টরন্টো ফিল্ম ফোরামের আয়োজনে ফুয়াদ চৌধুরীর “পাহাড়ে শান্তির লড়াই” প্রদর্শিত

Fuad Chowdhury 1

আলোচনা অনুষ্ঠানে (বাম থেকে) ফুয়াদ চৌধুরী, হানা শামস আহমেদ, অধ্যাপক অমিত চাকমা ও ডাঃ চিরঞ্জীব তালুকদার

গত ১৯শে মে টরন্টোর ৩০০০ ড্যানফোর্থের মিজান কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে টরন্টো ফিল্ম ফোরাম এর আয়োজনে ফুয়াদ চৌধুরী নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র “পাহাড়ে শান্তির লড়াই” প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ী জনগণের সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালী সেটেলারদের রক্তাক্ত দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে এসেছে এই প্রামাণ্যচিত্রে। ৪৫মিনিট দৈর্ঘ্যের এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের বিষয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন ওয়েস্টার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ও উপাচার্য প্রফেসর অমিত চাকমা, সাস্কাচুয়ানের রেজাইনা থেকে আগত ডাঃ চিরঞ্জীব তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাত বছর সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেজর(অব) মীর সাইফুল আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সাবেক কো-অর্ডিনেটর ও ওয়েস্টার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-তত্ত্বের ছাত্রী হানা শামস আহমেদ এবং টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এনায়েত করিম বাবুল।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে দর্শকদের একাংশ

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে দর্শকদের একাংশ

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রতিটি রাষ্ট্রেই বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ঐতিহ্যগতভাবে এক জাতিগোষ্ঠী থেকে অন্য জাতিগোষ্ঠীর পার্থক্য থাকবে এটাও স্বাভাবিক। একটি রাষ্ট্রের সৌন্দর্য্য ও সমৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের প্রধানতম দায়িত্ব হচ্ছে, প্রতিটি নাগরিকের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনপ্রণালীকে সম্মান জানানো ও রক্ষা করা। বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা ও ভূমি রক্ষায় রাষ্ট্রকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। তাঁরা আরো বলেন, অভিবাসন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে গত চার দশকে রাষ্ট্রের ইন্ধনে যে অভিবাসন ঘটানো হয়েছে, তা একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশের জন্য কখনো কাম্য নয়। ফুয়াদ চৌধুরী তাঁর প্রামাণ্যচিত্রে পাহাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষায় যে চিত্র তুলে ধরেছেন তা দেশের মানুষকে আরো বেশী মানবিক হতে সাহায্য করবে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনার পর মিলনায়তনের উপচে পড়া দর্শকদের প্রশ্নের উত্তরে টরন্টো ফিল্ম ফোরামের উপদেষ্টা চলচ্চিত্র নির্মাতা ফুয়াদ চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্র বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী এক গণমাধ্যম এবং একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার মানবিক দায়িত্ব হিসেবে তিনি সমাজের একটি ক্ষত’কে তুলে ধরেছেন যাতে দেশের মানুষেরা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃতির মানুষদের বেদনা ও কষ্টকে অনুধাবন করতে পারে এবং সমাজের সব সংস্কৃতির মানুষ যেন অন্য সংস্কৃতির মানুষের প্রতি যথার্থভাবে সম্মান দেখিয়ে দেশকে আরো সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে।
ফুয়াদ চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত “পাহাড়ে শান্তির লড়াই” প্রামাণ্য চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণ করেন আব্দুল্লাহ বাকি ও আসগর কাজী এবং এর সম্পাদনা করেন কুউম হোই কু।
টরন্টো ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন টরন্টো ফিল্ম ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক মনিস রফিক। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

 

মন্তব্য