের সাথে আমাদের খেলার কৌশল নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য মিটিং করতেন। আমাদের পড়ুয়া বন্ধুরা আমাদের এমন কর্মকান্ডে শুধু মুখ টিপে হেসে চলতো।

আমরা কজন স্যারের সম্মান রেখেছিলাম। ইংরেজী বিভাগ পূর্বের হারু পার্টির কলঙ্ক ঘুচিয়ে ফুটবল আর ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি বিভাগকে হারিয়ে তখন খেলোয়াড়-নিশানা উড়িয়ে আমরা আকাশে উড়ছিলাম। আর অন্যদিকে সিদ্দিকী স্যার আমাদের জন্য খেলাধূলার সরঞ্জাম কেনা আর আমাদের খেলা চলাকালীন খানাপিনার জন্য বিভাগের তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সংস্থান করে যাচ্ছিলেন।

তখন আমরা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সিদ্দিকী স্যার আমাদের পড়াতেন রবার্ট ব্রাউনিং এর কবিতা। এখানেও তিনি আমাদের আরো বেশী প্রিয় হয়ে গেলেন একটা বিশেষ কবিতার জন্য। ‘দ্য লাস্ট রাইড টুগেদার’। কবিতাটা আমাদের মত মানবী প্রেম বঞ্চিত যুবকদের অন্যরকম প্রিয় হয়ে গিয়েছিল। স্যার অদ্ভুতভাবে কবিতাটা আমাদের সামনে উপস্থাপন করতেন। কিছুটা আবেগী হয়ে স্যার যখন সেই প্রেম না পাওয়া যুবকের তার প্রিয়ার সাথে শেষ একবার পাশাপাশি ঘোড়ায় চড়ার আকুতি-আবদনের বর্ণনা দিতেন তখন আমাদের মনে হতো আমাদের সিদ্দিকী স্যার ছাড়া আর অন্যকেউ এই কবিতার গূঢ় অর্থ এমনভাবে তুলে ধরতে পারবেন না। অথবা তিনি যখন যোশেফ কনরাডের ‘হার্ট অব ডার্কনেস’ পড়াতেন তখন আমরা মুগ্ধ হয়ে তাঁর দিকে চেয়ে থাকতাম। বারবার আমরা  নড়েচড়ে বসতাম স্যারের ক্লাসের প্রতিটি শব্দ যেন আমরা আমাদের মস্তিস্কের নিউরণে স্থায়ীভাবে গেঁথে নিতে পারি।

স্বচ্ছ আলোর হ্রদয়ের আমাদের রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্যার মানুষের হ্রদয়ের অন্ধকার দূর করতে চাইতেন। তাঁর এই চাওয়া গলাবাজি করে নয়, বরং ভালোবাসা দিয়ে, সত্যিকারের কাজ করে। সেই কারণেই মগ্ন হয়ে আপন সেতারের সুরে তিনি ডুবে থাকতে পারতেন। সত্যিকারের সংগীত একজন শিশুকে একজন সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে – পরম মনে প্রাণে তিনি এটা বিশ্বাস করতেন। আর সেইজন্যই নিজের অর্থে নিজ গ্রামের ছোট ছোট শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন মিউজিক একাডেমী। সেইসাথে নিজের ছাত্রছাত্রী নিয়ে বের করতেন ‘কোমলগান্ধার’ পত্রিকা।

২০১২তে ইংরেজী বিভাগের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্রের কাজ করছিলাম। ১৯৫৫ সালের এই বিভাগের যাত্রার পর থেকে সেই পর্যন্ত  প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সেই প্রামাণ্যচিত্রে তুলে আনা হবে। যখন সেই সব অজানা -দূর্লভ তথ্যাদির সন্ধান  করে বেড়াচ্ছি, তখন আমার আরেক শিক্ষক বলেছিলেন, ‘এই ব্যাপারে তুমি সিদ্দিকীর সাহায্য নিতে পারো।’ স্যারের সাথে যোগাযোগ করে অনেক প্রয়োজনীয় তথ্যাদির সন্ধান আমি পেয়েছিলাম। নিজের প্রাণের তাগিদেই তিনি ইতিহাস-মূল্য আছে এমন কিছু তিনি তাঁর সেই ছাত্রজীবন থেকেই সংরক্ষণ করে বেড়াতেন।

২০১৩ সালের জুন মাসে কানাডায় আসার পূর্বে মার্চ মাসে বিভাগের পূনর্মিলনীতে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের দক্ষিণ দিকে সেই আঠার-বিশ বছর আগে হারানো বন্ধুদের সাথে জটলা করছিলাম। হঠাত দেখলাম, সিদ্দিকী স্যার আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন। তিনি আমার একেবারে কাছে এসে থামলেন। তারপর আমার দিকে মুখ তুলে হাসতে হাসতে বললেন, ‘শুনলাম, তুমি এখন সবকিছু ছেড়ে দিয়ে চলচ্চিত্র নিয়ে মেতেছো।’ কিছুক্ষণ থেমে তিনি আবার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ভালোই করেছো।’ স্যারকে পেয়ে আমরা সবাই তাঁকে ঘিরে ধরলাম। দীর্ঘ স্মৃতি, দীর্ঘ সময় – স্যারের সাথে আমাদের কথা আর শেষ হয় না। স্যার যখন আমাদের দলের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন তিনি আবার আমার সামনে আসলেন, তারপর আবার সেই আগের মত আমার দিকে মুখ তুলে বললেন, ‘শুনো, আমি একটি ছবি বানাতে চাই। আর এ ব্যাপারে তুমি আমাকে সাহায্য করবে।’ আমি জানতে চাইলাম, কি ছবি স্যার? তিনি বললেন, ‘জলসাঘর’। স্যারের কথা শুনে আমি কিছুক্ষণের জন্য নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মনোজগতে জলসাঘর মানে সত্যজিৎ রায় আর ছবি বিশ্বাস আর সেই রাজবাড়ীর অপূর্ব আলো ছায়ার খেলা। আমি হয়তো বলতে চাচ্ছিলাম, ও ছবি বানানোর চিন্তাটা না করাই ভালো। কথাগুলো স্যারকে বলার আগেই তিনি বলে উঠলেন, ‘আমার জলসাঘর বানানোর কথা শুনে কি চমকে উঠলে? শুনো, সত্যজিৎ রায় তাঁর মত করে ওটা বানিয়েছেন আর আমি বানাবো আমার মত। আমার ছবিটা হবে ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিটের। জলসাঘর বানানোর মত একটা জমিদার বাড়ীর আমি পেয়েছি।’

স্যার তাঁর মত করে ‘জলসাঘর’ বানাতে চেয়েছিলেন। কারণ তিনি ‘জলসাঘর’ এর প্রাণজ সুর ধারণ করতেন আর এই সুর ধারণ করতেন বলেই মগ্ন হয়ে সেতার বাজাতে পারতেন, গ্রামের শিশুদের জন্য নিজের খরচে মিউজিক একাডেমী গড়ে তুলেছিলেন আর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কোমলগান্ধার বের করতেন।

মানুষের মনের অন্ধকার ঘুচানো আমার কোমল হ্রদয়ের সিদ্দিকী স্যারের নিথর দেহটা পড়ে আছে পদ্মা পাড়ের শালবাগানের হালকা পিচ ঢালা রাস্তার ওপর। পেছন থেকে ঘাতকের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে দেহ থেকে প্রায় ছিন্ন মস্তকের নীচ দিয়ে গলগল করে বের হওয়া লাল রক্তে ভিজে গেছে তাঁর দেহের চারপাশ। অন্টারিও লেকের স্বচ্ছ পানির পাশে বসে আমি দেখি গোটা পদ্মার পানি স্যারের রক্তে লাল হয়ে গেছে। পৃথিবীর কোন কুৎসিত জানোয়ার এ কাজ করলো? এমন কোমল প্রাণের এক মানুষকে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন করলো? স্যারের সাথেতো কখনো কারো ঝগড়া বিবাদ হয়নি, স্যারের কাছেতো কখনো কেউ টাকা পেতো না বা স্যারতো কখনো কারো জায়গা-জমি ভোগ দখল করেননি। তবুও কেনো এত রক্ত, কেনো এমন বীভৎস চলে যাওয়া!

উগ্রবাদী এক মুসলিম জংগী দল এ মৃত্যুর দায় স্বীকার করেছে আর স্যারের মৃত্যুর ধরণ দেখেও মনে হয় এ মৃত্যুর পেছনে আছে এক কুৎসিত দানবগোষ্ঠী যারা ধর্মের নামে ধ্বংস করতে চায় মানুষের মননশীলতা আর সৌন্দর্যকে। শিক্ষাগুরুর কর্তিত রক্তাত্ত দেহ দেখে আমার মত বিবাদ বিমুখ এক মানুষও কেমন যেন ক্রোধের আগুনে জ্বলে উঠি। মনে হয় পথে নেমে  পড়ে খুনিদের খুঁজে বের করে নিজ হাতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলি তাদের ধর্মান্ধ হাত, চোখ, নাক আর মুন্ডূ।

কিন্তু পরক্ষণেই সিদ্দিকী স্যারের মুখের শিশুসুলভ হাসির কথা ভেবে থেমে যাই। তিনি কোনো এক ক্লাসে বলেছিলেন, ‘ঘাতকরা কেনো একবারো ভাবে না তারা যাকে খুন করবে বলে অস্ত্র তুলে আসলে তারা শুধু সেই এক ব্যক্তি মানুষকে খুন করে না বরং তার সাথে খুন করে আশে পাশের অসংখ্য জনের এক জগতকে। সেই কারণে কোনো খুনীকেও খুন করা উচিৎ নয়।’ যে সুন্দর মানুষটা এমন সুন্দর আর মানবতার কথা বলতে পারে তাঁকে কিভাবে কেউ খুন করতে পারে?! খুনীরা কেন একবারো ভাবলো না তাদের অসাড় অন্ধ বেহেশতী ধর্ম চিন্তা কতজন সুন্দর শান্তিপ্রিয় মানুষের চোখ জলের স্রোতে বইয়ে দিচ্ছে বারবার।

- মনিস রফিক, টরন্টো

মন্তব্য