কানাডায় বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীর আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে কানাডায় বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ছবি : সেন্টিনিয়াল কলেজ ওয়েবসাইট

কানাডার ইউনিভার্সিটি ও কলেজগুলোতে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ছবি : সেন্টিনিয়াল কলেজ ওয়েবসাইট

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক : কানাডার ইউনিভার্সিটি ও কলেজগুলোতে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার তথ্যমতে গত ২০১৩-২০১৪ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল ২.৫%। এই সময়ের মধ্য যারা কানাডায় লেখা পড়া করতে এসেছেন তাদের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ ভর্তি হয়েছেন পোস্ট সেকেন্ডারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

আর বেশীর ভাগ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে অন্টারিও, কুইবেক এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ইউনিভার্সিটি ও কলেজগুলোতে। বাইরে থেকে আসা এই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বেশীরভাগই আবার এশিয়া মহাদেশের এবং এদের মধ্যে চীনা ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। উল্লেখ্য যে, কানাডার এই তিনটি প্রভিন্সেই ইমিগ্রেন্টদের সংখ্যা সর্বাধিক। খবর আই-পলিটিক্স এর।

ইউনিভারসিটি অব নিউ ব্রান্সউইক এর বিজনেজ ডিপার্টমেন্টে এর ডিন অধ্যাপক ফজলে সিদ্দিক বলেন, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো কর্তৃক বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী খুঁজার পিছনে কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে একটি কারণ হলো, স্থানীয় যোগ্য ছাত্র-ছাত্রীর অভাব। কানাডায় জন্মহার কম হওয়াতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিভার্সিটি ও কলেজগুলোর একটি টার্গেট থাকে প্রতিবছর তারা কতজন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করবে। কিন্তু যখন ঐ টার্গেট পূরণ না হয় তখনই তারা বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীর দিকে ঝুঁকে। অধ্যাপক সিদ্দিক বলেন, কমিউনিটি কলেজগুলোও বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। তবে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা রেভিনিওর একটা ভাল সোর্সও কানাডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।

স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার এক হিসাবে দেখা যায় ২০১৪-২০১৫ সালের মধ্যে যে সকল আন্ডারগ্রাজুয়েট ছাত্র-ছাত্রী কানাডায় পড়তে এসেছেন তারা গড়ে ২০,৪৭৭ ডলার টিউশনি ফি প্রদান করেছেন। অন্যদিকে কানাডিয়ান ছাত্র-ছাত্রীরা ঐ সময়ের মধ্যে গড়ে ৫,৯৫৯ ডলার টিউশন ফি প্রদান করেছেন। অর্থাৎ বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা গড়ে তিন গুনেরও বেশী টিউশন ফি প্রদান করে থাকেন কানাডিয়ান ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায়। অথচ এদের জন্য আলাদা শিক্ষক বা সময় ব্যয় করতে হয় না।

কানাডিয়ান এসোশিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি টিচার্স এর নির্বাহী পরিচালক ডেভিড রবিনসন বলেন, অনেক প্রভিন্সে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য টিউশন ফি এর যে আইন রয়েছে তা শিথিল করা হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে কলেজ বা ইউনিভার্সিটির উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা তাদের সুবিধামত টিউশন ফি কমিয়ে বা বাড়িয়ে নিতে পারেন। চাইলে আকাশচুম্বী টিউশন ফি নির্ধারণ করে নিতে পারেন বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য।

রবিনসন বলেন, বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা ডাইভার্সিটি এনে থাকেন মূলধারায়, কিন্তু তাদেরকে সে ভাবে মূল্যায়ন করার চেয়ে বেশী মূল্যায়ন করা হয় তারা সাথে করে যে অর্থ এনে থাকে তা দিয়ে।

তবে অধ্যাপক সিদ্দিক বলেন কানাডার জন্য বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা এখন অপরিহার্য। তাদের ছাড়া কানাডার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে আটলান্টিক কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়বে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান হারে সরকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং পাশাপাশি তাদের খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে অন্য এক তথ্যে দেখা যায়, কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই যে শুধু বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা  অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছে তা নয়, কানাডার জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হচ্ছে। কানাডিয়ান ব্যুরো ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট জানায় ২০১৪ সালে এই বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা কানাডার জাতীয় অর্থনীতিতে ৮ বিলিয়ন ডলার সন্নিবেশ ঘটিয়েছে।

কানাডিয়ান এসোশিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি টিচার্স এর নির্বাহী পরিচালক ডেভিড রবিনসন বলেন কানাডায় বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য টিউশন ফি বেশী হলেও তারা তা দিতে প্রস্তুত। কারণ, নর্থ আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি তাদের নিজ নিজ দেশে বেশ মর্যাদাপূর্ণ।

বর্তমানে চীন এবং ভারতে কানাডীয় ডিগ্রির বেশ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সে চাহিদা পুরোপুরি মিটাতে পারছে না। ফলে অনেক বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীই অন্য দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

মন্তব্য