আমার দুঃসাহসী ছোট বোনেরা

মাহমুদা নাসরিন

rape victime

অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাদের। এমন একটি সাহসী কাজ করেছো তোমরা। এত কষ্ট পাচ্ছি তোমাদের বিভৎস নির্যাতনের বর্ণনা শুনে যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। ‘India’s Daughter’ এর জ্যোতি তাঁর জীবন দিয়ে যে আলো জ্বেলে রেখে গেছে তোমরা সেই মশালকে আরও প্রজ্জ্বলিত করেছো। ২০১৫ সালে আমেরিকার এমিলি ধর্ষক ব্রক টার্নারকে উদ্দেশ্য করে আদালতে যে শক্তিশালী চিঠিটি পড়েছিল সেটির কিছু অংশ আমি তোমাদের জন্য হুবহু বলতে চাই-
“সবশেষে, মেয়েরা তোমরা যে যেখানেই থাক না কেন, আমি আছি, সব সময় সবখানে তোমাদের সাথে, নির্জন রাতে যখন তুমি একাকী অসহায় বোধ করবে, আমি থাকব তোমাদের সাথে। যখন মানুষ তোমাদের সন্দেহ করবে, মিথ্যা দোষ দেবে, আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব। আমি তোমাদের পক্ষে প্রতিদিন যুদ্ধ করছি। যুদ্ধ কখনও বন্ধ করবে না। তোমাদের উপর আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে। সমুদ্রের আলোকবর্তিকা সাহায্যের জন্য নৌকা থেকে নৌকায় হাত পাতে না। লাইটহাউস স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়। যদিও আমি জানি, আমি সব ধর্ষিতাকে রক্ষা করতে পারবো না, কিন্তু আমার এই বক্তব্য সামান্য হলেও তোমাদেরকে আলোর পথ দেখাবে। তোমরা বুঝবে আমাদের চুপ থাকা যাবে না। একটু স্বস্তি তোমরা পাবে যে বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ছোট্ট একটি আস্বস্তি তোমাদের যে আমরা কোন একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারছি। সবচেয়ে বড় সত্য তোমরা সম্মানীয়, প্রশ্নাতীত ভাবে তোমরা সুন্দর। তোমরা প্রতি মূহুর্তে মূল্যবান, তোমরা শক্তিশালী। তোমাদের ক্ষমতা, শক্তি কেউ কখনও ছিনিয়ে নিতে পারবে না। বিশ্বের সব মেয়েরা যে যেখানেই আছ, আমি তোমাদের সাথে আছি সবসময়, সর্বক্ষণ।”
এমিলির ধর্ষক ব্রক টার্নার আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা সাঁতারু , যার বাবাও বলেছিল “মাত্র ২০ মিনিটের কাজের জন্য আমার ছেলের মান-সম্মান ভূলুণ্ঠিত করা যাবে না।” আমেরিকান পুলিশ এমিলিকে অশ্লীল প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছিল যেমন বাংলাদেশের পুলিশ করেছে তোমাদের। ব্রক মাত্র ছয়মাসের কারাদন্ড পেয়েছিল এবং সে জন্য পুরো আমেরিকাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। বিচারের বিরুদ্ধে ধিক্কারের বন্যা বয়েছিল। এমিলির চিঠি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার আইন সংশোধন করেছে, বিচারককে অন্য সেকশনে বদলী করা হয়েছে। আমার ছোট বোনেরা – তোমরা ভেঙ্গে পড়বে না। আমরা সবাই – সব মেয়েরা এবং অধিকাংশ পুরুষ দুই একজন নরপশু ছাড়া আমরা সবাই আছি তোমাদের সাথে এবং তোমাদের সাহসিকতার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ জানাই।
মাহমুদা নাসরিন
শিক্ষক ও সমাজকর্মী, টরন্টো
প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিং খালিদ বিশ্ববিদ্যালয় , সউদী আরব।

 

মন্তব্য