কানাডায় ব্যাপক সংখ্যক ইমিগ্রেন্ট ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী নিয়েছেন কানাডার বাইরে থেকে

degree

চাকরী পাওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষিত এই ইমিগ্রেন্টদের বেলায় রয়েছে নানান প্রতিবন্ধকতা

কে. বি-ভোকস :  কানাডায় উচ্চ শিক্ষিত ইমিগ্রেন্টদের ব্যাপক অংশই ইউনিভর্সিটি ডিগ্রী নিয়েছেন কানাডায় আসার আগে। স্ট্যাটিসটিক্স কানডার সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

২০০০ সালের পর থেকে এই চিত্র পাল্টাতে থাকে দ্রুত। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে ২০১১ সালে শতকরা পঁচাত্তর ভাগ ইমিগ্রেন্ট তাদের ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী নিয়েছেন অন্য দেশ থেকে আর শতকরা ২৫% ভাগ ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী নিয়েছেন কানাডা থেকে। যারা কানাডায় আসার আগেই ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী নিয়েছেন তাদের মধ্য শতকরা ৬৪% জন নিজ নিজ দেশের ইউনিভার্সিটি থেকেই ডিগ্রী নিয়েছেন। নিজ দেশের বাইরে গিয়ে (কানাডা ছাড়া) ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী নিয়েছেন এমন ইমিগ্রেন্টের সংখ্যা শতকরা ১১% ।

২০০০ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তীতে কানাডায় ১.৩ মিলিয়ন উচ্চশিক্ষিত ইমিগ্রেন্ট প্রবেশ করেছেন যাদের বয়স ২৫ থেকে ৬৪। এদের মধ্যে ৮৩% ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী অর্জন করেছেন কানাডার বাইরে থেকে। আর কানাডা থেকে ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী অর্জন করেছেন ১৭%।

এদের মধ্যে যারা ফিলিপিনস এসেছেন থেকে তাদের মধ্যে নিজ দেশ থেকেই ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী অর্জন করেছেন শতকরা ৯৫ জন। তবে যারা চীন ও ইরান থেকে এসেছেন তাদের মধ্যে দেখা গেছে অধিকাংশই (৬৮%) অন্য দেশ থেকে (কানাডা ছাড়া) ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

২০১১ সালের ন্যাশনাল হাউজহোল্ড সার্ভে অনুযায়ী দেখা যায় কানাডায় মোট জনসংখ্যার মধ্যে ইমিগ্রেন্টদের সংখ্যা ২১%। এদের মধ্যে যারা ২০০১ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কানাডায় প্রবেশ করেছেন তাদের মধ্যে ৪১% লোকের ব্যচেলর ডিগ্রী বা আরো উচ্চতর ডিগ্রী রয়েছে। কিন্তু তা সত্বেও এই উচ্চ শিক্ষিত ইমিগ্রেন্টদের মধ্যে কানাডায় জন্ম নেয়া লোকদের তুলনায় চাকরী পাওয়ার হার কম। অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষিত এই  ইমিগ্রেন্টদের মধ্যে যারা চাকরী পান, দেখা গেছে তাদের অনেকেই ওভারকোয়ালিফাইড। অর্থাৎ তারা যে চাকরী করছেন সে চাকরীতে যে যোগ্যতা লাগে তার চেয়ে অনেক উঁচুতে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা।  আরো যে বিষয়টি লক্ষনীয় তা হলো, উচ্চ শিক্ষিত এই ইমিগ্রেন্টরা সাধারণত যে সব কাজ করছেন তা তাদের নিজ নিজ ফিল্ডের নয়। অর্থাৎ যে বিষয়ে তারা উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন সে বিষয়ে তারা চাকরী পাচ্ছেন না।

স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার রিপোর্টে দেখা গেছে ইমিগ্রেন্টরা কোন দেশ থেকে এসেছেন সেটার উপরও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পার্থক্য বা তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। আরো যে বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে তা হলো, এই ইমিগ্রেন্টদের অনেকেই ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী নিয়েছেন তাদের নিজ দেশের বাইরে থেকে।

কানাডায় আসার আগে নিজ দেশ বা অন্য কোন দেশ থেকে থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন এমন ইমিগ্রেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আছেন ফিলিপিনোরা। এর পরের অবস্থানে আছেন ফরাসীরা। চাইনিজদের অস্থান তৃতীয়।

স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার বিশ্লেষক ও এই রিপোর্টটির রচয়িতাদের একজন ডার্সি হ্যাঙ্গো বলেন, স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার পূর্বেকার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায় উচ্চশিক্ষিত ইমিগ্রেন্টদের এই অঞ্চল ভিত্তিক তথ্য কানাডার লেবার মার্কেটের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি আরো বলেন, কোন কোন অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষিত এই ইমিগ্রেন্টদের ক্রিডেনন্সিয়াল কখনো কখনো দেখা যায় ট্রান্সফারএবল হয় না। অথবা কানাডীয় ডিগ্রির সঙ্গে তুলনীয় হয় না।

টরন্টো ইমিগ্রেন্ট এমপ্লয়মেন্ট ডাটা ইনিশিয়েটিভ ২০১০ এর তথ্য মতে দেখা যায় উচ্চ শিক্ষিত এই ইমিগ্রেন্টদের মধ্যে আনএমপ্লয়মেন্ট এর হার কানাডায় জন্মগ্রহণকারী দের তুলনায় দ্বিগুণ।

রায়ারসন ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স এর অধ্যাপক জন শিল্ড বলেন, কর্মক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষিত ইমিগ্রেন্টদের মধ্যে ভাল করার যথাসাধ্য চেষ্টা থাকে, এবং তারা কানাডায় বেড়ে উঠা ও কানাডীয় ডিগ্রীধারীদের মতোই হতে চায় কারণ, চাকরীদাতারা ঐ কানাডীয় ডিগ্রীধারীদেরকেই বিশেষ ভাবে পছন্দ করে থাকে।

জন শিল্ড আরো বলেন, ইমিগ্রেন্টদের কেউ যদি বৃটেন বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসে তবে তার ডিগ্রী কানাডায় সমমানের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। কিন্তু যদি সেই ডিগ্রী কোন উন্নয়নশীল দেশের ইউনিভার্সিটি থেকে নেয়া হয়ে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে সমমানের স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। বরং সেই ডিগ্রীকে অবমূল্যায়ন করা হয়।

জন শিল্ড এর মতে, কানাডায় প্রফেশনাল চাকরী পাওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষিত এই ইমিগ্রেন্টদের বেলায় নানান প্রতিবন্ধকতা লক্ষ্য করা যায় যার মধ্যে আছে ভাষা সমস্যা, কম্পিউটার জ্ঞানের স্বল্পতা, প্রফেশনাল ট্রেড সার্টিফিকেশনের অভাব ইত্যাদি।

-কে. বি-ভোকস, এপোক টাইমস।

মন্তব্য