সেলুলয়েডের মাতাল কবি ঋত্বিক ঘটককে যেদিন খুঁজে পেলাম

(বাংলা চলচ্চিত্রের মহান নির্মাতা ঋত্ত্বিক ঘটক ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিচালিত ‘নাগরিক’, ‘অযান্ত্রিক’, ‘কোমলগান্ধার’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘সুবর্ণরেখা’ ও ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ বাংলা চলচ্চিত্রকে এক সম্মানজনক স্থানে নিয়ে গেছে। ভারত উপমহাদেশের সৃষ্টিশীল ও জীবনধর্মী চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঋত্ত্বিক ঘটক একটি অতি সুপরিচিত ও সম্মানজনক নাম। তাঁর ৯১তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।)

Monish

মনিস রফিক

সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিলো। কিছুটা জোরে, বলা যেতে পারে মুষলধারে। মার্চ মাসে সাধারণত  সকাল বেলায় এমন বৃষ্টি হয় না। আমাকে কলেজগেটে যেতে হবে। বাংলাদেশ ফিল্ম  আর্কাইভে। ফিল্ম এ্যপ্রিসিয়েশন কোর্সে বেশ কিছু দিন ধরে ক্লাস করছি। সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত টানা ক্লাস চলবে। সকাল দশটা  থেকে দুপুর একটা, তারপর এক ঘন্টা বিরতি। আবার দুইটা থেকে পাঁচটা এবং আধঘন্টা বিরতির পর রাত আটটা পর্যন্ত কোন  একটা ধ্রুপদী চলচ্চিত্র দেখা। বেশ ভালোই লাগে।

সঙ্গে ছাতা না থাকায় বৃষ্টিতে এক রকম কাকভেজা হয়ে শাহবাগ থেকে যখন মোহাম্মদপুরের কলেজগেটে পৌঁছলাম তখন ঘড়ির কাঁটা  দশটা পেরিয়ে গেছে। ক্লাসের বাইরে থেকে মৃদু কণ্ঠের স্বরে ভেসে আসা সামটাইমস্ এ্য পোয়েম বিকামস্  এ্য  ফিল্ম বাক্যটি আমার কানে বিঁধলো। কিছুটা চমকিয়েই গেলাম। আমারতো কখনো মনে হয়নি একটা কবিতা কখনো চলচ্চিত্র হতে পারে।

মাথা নিচু করে ক্লাসের পেছনের সারিতে বসলাম। যিনি ক্লাস নিচ্ছিলেন তাঁর কবিতা আমি পড়েছি, পত্রিকায় তাঁর বহুবার ছবি দেখেছি আর আমি যেই শহরে জন্মেছি এবং  বেড়ে ওঠেছি, সেই শহরের ষাট দশকের ছাত্র রাজনীতি  নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর নাম অসংখ্য জনের কাছে শুনেছি। আমি লক্ষ্য করেছি, ষাট-সত্তরের দশকের রাজশাহীর ছাত্র নেতারা  যখন তাঁর নাম উচ্চারণ করতেন তখন সবারই প্রাণের শ্রদ্ধা তাঁর প্রতি উপচিয়ে পড়তো। মনে হতো তাঁরা সবাই তাঁদের নায়ককে স্মরণ করছেন  যাঁর শৌর্য-বীরত্ব  সত্যিই অন্যদের তাঁর প্রতি মাথা  নুইয়িয়ে দেয়। কি বিশাল বুকের সাহস তিনি দেখিয়েছিলেন ষাটের দশকের  শুরুতে। তিনি তখন রাজশাহী কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব  খান রাজশাহীতে আসছেন। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান, যার দাপটে গোটা পাকিস্তান থম থমে আর তটস্থ। সেই লোহার মত মানুষকে রুখে দিয়েছিলেন তিনি আর তাঁর বন্ধুরা। পাকিস্তান সরকার তাঁকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে হত্যার প্রচেষ্টা চালানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। চৌদ্দ বছর জেল হয় তাঁর, যদিও এক  বছরের কম সময় জেল খাটার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। স্বৈর শাসক আইয়ুব খানকে হত্যা প্রচেষ্টার সেই নায়ক তার প্রায় কুড়ি বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশের আরেক সেনাশাসক যখন কবিতা লিখে পেলব মানুষ হওয়ার পরিকল্পনায় নিজের স্বৈরাচারিত্ব ঢাকতে ব্যস্ত, তখনো তিনি বলে ওঠেছিলেন, সব শালা কবি হতে চায়।

জিন্সের প্যান্ট, গায়ে ধুসর জ্যাকেট আর ঝাঁকড়া সাদা চুল মাথায় তিনি তখন বলে চলেছেন ইলপিসিনো ছবিটির কথা। কবি পাবলো নেরুদাকে নিয়ে তৈরি ছবিটিতে যেন কবিতার স্বাদ পাওয়া যায়। আমি তন্ময় হয়ে শুনছিলাম আমার নায়কের কথা যিনি সেদিন আমাদের পড়াচ্ছিলেন চলচ্চিত্র ও কবিতা। হেসে হেসে ভরাট কন্ঠে তিনি বলে চলেছেন অ্যালে রেনে’র লাস্ট ইয়ার ইন মরিয়ানবাদ এর কথা। তারাকোভস্কি,  লুই বুনিয়েলের কথা। আঁদ্রে ব্রেতো, পল এলুয়ার, সালভাদর দালি, জ্যঁ ককতো  আর পাসোলিনির কথা।

বাইরে তখনো বৃষ্টি। বাইরের বৃষ্টির শব্দ বদ্ধ ঘরের করিডোর ভেদ করে  ভিতরে ঢুকে পড়ছে আর সে ঢুকে পড়া শব্দের সাথে আমার নায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজীর অধ্যাপক কবি মোহাম্মদ রফিকের কন্ঠস্বর মিলে মিশে এক অদ্ভুত কাব্যিক  পরিবেশ তৈরি করেছে। আমার মাথার তখন তারকোভস্কির স্কাল্পটিং ইন টাইম এর মূল সুর বাজছে।

ঠিক একটায়  রফিক স্যার তাঁর কথা থামালেন। পিছন সারিতে বসে আমি তন্ময় হয়ে শুধু শুনে গেলাম চলচ্চিত্রের গভীর কোনে লুকিয়ে থাকা কবিতার স্বাদ। ক্লাস শেষে সবাই স্যারকে ঘিরে ধরলো। স্যার আত্মভোলা ধরাজ হাসিতে সবার সাথে কথা বলে চলেছেন। আমি তখনো পিছনের সারির কোনার আসনটায় বসে আছি। বৃষ্টিতে ভেজা আমার জামা কাপড় কখন যে শুকিয়ে গেছে তা আমি খেয়ালই করি নি। কবি মোহাম্মদ রফিক স্যারের কবিতা ও চলচ্চিত্র  ক্লাসটি আমার ভাবনার জগতে নতুন এক পশলা বৃষ্টি এনে দিল। হঠাৎই কেন যেন আমাকে চলচ্চিত্র নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শেখার পথে ঠেলে দিল। আমার স্মৃতিপটে তখন ভেসে আসছে স্যারের সারা বিষ্ণুপুর  জুড়ে আর এইভাবে ভিজে ভিজে কবিতা দুটির পঙ্তিমালা। আমার বার বার সারা বিষ্ণুপুর জুড়ে’র শুরুর ইমেজগুলো মস্তিস্কে ভীড় জমাতে লাগলো:

সারা বিষ্ণুপুর জুড়ে ঝরে পাতা শীতার্ত সন্ধ্যায়

ধুলোবালি খড় নিয়ে কিছু আলো কিছু অন্ধকার

প্রতি ঘরে-ঘরে টেমি হাওয়ার আঘাতে কেঁপে ওঠে,

কিহে বালক! কবিতা-টবিতা লেখো নাকি? রফিক স্যারের কন্ঠস্বর। হকচকিয়ে তাঁর দিকে তাকাই । বুঝতে পারি,  তিনি আমাকেই বালক সম্বোধন করেছেন। নিঃশব্দে হেসেই আমি ধড়পরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। অনেক কাল আগেই বালকত্বের সীমানা পেরিয়ে এসেছি। তারপরও তো এমন একজন অভিজ্ঞতায় ভরা মানুষটির কাছে আমি নিতান্তই  একজন  বালক। আমি মুখ দিয়ে শব্দ বের করার আগেই তিনি  আমাদের সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন। আমার তাঁকে আর বলা হলো না। আমি কবিতা লিখতে পারি না। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমি তাঁরই বিষ্ণুপুরের হাঁটা চলা খড়ের চালের পরে অচেনা পায়ের ঝুপঝুপ শব্দ ওঠা শ্যাওলা পচা পুকুর ঘাটের  তেঁতুল গাছের মড়মড় ভাঙ্গা ডালের শব্দের চলচ্চিত্রের স্বাদে বুঁদ হয়ে আছি।

সেদিন দুপুর দুইটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত আরেকটি ক্লাস হলো। সম্ভবত টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র  নিয়ে।  সেই ক্লাসটার কোন কিছুই আমি এখন স্মরণ করতে  পারি না। এমনকি কে আমাদের সেই বিষয়টি সম্পর্কে  জ্ঞান দিয়েছিলেন সেটাও বের করতে একটু কষ্ট করতে হবে। সেই ক্লাসটাতেও আমি পিছনে বসে সামনের বসা সতীর্থদের শরীরের আড়ালে নিজেকে আড়াল করে নিবিষ্ঠ মনে রফিক স্যারের কথাগুলোর সাথে  চলচ্চিত্র ও কবিতার যোগসূত্র  মেলানোর চেষ্টা করেছিলাম।

ঠিক পাঁচটায় কা¬সটা শেষ হলে ঘরের বাইরে বেরুতেই দেখি দরজায় নাট্যকার সেলিম  আল দীন দাঁড়িয়ে। মুখে আধপোড়া সিগারেট। সেলিম আল দীন আমাদের এই কোর্সের পরিচালক। তাঁর দিকে চোখ পড়তেই সিগারেটটা হাতের আঙ্গুলে ধরে বললেন, আজকের ছবিটা সবাই দেখে যাবে।

ছবি দেখা পর্ব শুরুর আগে সেলিম আল দীন স্যার ছবি দেখার সাদা পর্দাটার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, আজকের তোমরা যে ছবিটা দেখবে, সেটা মূলত একটি কবিতা। আমি মিলাতে পারছি না আজ কিভাবে আমার মত একজন অকবির মাথায় কবিতা ছেঁকে ছেঁকে জেকে বসছে। সেই সকালের কাকভেজা কবিতা বৃষ্টি আর তারপর কবি মোহাম্মদ রফিকের কবিতা ও চলচ্চিত্র  বিষয়ক কথামালা।

ঘরের সব আলো নিভে যাবার পর যখন সাদা পর্দায় নাট্যকার সেলিম আল দীনের উল্লি­খিত-কবিতা চলচ্চিত্রের শুরুর টাইটেল কার্ড প্রক্ষেপিত হতে লাগলো, তখনই প্রথম জানতে পারলাম, সেদিনের ছবিটির নাম সুবর্ণরেখা। দ্য গোল্ডেন রে। পরিচালক ঋত্বিক কুমার ঘাটক।

অনেক বছর আগে কোলকাতার দূরদর্শন টেলিভিশন চ্যানেলে ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা ছবিটি দেখেছিলাম, যদিও তাঁর একটি  ছবিই আমার তখন পর্যন্ত দেখা হয়েছিল কিন্তু তাঁর সম্পর্কে শুনেছিলাম বিস্তর। তাঁর সম্পর্কে জানা সবকিছুকেই ছাপিয়ে আমাকে কাছে বেশ বড় হয়ে ধরা দিয়েছিল মানুষটা বড় বেশী মদ পিয়াসী। সোজা বাংলা কথায়, মানুষটা সব সময়ই মাতাল হয়ে থাকতেন। মদের সাথে ছিল তাঁর হৃদয়ের সখ্যতা ।

অথচ আমার কিশোর বয়সে দেখা মেঘে ঢাকা তারা’র অনেক কিছুই এখনো আমি ভুলতে পারি নি। প্রকান্ড ঝাকড়া অশথ বৃক্ষের নীচ দিয়ে বোন নীতা অর্থাৎ সুপ্রিয়া দেবী যখন তার অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন আর দূরে ছোট্ট নদীর পাড়ে বসে ভাই শংকর অর্থাৎ অনীল চ্যাটার্জীর প্রকৃতির মাঝে নিজের গলা সাধা এবং এমন এক সময়ে ট্রেনের ছুটে চলা। ক্যামেরায় দৃশ্যগুলো যেভাবে ওঠে এসেছে তাতে আমার এখন বারবারই মনে হয় ওগুলো চমৎকার শুদ্ধ কবিতার একগুচ্ছ ইমেজ চিরন্তন মস্তিস্কের কোনে চির জাগরুক জায়গা করে নেয়। আমি কখনো ভুলতে পারি না দেশভাগের ক্ষতে বিক্ষত হয়ে যাওয়া একটি পরিবারের বড় মেয়েটা কিভাবে অন্যদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে নিজেকে জীবন পথে শেষ সীমানায় নিয়ে গিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরতে গিয়েও বাঁচার প্রবল আকুলতায় প্রতিষ্ঠা  পাওয়া শিল্পী ভাই শংকরকে  আঁকড়িয়ে বলতে চায়, দাদা আমি বাঁচবো, দাদা আমি বাঁচতে বড় বেশী ভালোবাসি, দাদা, আমি বাঁচাবো। নীতার শেষ বাঁচার আঁকুতিগুলো ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে ঘুরে ঘুরে বাঁজতে থাকে শিলং পাহাড়ের উপত্যকার প্রান্তর থেকে প্রান্তরে। আর সাউন্ড ট্রাকে ঝন্ ঝন্ করে বেজে ওঠে সরোদের সুক্ষ্ম পাতলা ব্লেড দিয়ে হৃদয় কেটে ফেলা  রক্তের স্রোত।

সেই কবে ছবিটি দেখেছিলাম,

কিন্তু ভুলতে পরিনি। পর্দায় দ্বিতীয় বারের মত মাতাল ঋত্বিক ঘটকের নাম দেখলাম, ছবির নাম সুবর্ণরেখা। সেলিম আলদীন স্যার বলে গেলেন এই ছবিটা একটা কবিতা। সকালের ক্লাসে কবি মোহাম্মদ রফিক স্যার চলচ্চিত্র ও কবিতা  নিয়ে তিন ঘন্টা অপূর্ব সব কথা বলে গেছেন। তারও আগে  সকালের বৃষ্টি। সবকিছুতেই আমি কবিতার গন্ধ পাচ্ছি, শুধু আমি নিজে বড়বেশী একজন অকবি।

মেঘে ঢাকা তারা’য় দেখেছিলাম দেশবিভাগের ফলে কি নিদারুণ কষ্ট ভোগ করেছে একটি পরিবার। তারপরও তো সেই পরিবারটা মাথা গোঁজার সামান্য জায়গা পেয়েছিল। কিন্তু সুবর্ণরেখা’য় সেই কষ্টের নিদারুণতা আরো বেশী প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে। ছবির শুরুতেই পূর্ব বাংলা থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষেরা মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজছে আর নিজেদের জীবনকে আবার নতুন কর সাজানোর প্রানান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে । সময়টা ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি। বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর প্রায় সকলেই পাবনা বা ঢাকার বিক্রমপুর থেকে গিয়েছে। বিষন্ন মানুষগুলোর মলিন মুখ ছাপিয়ে দু’জন প্রধানত আমাদের চোখে স্পষ্টতর হয়ে ওঠে। ঈশ্বর চক্রবর্তী আর তার বোন সীতা। সাত আট বছরের নিষ্পাপ মুখের সীতা বার বার ভাইয়ের কাছে জানতে চায় তাদের নতুন বাড়ী কোথায়। হয়তো রাজনৈতিক দেশ ভাগের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলিম অধ্যুষিত নিজগ্রাম চিরদিনের জন্য ছেড়ে ভাই যখন তার ছোট বোনকে নিয়ে অজানা পথে পাড়ি জমাচ্ছিলো, তখন হয়তো দীর্ঘ ক্লান্তিকর পথে জমে যাওয়া ক্লান্তি দূর করতে ভাই তার একমাত্র ছোট বোনকে নিয়ে নতুন বাড়ীর স্বপ্ন দেখিয়েছিল। হয়তো বলেছিল, কোন এক নদীর পাশে হবে তাদের সেই নতুন বাড়ী যেখানে রয়েছে ধানক্ষেত আর সেইসব ক্ষেত জুড়ে উড়ে বেড়ায় নানা রঙের প্রজাপতি।

পর্দায় ভেসে আসা দৃশ্যের প্রথম দিনটা ছিল ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি। তার ঠিক চারদিন পর অর্থাৎ ৩০শে জানুয়ারি এই উপমহাদেশের শান্তির প্রতীক চড়–ই পাখির মত ছোট্ট পায়রা মহাত্মা গান্ধির বুকে তিনটি বুলেট ছুঁড়ে দিল উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী নাথুরাম গড্সে। যে মানুষগুলো ধর্মের কারণে পূর্ব পুরুষদের ভিটে মাটি ছেড়ে অজানা অচেনা আশ্রয়ের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিল, তারা নিজেদের বড় বেশি অরক্ষিত মনে করতে লাগলো। ইতোমধ্যে যে সব পতিত এলাকায় তারা বাঁশ বেড়ার ঘর বানিয়ে কোন রকমে মাথা গুঁজতে চেয়েছিল, সেখান থেকেও সরকার ও সেই সব পতিত এলাকা পত্তনি নেয়া জোরদাররা তাদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করলো। ভয়ার্ত খরগোশ ছানার মত সীতা ভাইয়ের হাত চেপে ধরে। মলিন মুখে জানতে চায়, তাদের বাড়ী কোথায়।

বিক্রমপুরের এক বাগদী মা তার সাত আট বছরের ছেলে অভিরামকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল নতুন গড়ে ওঠা বস্তিতে। জোরদারদের গুন্ডা বাহিনী জোর করে মাকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেও তাদের হাত ফসকে পালিয়ে যায় বালক অভি। তারপর তার আশ্রয় হয় ঈশ্বর চক্রবর্তীর কাছে।

আমি যখন সুবর্ণরেখা’র এসব দৃশ্যগুলোর দেখছিলাম তখন বাইরে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। চারিদিক তখন কালো। কিছুক্ষণ আগে সেলিম আল দীন স্যার বলে গেলেন সবুর্ণরেখা ছবিটি একটি কবিতা। শুরুর কয়েকটি দৃশ্যে ঋত্বিক ঘটক আমাদের মানব জীবনের গভীরতর ক্ষতকে তুলে আনতে যে প্রক্রিয়ায় এ ছবিটি তৈরি করেছেন, তাতে মনে হল আমি সত্যিই একটি কবিতা দেখছি। আমার পাশে আমার বন্ধু রেজা এলিয়েন। সেও নিশ্চুপ।

মনে হচ্ছিল, কতকাল পরে আমরা সবাই একটি ছবি দেখছি, যা শুরুতেই সপাৎ করে আমাদের ধর্মীয় উন্মত্ততার লাগামহীন ঘোড়াটাকে চাবুক মেরে জীবন সত্যকে চিনিয়ে দিচ্ছে।

সুবর্ণরেখা চলচ্চিত্রে ঈশ্বর, সীতা ও অভি তাদের দিনরাত অতিবাহিত করার মত গৃহ পেলেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। জীবনের নানা ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে তার  প্রাণপ্রিয় একমাত্র বোন সীতা আলাদা হয়ে যায়, নীচু বাগদী জাতির অভিরামকে বিয়ে করার জন্য। কোলকাতার এক বস্তিতে আবার শুরু হয় তাদের সংসার। সন্তান জন্মে। নাম রাখে বিনু! ছোট্ট বিনুর বড় স্বপ্ন তাদের একটি সুন্দর গৃহ হবে। একেবারে সুন্দর সুবর্ণ কোন গ্রামে, সুবর্ণরেখা নদীর ওপারে, যেখানে ফড়িং নেচে বেড়ায় হেমন্তের পাকা সোনালী ধানের ওপর দিয়ে।

স্বপ্ন দেখে সবাই। অভিরাম স্বপ্ন দেখে সে উপার্জনক্ষম হবে আর সুন্দরভাবে চালাবে তার সংসার। কিন্তু বাস দুর্ঘটনা তার জীবন ছিনিয়ে নেয়। নদী থেকে অকুল সাগরে পড়ে সীতা ও তার অপুষ্টিতে ভুগা একমাত্র সন্তান বিনু। নিদারুন দারিদ্রে বস্তির মাসির প্ররোচনায় সীতা বাধ্য হয়ে রাজি হয় নিজের দেহের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনে নিজের সন্তানকে একটু স্বস্তি দিবে বলে। দেহ বিক্রির প্রথম দিনেই খদ্দের হয়ে সীতার ঘরে আসে তার ভাই ঈশ্বর। ঈশ্বরের জীবনেও সেটাই প্রথম রাত, যেদিন সে ফূর্তি করতে কোন মেয়ে কাছে গমন করে। মদ্যপ ঈশ্বরকে আবছা  আলোয় সীতা চিনতে পারে। ঈশ্বর তার দিকে এগিয়ে আসতেই লজ্জা ও কষ্টে সে তার ঘরে রাখা ধারাল বটি চালিয়ে দেয় নিজের গলায়। ফিনকি দিয়ে লাল রক্ত এসে লাল করে দেয় ঈশ্বরের সাদা পাঞ্চাবী।

আদালতে দু’বছর ধরে মামলাটি চলে। বড় চাঞ্চল্যকর মামলা। আদালতে ঈশ^র বলতে চায় সেই হত্যা করেছে তার বোনকে। কিন্তু প্রমানিত হয়, ঈশ্বর তার বোনকে হত্যা করেনি বরং সীতা নিজেই নিজের গলায় ধারাল বটি চালিয়ে অপমনি লজ্জা তার কষ্টকর জীবন থেকে নিজেকে মুক্তি দিয়েছে।

সীতার মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবে সীতার পুত্র বিনুর আশ্রয় হয় বিনুর মামা ঈশ্বর। ঈশ্বর বিনুকে নিয়ে বলে তার গৃহে যেখানে অনেক বছর আগে সে একরকম পালিয়ে এসেছিল বস্তির অনিরাপদ আর ঘিঞ্জি জায়গা থেকে। বন্ধু রামলাল তাকে তার মিলের চাকুরী দিয়ে ঈশ্বরকে উঠিয়েছিল এই গৃহে। ছোট্ট সীতা যেমন গৃহের  স্বপ্ন দেখেছিল, তেমনি গৃহ ছিল সেটি।

বিনুকে নিয়ে ঈশ্বর রওনা হয়েছিল তার সইে গৃহে। স্টেশনে ট্রেন থামার পর যখন মামা ভাগ্নে রেল লাইনের পাশে এসে দাঁড়াল তখন পিওন এসে ঈশ্বরকে চিঠিটা দিয়ে গেল যাতে বলা হয়েছে তার মিলের ম্যানেজারের চাকুরী থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সে আবার তার গৃহ থেকে বস্তিচ্যুত হয়ে পড়লো। অথচ সে বিনুকে স্বপ্ন দেখিয়েছে নতুন বাড়ীর যার চারপাশে আছে নানারকম ফুলের বাগান, দূরে স্বচ্ছ পানির অপূর্ব এক নদী যার পাশে সোনালী থোকা থোকা থোরের ধান ধরে থাকে। ফড়িং মনের আনন্দে ডানা নাড়িয়ে উড়ে বেড়ায় চারপাশে।

ঘরে আলো জ্বলে ওঠার বেশ কয়েক মিনিট পর আমি সম্বিৎ ফিরে পেলাম। এ কি দেখলাম! চলচ্চিত্র এত অপূর্ব ভাবে  কথা বলতে পারে, কাঁদাতে পারে? নতুন মস্তকে বিনম্র শ্রদ্ধায় আমার মাথা নুয়ে গেল ঋত্বিক ঘটকের প্রতি। যে ঋত্বিক ঘটক সম্পর্কে আমি শুনেছিলাম তিনি একজনএলকোহলিক, আমার বার বার মনে হতে লাগলো, যে যন্ত্রনা বুকে বঁরণ করে ঋত্বিক তাঁর জীবন কাটিয়েছেন, তাঁরতো মদের কাছে আশ্রয়  খোঁজা ছাড়া কোন উপায় ছিল না।

কারণ তার হৃদয় তো ছিল ভাঙ্গা বাংলার দগ্ধপ্রাণ। দেশ ভাগের চরম যন্ত্রণাতো তাঁকে তাঁর জীবন দিয়ে দেখতে হয়েছে। তাঁকে যে  দেখতে হয়েছে দেশভাগের ফলে শিকড় থেকে উপড়িয়ে ফেলা অসংখ্য গৃহহারা  মানুষকে যাদের অনেক পরবর্তীতে  হতে হয়েছে বিলাপকারী পথচারী,  ভিক্ষুক, নিঃস্ব  অসহায় মানুষ অথবা বেশ্যা। সেলিম আল দীন স্যার বলেছিলেন সুর্বনরেখা ছবিটি মূরত একটি কবিতা। আমার মনে হল, দেশ বিভাগের দগ্ধ ক্ষত চিত্রিত করার জন্য সুর্বনরেখা’র মত  সেলুলয়েকে আর কোন কবিতায় লেখা হয়নি।

সেই সুবর্ণরেখা আমার চলচ্চিত্র ভাবনায় মোড় ঘুরিয়ে দিল। আমার শুধু মনে হতে লাগলো, সেলুলয়েডের যে কবি সুবর্ণরেখা’র মত  একটি অসাধারণ কবিতা রচনা করেছেন আমার কাজ  সেই আতœকে খুঁজে ফেরা। এ খোঁজাটা  অবিরাম হতে পারে, আমৃত্যু।  অদ্ভুত আশ্চর্যের ব্যাপার, ঋত্বিক ঘটকাকে খুঁজে ফিরতে গিয়ে জানতে পারলাম, যে জায়গায় আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা  তার মাইল খানেক দুরেই হচ্ছে ঘটক পরিবারের বাড়ী যেটা তারা ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময় ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আর ঋত্বিক ঘটক যে স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেছেন,  আমিও ছিলাম সেই স্কুল ও কলেজের ছাত্র। আরো অদ্ভুত ব্যাপার, রাতের আঁধারে যে পদ্মার কেটেছে অজস্র অন্ধকার রাত, সেই পদ্মার অন্ধকারে একমনে নিবিষ্ঠমনে মগ্ন হয়ে ঋত্বিক দা বাজিয়েছেন তাঁর প্রানের বাঁশি।

কবিতার মত একটি চলচ্চিত্র আমাকে পাগল করলো তার নির্মাতা সম্পর্কে জানতে। আমার সামান্য চলচ্চিত্র  স্থান নিয়ে আমি এগুতে থাকলাম সেলুলয়েডের  কবিকে সেলুলয়েওড তুলে আনতে। ঋত্বিক ইন দিস ল্যান্ড প্রামান্য চলচ্চিত্র নির্মান করবো বলে ছুটে বেড়াছি কী দীর্ঘদিন ধরে। এর কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিস্মিত  হয়ে পড়ছি ঋত্বিক ঘটককে নতুন নতু ভাবে জানতে পেয়ে। এখন কিছুটা বুঝতে পারি, ১৯৭১ সালের মে মাসে সন্ধ্যার পর শান্তি নিকেতনের  পথে ভাগ্নি এ্যারোমা দত্তের পাশে বসে কিছুটা মদ খাওয়া ঋত্বিক গাড়ী ভিতরে তাঁর জন্মভূমির কথা মনে করে কেন উচ্চস্বরে কেঁদেছিলেন। কেন বঙ্গবালা এ্যারোমাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে চেয়েছিলেন, শিকড় থেকে উপরে ফেলা মানুষের চেয়ে হতভাগা মানুষ এই পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না।

সুবর্ণরেখা’র কবিকে জানতে আমি এখন ছুটে বেড়াচ্ছি  প্রান্তর থেকে প্রান্তর। খুঁজে বেড়াচ্ছি সেইসব মানুষদের যারা কাছ থেকে ঋত্বিকদা কে দেখেছেন। তাদের সবার সাথে  কথা বলছি এমন এক মানুষ সম্পর্কে যিনি সবার ব্যাথা নিজের করে নিয়ে বয়ে বেড়িয়েছেন আজীবন। এরই  মধ্যে একজন আমাকে জানালেন, দেবদাস মদ খেয়েছে পার্বতীর জন্যে আর ঋত্বিক ঘটক মদ খেয়েছে বাংলার জন্যে।

ঋত্বিক সন্ধানেই খুঁজে পেলাম প্রতীতি দেবীকে। ১৯২৫ সালের ৪ঠা নভেম্বর ঢাকায় একই মাতৃজঠর ভাগ করে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন ঋত্বিক ঘটক আর প্রতীতি দেবী। সবার আদরের ভবা আর ভবি। সেই সময়ে তাদের বাবা সুরেশচন্দ্র ঘটক ছিলেন ঢাকার ডিষ্ট্রিক্ট ম্যাজিষ্ট্রেট। ঋত্বিক ঘটক চলে গেলেন ১৯৭৬ সালে আর প্রতীতি দেবী এখনও ছিয়াশি বছর বয়সে শুধু চেয়ে থাকেন জমজ ভাইয়ের সুবর্নরেখার পানে। আমি মাঝে মধ্যেই ছুটে যাই প্রতীতি দিদি কাছে, তাঁর হাত ধরে নীরবে বসে থাকি ঋত্বিক দাকে খুঁজে পাবো বলে।

সেদিন হঠাৎ করেই দিদিকে বললাম ঋত্বিকদার মদ খাওয়ার বিষয়টি। দিদি চুপ করে গেলেন। শুধু বললেন, ভবা কিন্তু এক সময় মদকে ঘৃণা করতো, কখনো মদ ছুঁয়ে দেখেনি।

পহেলা বৈশাখের সকালে দিদির কাছে গেলাম, প্রনাম করবো বলে। ছিয়াশি বছরের অপূর্ব সুন্দরী দিদি আমাে অনেক স্নেহে অনেক বৈশাখী উপহার দিয়ে শেষে একটি খাম এগিয়ে দিলেন। জানালেন, খামের মধ্যে আছে তাঁর মাতাল ঋত্বিক। ঘরে এসে খাম খুলে দেখলাম, এই পৃথিবীতে ঋত্বিকদার মা’র সাথে একই মাতৃজঠর  ভাগ করে আসা প্রতীতি’দির কবিতা – মাতাল ঋত্বিক:

মাতাল যে কত বড়, কত মহান হতে পারে

ঋত্বিকই আমায় দেখিয়েছে।

ভালবাসায় মাতাল ঋত্বিক,

স্বপ্নময় মাতাল ঋত্বিক,

পাগল করা ভাবনায় মাতাল ঋত্বিক,

প্রচন্ড দুঃখে মাতাল ঋত্বিক,

তার চেয়েও নিদারুন কষ্টে মাতাল ঋত্বিক,

হৃদয় উজাড় করা প্রেম সায়বে মাতাল ঋত্বিক,

পদ্মা পাড়ের ঝোড়ো হাওয়ায় ভেসে যাওয়া মাতাল ঋত্বিক,

লম্বা বাঁশী ওয়ালা মাতাল ঋত্বিক,

গান পাগল মাতাল ঋত্বিক,

স্নিগ্ধ হাসিতে ভেসে যাওয়া মাতাল ঋত্বিক,

ভূমি বা অনন্ত আকাশ মাতানো মাতাল ঋত্বিক,

এতো বড় মাতাল করা দেহ, মন, প্রাণ না হয়ে থাকলে,

তুমি যে পূর্ণ নও মাতাল ঋত্বিক।

তুমি বিশ্ব চরাচরে মাতাল হয়েই থেকো

এ আমার মন, প্রাণ, বুক ভরা একমাত্র

কামনা, বাসনা, প্রার্থনা।

সকল রকমে কাঙ্গাল হয়ে তুমি বিশ্ব চরাচরে

ঘুরে বেড়িয়ে আমার কাছেই তো আসবে?

সব প্রেরণায় তুমি মাতাল ঋত্বিক তাই না?

এক কান্নাপাগল ছোট্ট মেয়েকে তোমার প্রাণে,

মনে হৃদয়ে রেখো চিরদিন

প্রাণপ্রিয় মাতাল ঋত্বিক।

নববর্ষের প্রথম দিনে প্রতীতি

১৪১৮, ঢাকা।

দিদির কবিতাটা পড়ে আমি ঘর ছেড়ে আমার ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালাম। আকাশে তখন কালো করে মেঘ জমেছে। বৈশাখী মেঘ। হয়তো ঝড় বৃষ্টি দুটোই হতে পারে।

আমার চোখের সামনে দিয়ে সেলুলয়েডের ফিতের ইমেজের মত ঋত্বিক দা’কে খুঁজে ফেরার দৃশ্যগুলো অনরবত একটার পর একটা ছুটে বেড়াচ্ছে। সেই কবে কাক;ভেজা হয়ে শাহবাগ থেকে মোহাম্মদপুরে গিয়েছিলাম, কবি মোহাম্মদ রফিক স্যারের কবিতা ও চলচ্চিত্র ক্লাস করেছিলাম, সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন স্যারের আধপোড়া সিগারেট আর সবার উদ্দেশ্য বলেছিলেন। আজকের ছবিটি একটি কবিতা আর তারপর ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখা’র সন্ধান পেলাম। সবশেষে প্রতীতি দেবীর সন্ধান এবং তাঁর লেখা মাতাল ঋত্বিক কবিতাটিতে একই সাথে পৃথিবীর আলো দেহমনে মেথে নেয়া ভাইয়ের উদ্দেশ্যে তার আঁকুতি।

আমি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে। ঘন কালো মেঘ ফেটে একটা দুটো করে বৃষ্টি হচ্ছে। হয়তো কিছুক্ষণ পরেই ঝাঁপিয়ে মাতাল করা বৃষ্টি হবে যে বৃষ্টিতে সেলুলয়েডের এক মাতাল কবি ঝুম হয়ে ভিজতে চেয়েছিলেন আর ভিজে ভিজে তাঁর ভাঙ্গা বাংলার দগ্ধ প্রাণটা জুড়াতে চেয়েছিলেন।

মনিস রফিক। টরন্টো

টরন্টো

মন্তব্য