ফেডারেল পার্লামেন্টে এন্টি-ইসলামোফোবিয়া প্রস্তাব পেশ করায় এমপি ইকরা খালিদকে হত্যার হুমকী

ফেডারেল পার্লামেন্টে এন্টি-ইসলামোফোবিয়া মোশন উত্থাপন করায় লিবারেল এমপি ইকরা খালিদকে (ডানে) হত্যার হুমকী দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়। পাশে দাড়িয়ে হ্যারিটেজ মন্ত্রী ম্যালানী জলি। ছবি : সিবিসি

ফেডারেল পার্লামেন্টে এন্টি-ইসলামোফোবিয়া মোশন উত্থাপন করায় লিবারেল এমপি ইকরা খালিদকে (ডানে) হত্যার হুমকী দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়। পাশে দাড়িয়ে হ্যারিটেজ মন্ত্রী ম্যালানী জলি। ছবি : সিবিসি

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক : অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্টে এন্টি-ইসলামোফোবিয়া প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হলেও এই একই প্রস্তাব ফেডারেল পার্লামেন্টে পেশ করে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত লিবারেল এমপি ইকরা খালিদ। এই প্রস্তাব পেশ করায় তাকে হত্যার হুমকী দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। সিবিসি নিউজ জানায়, এমপি ইকরা খালিদ এন্টি-ইসলামোফোবিয়া প্রস্তাব পেশ করার পর বিদ্বেষী মেইলের প্লাবন দেখা দিয়েছে তার ই-মেইলে। এর মধ্যে হত্যার হুমকীও আছে। খালিদ পার্লামেন্টে জানান, পঞ্চাশ হাজারেরও বেশী ইমেইল পেয়েছেন তিনি। তবে সবই বিদ্বেষী ইমেইল নয়। অধিকাংশ ইমেইলই তার সমর্থনে।

ইকরা খালিদ আরো জানান, ইউটিউবেও তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বলা হয়েছে সে একজন জঙ্গী সমর্থক এবং নিদারুণ বিরক্তিকর ব্যক্তি। ঐ ভিডিওতে আরো বলা হয়েছে, “আমি তোমাকে গুলি করার জন্য তাদেরকে সহায়তা করবো না। তবে আমি সেখানে উপস্থিত থাকবো মাটিতে পড়ে তুমি যখন কান্না করবে তার ভিডিও করার জন্য। হ্যা, আমি সেখানে উপস্থিত থাকবো আমার স্টোরী লেখার জন্য মুখভরা হাসি নিয়ে। হা হা হা। একজন এমপি গুলি খেয়েছেন কানাডিয়ান একজন দেশপ্রেমীর হাতে।”

এমপি খালিদ আরো কয়েকটি ম্যাসেজ পড়ে শুনান পার্লামেন্টে যেগুলো নিম্মরূপ :

Ñ তাকে হত্যা কর। আমি একমত যে সে এদেশে এসেছে আমাদেরকে হত্যা করার জন্য। সে রোগগ্রস্থ, তাকে এই দেশ থেকে বহিস্কার করা প্রয়োজন।

Ñ আমরা তোমাদের মসজিদগুলো পুড়িয়ে দিব।

Ñ কানাডিয়ানরা কেন তাকে এ দেশে আসতে দিয়েছে? তাকে তার দেশে ফেরত পাঠিয়ে দাও।

Ñ তুমি কেন কানাডা থেকে বিদায় হও না। তুমি একটা জঘণ্য আবর্জনার বস্তু। সিংহভাগ সত্যিকার কানাডিয়ানরা চান না তুমি এ দেশে থাক।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে তারা এমপির অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিসিসাগায় তার অফিস ও কন্স্টিটিউন্সি এলাকায় টহল বৃদ্ধি করেছেন এবং হুমকীর বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছেন।

এমপি খালিদের প্রস্তাবিত মোশনটি হলো সবরকমের বর্ণবাদ এবং ধর্মীয় বৈষম্য দূরীকরণ এবং ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান।

কিন্তু এই প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে পেশ করার পর এর বিরোধীতাকারী কনজারভেটিভ পার্টির এমপিগণ বলছেন এটি কানাডায় স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য হুমকী হয়ে দাড়াতে পারে এবং দেশটিতে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে দিতে পারে। তবে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো এই একই মোশন বিনা বাক্যব্যয়ে অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা পাশ করিয়েছে এর পক্ষে ভোট দিয়ে।

এদিকে লিবারেল পার্টির এমপি ইকরা খালিদের প্রস্তাবিত মোশনের বিরুদ্ধে গত ২১ ফেব্রুয়ারী পাল্টা আরেকটি মোশন উত্থাপন করেছিল পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্র্টি। তারা ধর্মীয় বৈষম্যর বিরুদ্ধে একটি সাধারণ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে ঐ মোশনটি উত্থাপন করেন। কিন্তু লিবারেল পার্টি তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে তা নাকচ করে দেয়।

উভয় দলের উত্থাপিত মোশনেই ধর্মীয় বৈষম্যের বিষয়টি প্রাধাণ্য পায়। তবে লিবারেল পার্টির এমপি ইসলামোফোয়িয়াকে যেমন আলাদাভাবে গুরুত্ব দেন তার মোশনে, কনজারভেটিভ পার্টি তা করেনি। কনজারভেটিভ পার্টির মোশনে ইসলামোফোবিয়া শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। কনজারভেটিভ পার্টির এই মোশন অন্যান্য বিরোধী দলও সাপোর্ট করেছিল।

মন্তব্য