মন্ট্রিয়লে মুসলিমদের জন্য আলাদা হাউজিং প্রজেক্টের প্রস্তাব : তীব্র নিন্দার ঝড়

 

টরন্টোতে ধর্ম বা এথনিক সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক আবাসিক ভবনের অস্তিত রয়েছে

nabil-warda

নাবিল ওয়ার্দা। ছবি : রেডিও কানাডা

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক : মন্ট্রিয়লের দক্ষিণে ব্রোসার্ড এলাকায় নতুন একটি হাউজিং প্রজেক্ট করার কথা বলে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছেন খ্রীষ্টান ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হওয়া এক ব্যক্তি। নিন্দার প্রধান কারণ হলো হাউজিং প্রজেক্টটি পরিকল্পনা করা হয়েছে শুধু মাত্র মুসলিমদের জন্য। কুইবেক প্রভিন্সের অধিবাসীরা প্রস্তাবিত এই হাউজিং প্রজেক্টের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নিন্দা জানিয়েছেন কুইবেক প্রভিন্সের প্রিমিয়ার ফিলিপ কুইলান্দ।

মুসলিমদের জন্য হাউজিং প্রজেক্টের প্রস্তাবকারী ঐ ব্যক্তির নাম নাবিল ওয়ার্দা। তিনি মিশরীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান। ২০ বছর বয়সে মিশর থেকে কানাডায় এসেছিলেন। ৪০ বছর বয়সে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হন। বর্তমানে তার বয়স ৬৮। পেশায় তিনি একজন একাউন্টেন্ট।

প্রস্তাবিত ঐ প্রজেক্টে ১০০ হেক্টর জমি ক্রয় করে তাতে ৮০টি বাড়ি নির্মান করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঐ প্রকল্পে মসজিদও নির্মান করা হবে। নাবিল ওয়ার্দা তার লিখিত প্রস্তাবটি পাঠিয়েছিলেন ব্রোসার্ড এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের সদস্যদের কাছে। বিষয়টি নিয়ে ঐ সেন্টারে একটি আলোচনা সভারও পরিকল্পনা ছিল নাবিল ওয়ার্দার। প্রস্তাবে তিনি জানিয়েছিলেন যে, ইতিমধ্যেই ‘হালাল ফিনান্সিং’ এর বিষয়ে খোজখবর নেয়া শুরু হয়েছে যাতে করে এই প্রস্তাবিত প্রজেক্টে যারা বাড়ির ক্রয় করবেন তাদেরকে ঋণের জন্য সুদ দিতে হবে না কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ হারাম। তিনি আরো বলেন, বহু মুসলিম সুদের ব্যবসাকে খারাপ চোখে দেখেন। তারা ব্যাংকের ইন্টারেস্টকে সুদের ব্যবসা বলেই মনে করেন যা খুবই গুনাহর কাজ। নাবিল ওয়ার্দা বলেন অনেক মানুষ আছেন যাদের সঞ্চয় ৩০, ৪০ বা খুব বেশী হলে ৫০ হাজার ডলার। এখন এই লোকদের কেউ যদি দেড় লাখ ডলার মূল্যের একটি বাড়ি কিনতে চান তবে তাকে আরো ২০ বছর সময় অপেক্ষা করতে হবে।

হাউজিং প্রজেক্টের প্রস্তাবের একস্থানে লেখা ছিল, ‘ভদ্রমহদয়গণ, আমরা চাই না কোন অশ্লীল কুইবেকবাসী বা কানাডিয়ান এই আবাসন প্রকল্পে আসুক।’ নাবিল ওয়ার্দা অবশ্য এই বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন আমরা কখনোই এই ধরনের কথা বলিনি।

ব্রোসার্ডে অবস্থিত ইসলামিক কমিউনিট সেন্টার।  ছবি : রেডিও কানাডা

ব্রোসার্ডে অবস্থিত ইসলামিক কমিউনিট সেন্টার। ছবি : রেডিও কানাডা

কিন্তু তার আগেই শুরু হয়ে যায় তীব্র সমালোচনা এবং ব্রোসার্ডের ঐ ইসলামিক কমিউনিট সেন্টারও জানিয়ে দেয় যে, এই প্রস্তাবের সঙ্গে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এক বিজ্ঞপ্তিতে সেন্টার জানায়, “ আমরা কুইবেকের সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ একিভূত হওয়ার বিষয়ে উৎসাহ যোগাই। আমরা গর্বিত কুইবেকার এবং গর্বিত কানাডিয়ান”।

কুইবেকের প্রিমিয়ার ফিলিপ কুইলান্দ বলেন, প্রস্তাবিত এই হাউজিং প্রকল্প সামাজিক কাঠামো এবং বৈচিত্র নষ্ট করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা পছন্দ করি আবাসনের বৈচিত্র, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ধর্মীয় বৈচিত্র। এটি কুইবেকের মৌলিক ভিত্তি।

কোয়ালিশন এভিনিউ কুইবেক এর নেতা ফ্রঁসোয়া লিগো এই প্রজেক্টের একজন তীব্র নিন্দাকারী। নাবিল ওয়ার্দার প্রস্তাব পেশের পর এই ফ্রঁসোয়া লিগো কুইবেকের মিউনিসিপাল এ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার মার্টিন কাটোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি যেন মিউনিসিপালিটিগুলোকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়ে রাখেন যে, এখানে বিশ্বাস-ভিত্তিক বা কোন নির্দিষ্ট ধর্ম-সম্প্রদায়ের জন্য কোন কমিউনিটি হাউজিং এর প্রস্তাব মেনে নেয়া হবে না। উল্লেখ্য যে, তিনি সম্প্রতি এক প্রস্তাব দিয়েছিলেন কুইবেকে যারা ইমিগ্রেন্ট হয়ে আসতে চাইবেন তাদেরকে ভ্যালিউজ টেস্ট দিতে হবে।

মন্ট্রিয়ল ভিত্তিক একটি মুসলিম সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর আদিল চারকাওই তাদের গ্রুপের ফেসবুকে লিখেন, এখানে একটি দ্বিমুখী নীতি কার্যকর দেখতে পাচ্ছি যখন দেখি লোকজন চায়না টাউন, লিটল ইটালী অথবা ইহুদী নেইবারহুডকে স্বাগত জানাচ্ছে কিন্তু একই সাথে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাবকে।

আদিল চারকাওই অবশ্য এ কথাও লিখেন যে, ব্যক্তিগতভাবে আমি নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠির জন্য বস্তি বানানোর পক্ষে নই। তবে আমি মনে করি, যে কোন সম্প্রদায়ের অধিকার আছে তারা কোন স্থানে থাকবে বা না থাকবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা একে অন্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেন।

মুসলিম এন্ড আরবস ফর এ সেকুলার কুইবেক এর সহসভাপতি হারুন বুয়াজ্জির ভাষ্য হলো, প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠার জন্য আংশিকভাবে দায়ী ইসলামোফোবিয়া।

মুসলিমদের জন্য পৃথক আবাসন প্রকল্পের প্রবক্তা নাবিল ওয়ার্দা অবশ্য পরে দাবী করেন যে তিনি শুধু চেয়েছিলেন একটি সুখী আবাসস্থল গড়ে তুলতে এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা স্বল্প আয়ের, তারা যাতে বাড়ির মালিক হতে পারেন সেইটিই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

নাবিল আরো বলেন, আমি যদি এমন কিছু একটা নির্মান করতে পারি যেখানে লোকজন অনুভব করবে আমি তাদের কাছের কেউ এবং তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে তখনই আমি মনে করবো আমার পরবর্তী এক দশকের জীবন অধিক উপভোগ্য হবে।

উল্লেখ্য যে, মুসলিমদের জন্য পৃথক এই আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব মিডিয়ায় আসার পর প্রথম দিকে কুইবেকের হেলথ মিনিস্টার গয়ান বেরেট এর পক্ষেই মত দিয়েছিলেন। লিটল ইটালী বা চায়না টাউনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছিলেন, এতে কোন সমস্যা দেখিনা। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কুইবেকে যখন তীব্র সমালোচনা শুরু হয় তখন হেলথ মিনিস্টার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং বলেন, নির্দষ্ট কোন ধর্ম-সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা কোন আবাসন প্রকল্পের পক্ষে তিনি নন। মন্ট্রিয়লের যে এলাকায় মুসলিমদের জন্য পৃথক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নাবিল ওয়ার্দা, গয়ান বেরেট সেই এলাকার এমপিপি।

মন্ট্রিয়লের ব্রোসার্ড এলাকায় প্রস্তাবিত মুসলিমদের জন্য পৃথক আবাসন প্রকল্প নিয়ে আরো অনেক রাজনৈতিক নেতাই তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন এটি কুইবেকে বৈষম্য সৃষ্টির পায়তারা। এদের একজন এরিক কেয়ার যিনি কোয়ালিশন এভিনিও কুইবেক এর সদস্য। তিনি বলেন, “কুইবেকে কেউ নির্দিষ্ট কোন ধর্মসম্প্রদায়ের জন্য আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলবেন তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ভাবুন তো একবার, আমরা যদি এখানে এমন একটি আবাসন এলাকা গড়ে তুলি যা শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য রিজার্ভ থাকবে তাহলে কি তা গ্রহণযোগ্য হবে? অবশ্যই না।”

নাবিল ওয়ার্দা অবশ্য শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের জন্য পৃথক আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনাটি আপাতত স্থগিত রেখেছেন চারিদিক থেকে তীব্র সমালোচানা শুরু হওয়াতে। তিনি এখন দাবী করছেন, তার প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পে সবার জন্যই দরজা খোলা। কার কি গায়ের বর্ণ, কার কি ধর্ম বা কে কোন সম্প্রদায়ের তা বিবেচ্য নয়। তবে তার প্রাথমকি উদ্দেশ্য হলো, সেই সব মুসলিমদের সাহায্য করা যারা তাদের বিশ্বাসের (সুদ সম্পর্কে) কারনে ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনতে পারছেন না।  খবর কানাডিয়ান প্রেস ও সিবিসি নিউজের।

উল্লেখ্য যে, কানাডায় মুসলিমদের জন্য পৃথক আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব এটাই প্রথম নয়। টরন্টো স্টার এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইতিপূর্বে টরন্টোতেও এরকম প্রস্তাব উঠেছিল এবং মন্ট্রিয়লের মত এখানেও প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। সৃষ্টি হয়েছিল উত্তপ্ত বিতর্কের। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের শুরুতে। সেই সময় টরন্টোর উত্তরে অবস্থিত ভন সিটির থর্নহিল উডস-এ প্রস্তাবিত একটি মুসলিম কন্ডো কমপ্লেক্স নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম হয়েছিল। শত শত এলাকাবাসী  সমবেত হয়েছিল এই উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য।

ইসলামিক শিয়া ইথনা আশেরি জামায়াত (আইএসআইজে) রাদারফোর্ড রোডের দক্ষিণে ৯০০০ বেথার্স্ট স্ট্রিটে তাদের ১১ হেক্টর জমিতে ওই উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করার জন্য প্রস্তাব

পেশ করেছিল। ওখানে  মসজিদ ঘিরে নতুন ইসলামিক কমিউনিটি গড়ে তোলারও পরিকল্পনা করা হয়।

আইএসআইজে প্রেসিডেন্ট শাব্বির জেরাজ ঐ সময় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘এই প্রকল্প আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হচ্ছে আমাদের কমিউনিটি সদস্যদের একটি দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন ও লক্ষ্যের বাস্তবায়ন। আমাদের অনেক সদস্য এমনকি ২০ বছর আগে এই সম্পদ কিনে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।’

তবে ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ৩,২৫০ জনেরও বেশি এলাকাবাসী আবেদন পেশ করেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী গ্রুপের পরিচালক অবশ্য তখব বলেন, ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে ধর্ম কোন বিষয় নয়।

থর্নহিল বনভূমি সংরক্ষণের জন্য গঠিত সমিতির অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান রম কাউবি তখন বলেন, ‘এটি হলো একটি অঞ্চলের চরিত্র (জোনিং) পাল্টে দেয়া এবং ভূমির ব্যবহার সম্পর্কিত বিরোধ।’

এই এলাকার সিটি কাউন্সিলর সান্দ্রা ইয়েয়ুং র‌্যাক্কো জানিয়েছিলেন, ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে শত শত ফোন কল, ই-মেল ও চিঠি এসেছে। এই প্রকল্প কিছু বাসিন্দার মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে বলে তখন তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টিকে আমাদের দেখা দরকার পরিকল্পনার দিক থেকে। আমি এমনটা দেখতে চাই না যে একটি সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য সংস্কৃতির কোন বৈষম্য দেখা দিক। আমরা সেই অবস্থানে নেই। ভন সিটি একটি বৈচিত্র্যময় শহর।

উল্লেখ্য যে, প্রস্তাবিত ঐ কন্ডো সেন্টারের অবস্থান ছিল গোঁড়া ইহুদি স্কুল ‘নের ইসরায়েল ইয়েশিভা অব টরন্টো’র কাছে। এখানকার সমাজ প্রধানত ইহুদিদের নিয়ে গড়ে ওঠা। অবশ্য মুসলিম কমিউনিটিও গড়ে উঠছে।

তবে ২০১৪ সালের সেম্পেম্বর মাসে ভন সিটি কাউন্সিল মুসলিমদের জন্য প্রস্তাবিত ঐ কন্ডো ও টাউন হাউজ নির্মানের আবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে নাকচ করে দেয়।

উল্লেখ্য যে, ভনে অন্তত আরও একটি মুসলিম কমিউনিটি রয়েছে। সেটি হলো জেন স্ট্রিটের পশ্চিমে এবং মেজর ম্যাকেঞ্জির উত্তরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ‘পিস ভিলেজ’। এখানে আধা বিচ্ছিন্ন বা বিচ্ছিন্ন ১৫০টি বাড়ি রয়েছে। ২০০০ সালে যখন এই ভিলেজ তৈরি করা হয় তখন এটিকে উত্তর আমেরিকার ইসলামিক অভিবাসীদের ধর্মীয় চাহিদা পূরণের প্রথম কমিউনিটি হিসাবে বিবেচনা করা হতো।

এদিকে গ্লোবাল নিউজ এর এক খবর থেকে জানা যায়, টরন্টোর ৩০০১ ফিঞ্চ এভিনিউতে অবস্থিত শুধুমাত্র মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের জন্য সাবসিডাইজড একটি এপার্টমেন্ট ভবন নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল গত বছর। তবে টরন্টোর সিটি কাউন্সিল এর পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, এটি কারো মনাবাধিকার লংঘন করে না। টরন্টোর ট্রিনিটি/স্পাডাইনা রাইডিং (২০) এর সিটি কাউন্সিলর জো ক্রিসী এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “আমরা চাই লোকজন তাদের জন্য উপযুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশে বাস করুক। আহমেদীয় মুসলিমদের জন্য আলাদা ভবন করাটা অনুচিত হয়নি বা এটি কোন পক্ষপাতিত্বও নয়। ”

উল্লেখ্য যে, ফিঞ্চ এভিনিউতে অবস্থিত এই ১৬ তলা আধুনিক ভবনটিতে রয়েছে ১৭৬ টি এপার্টমেন্ট। নামাজ পড়ার জন্যও রয়েছে আলাদা রুম যেখানে ২৫০ জন এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। এটি আহমেদীয় মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত। ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে ‘আহমেদীয়া এবদি অব পিস’ নামে।

ভবনটি নিয়ে বিতর্ক শুরু যখন গত বছর টরন্টোর সাবসিডাইজড হাউজিং এর জন্য ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রায় ১১ হাজার আবেদনকারীর নাম এই ভবন থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এদেরই একজন ছিলেন ২১ বছর বয়সী অস্টিন লিউইস। অস্টিনকে হুইল চেয়ারে বসে চলাফেরা করতে হয়। ভবনটি তার জন্য খুবই সুবিধাজনক ছিল। কিন্তু তিনি মুসলিম নন। আর সে কারণেই তিনি বাদ পড়ে যান ওয়েটিং লিস্ট থেকে। এ ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়ে অস্টিন তখন বলেছিলেন, “আমরা তোমাকে পছন্দ করি না, তুমি এখানে বাস করতে পারবে না Ñ এটা কোন যৌক্তিক কথা হলো না।” অস্টিনের মাও সিটির এই সিদ্ধান্তে খুবই ক্ষুব্দ হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এটি যে কোন বিচারেই ভুল এবং অন্যায়। কানাডাকে আমি যে দৃষ্টিতে দেখি তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোন মিল নেই।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তখন বেশ হৈ-চৈ হয়েছিল। একজন ফেসবুকে তার পোস্টিং এ লিখেন, এটি অন্যায়, বিরক্তিকর এবং উন্মাদের ন্যায় আচরণ। এটি বন্ধ করা প্রয়োজন। এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও কেউ কেউ এর নিন্দা জানিয়েছিলেন। আমমেদীয়া সম্প্রদায়ের একজন তার ফেসবুকে লিখেন, আমি আহমেদীয় মুসলিম। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি এটি ভুল সিদ্ধান্ত।

তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকে নিন্দা জানালেও বাস্তবতা হলো, টরন্টোতে এ রকম আবাসিক ভবন আরো আছে যেগুলোতে নির্দিষ্ট কোন ধর্ম-সম্প্রদায়ের বা বয়স ভিত্তিক ভাড়াটিয়াদের আবস্থান রয়েছে। যেমন ৭৩০ পেপ এভিনিউতে অবস্থিত ম্যাকক্লিনটক ম্যানর ভবনটি খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী সিনিয়রদের জন্য সংরক্ষিত। ৬২ টি এপার্টমেন্ট রয়েছে এই ভবনে।

২০০২ সালে টরন্টো সিটি কাউন্সিলের গৃহীত এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে আটটি ভবন এরকম বিশেষ গ্রুপের সদস্যদের জন্য বরাদ্ধ বা সংরক্ষিত করা হয় যার মধ্যে আছে মেসিডোনিয়ান, চাইনিজ, লুথিয়ানিয়ান এবং গ্রীক সম্প্রদায়।

মন্তব্য