শরণার্থীদের জন্য দরজা উন্ম্ক্তু করার ঘোষণা দিলেন ট্রুডো

 

টরন্টো পিয়ারসন এয়ারপোর্টে একটি সিরিয়ান উদ্বাস্তু পরিবারকে স্বাগত জানাচেছন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: রয়টার

টরন্টো পিয়ারসন এয়ারপোর্টে একটি সিরিয়ান উদ্বাস্তু পরিবারকে স্বাগত জানাচেছন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: রয়টার

এম এ আলআমিন : ইউরোপের দেশে দেশে যখন শরণার্থীদের জন্য দরজা শক্ত করে এঁটে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে কানাডা তখন তাদের জন্য দুয়ার উন্মুক্ত রাখার কথা জানিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ২০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে বলেন, যদিও শরণার্থী ইস্যুটি বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা তথাপি তার দেশ আরো শরণার্থী গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত আছে। তার এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী বিল গেটস।

সম্প্রতি ইউরোপ ও আমেরিকায় বিবিধ সহিংস হামলা পশ্চিমা দেশগুলোকে শরণার্থী বিরোধী করে তুলেছে। ইউরোপের অনেক দেশ এখন শরণার্থী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নানারকম কড়াকড়ি আরোপ করছে। অনেক দেশ তাদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তো শরণার্থী  বিদ্বেষ পুঁজি করে সগৌরবে এগিয়ে চলেছেন। এমন এক সময় শরণার্থীদের আশার বাণী শোনালেন জাস্টিন ট্রুডো। তিনি শরণার্থীদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত রাখবেন বলে সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে উল্লেখ করেছেন। তার এই ভাষণ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে আসা নেতৃবৃন্দ যেমন সাধুবাদ জানিয়েছেন তেমনি তার এই মনোভাবের প্রশংসা করেছেন বিল গেটস। সমাজ হিতৈষী ব্যবসায়ী নেতা ও স্বনামখ্যাত কম্পিউটার ব্যক্তিত্ব গেটস একে একটি ‘আলোকিত’ উদ্যোগ বলে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন এই পদক্ষেপ কানাডার ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ট্রুডো যেদিন ভাষণটি দেন সেদিনই ভ্যাঙ্কুভারে একটি কর্মশালায় যোগ দেন গেটস। এমার্জিং কাসকেডিয়া ইনোভেশন শীর্ষক ওই কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এক্ষেত্রে কানাডার অবস্থান ইতিবাচক। এদেশে অনেক ভালো ভালো ইউনিভার্সিটি আছে। সরকারও একটি ভালো নীতি গ্রহণ করেছে।

শরণার্থীদের বিষয়ে মুক্ত ও উদারনীতি গ্রহণ করেছে কানাডা। দেশটিতে গত ডিসেম্বর থেকে এপর্যন্ত অন্তুত ৩০ হাজার সিরীয় শরণার্থী এসেছে। বেশিরভাগ শরণার্থীর আগমন ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিক্ষুব্ধ অঞ্চলগুলো থেকে। বিল গেটস জাস্টিন ট্রুডো সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি এমন একজন নেতা যিনি একথা স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, উদার দৃষ্টিভঙ্গী এবং মানুষকে গ্রহণ করার মানসিকতাই হলো প্রকৃষ্ট পন্থা।’ এছাড়াও গেটস শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতের মতো ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

কানাডায় মাইক্রোসফটসহ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রচুর সংখ্যক অভিবাসী কাজ করছেন। সাধারণ পরিষদে দেয়া ওই ভাষণে ট্রুডো বলেন, শরণার্থীরা আসলে বোঝা নয় বরং তারা সম্পদ। তার দেশের জনগণের দক্ষতার কথা উল্লে­খ করে বলেন যে তিনি জানেন কানাডীয়রা কি চিন্তা করে। তিনি বলেন, ‘যদি আপনি সফল হতে চান বা ইতিহাস গড়তে চান তবে আপনার দরকার হবে মানুষ। বৈচিত্র্যের মধ্যেই যে শক্তি, দুর্বলতা নয় এটি কানাডার জনগণ জানে। তাই এখানে সবাইকে নিয়ে গড়ে উঠেছে শান্তিপূর্ণ সমাজ।’ শরণার্থী ইস্যুটি যে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কিছু সমস্যা তৈরি করেছে সেকথা স্বীকার করে নিয়েই ট্রুডো বলেন, ‘কানাডা অন্তত একটি বিষয়ে সঠিক পথে রয়েছে তা হলো বৈচিত্র্যকে ধারণ করা।’ কারণ বর্তমানে যুগের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অনস্বীকার্য। ট্রুডো বলেন, ‘কানাডা একা বিশ্বের সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। তবে আমরা আমাদের সাধ্যে যতটুকু কুলোয় তা আমরা করে যাবো।’ ৪৪ বছর বয়সী কানাডার ২৩তম প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো স্বীকার করেন যে তার দেশ আদিবাসী ইস্যু সামাল দিতে গিয়ে যেসব ভুল করেছে তার সরকার মনে করে এ থেকে অনেক শিক্ষণীয় রয়েছে। তিনি একই সঙ্গে ট্রাম্পের মতো আতঙ্কবাজদের বিষয়ও সতর্ক করে দেন। তিনি আতঙ্ক সৃষ্টি করা ও দোষারপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহবান জনান। তিনি বলেন, ‘একথা ঠিক যে শরণার্থীর জন্য সমস্যা যে তৈরি হচ্ছে না তা নয়, তবে এক্ষেত্রে বিকল্প কি হতে পারে-আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া? কেবল ধর্ম-বর্ণ বা জাতিগত পার্থক্যের জন্য আমরা যদি বিভাজনের পথে চলি তার পরিণাম শুভ হতে পারে না।’ ট্রুডোর ভাষণ দেয়ার সময় উপস্থিত শ্রোতৃমন্ডলীর কাছ থেকে যে সাড়া পান সম্মেলনে যোগদানকারী আর কোনো নেতার ভাষণের সময় সেরকম দেখা যায়নি। – সূত্র : ইত্তেফাক

মন্তব্য