টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা আয়োজিত দুইদিনব্যাপী পারফর্মিং আর্ট উৎসব ২০১৭

TSS 2017 picture 1TSS 2017 picture 3TSS 2017 picture 2

আহমেদ হোসেন: মে মাসের ২০ ও ২১ তারিখে হল ভর্তি উপচে পরা মানুষের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সফলভাবে আনন্দঘন পরিবেশে দর্শক শ্রোতার মন জয় করা নানান অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দুইদিনব্যাপী টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা আয়োজিত “১২তম বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব ২০১৭” টরন্টোতে শেষ হল । প্রতিবারের মত এবারের অনুষ্ঠানেও ছিল মনকাড়া হৃদয় ছোঁয়া নৃত্য, গান, নাটক, বাউল গান, আধুনিক গান, ছোটদের উপস্থাপনা আর যন্ত্র সঙ্গীত । সময় ধরে ধরে, যার যার অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে শিল্পীরা,কোন ব্যত্যয় নেই, নেই কোন এলোমেলো ভাব। পেশাজীবীর দৃষ্টিভঙ্গীতে করা – গোছানো পরিপাটি ।

ভালবাসা কারে কয়ঃ
ধারাবাহিক উৎসবের কি হয় ? প্রথম বছর যেভাবে শুরুটা হয়, দেখা যায় পরের বছর সেটা হয় আকারে প্রকারে আড়ম্বরে আরো বড় আর নয় তো আয়োজকদের উদ্দিপনায় ভাটা কিংবা নানাবিধ দলাদলির জটিলতায় উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে আসে। টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা (টিএসএস)-র এই বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব দিনে দিনে ফিকে না হয়ে উজ্জ্বল হচ্ছে ।
কেমন করে শুরুটাঃ
২০০৪ সালে কয়েকজন আড্ডাবাজ বাঙালির চিন্তার ফসল টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা (টিএসএস)-র এই বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব । কফির আড্ডায় নষ্টালজিক মনের গান-কবিতা-নৃত্য কে তুলে এনে এই প্রবাসে উপস্থাপন করা আর প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করাই লক্ষ্য তাদের । তাইতো এখন বৃহত্তর টরন্টোর বাঙালিদের একটি অন্যতম সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা (টিএসএস)-র এই বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব । ২০০৪ সালে দীপক অধিকারী , ২০০৬ সালে কবি ব্যানার্জি, ২০১১ অরুন চক্রবর্তী, ২০১৪/১৫/১৬ তে অরুন (রাজকুমার) বিশ্বাস এবং ২০১৭ সালে শান্তনু চৌধুরী যোগ্য নেতৃত্বে দক্ষ অভিজ্ঞ দলের নিরলস পরিশ্রমের কারনে এমন একটি উৎসব হচ্ছে ফিবছর ।
প্রজন্মের প্রাধান্যঃ
টিএসএসের লক্ষ্য হলো এখানে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে সুকুমারবৃত্তির চর্চায় উৎসাহ প্রদান ও প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে বাঙালিত্বের মূল চেতনার এবং ঐতিহ্যের অধিকার সবার ভেতর ধারণ এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনের চেষ্টা। সে-লক্ষ্যে প্রথম থেকেই একের পর এক শিশু-কিশোরদের প্রযোজনা আনছে মঞ্চে তারা। এবার তারা মঞ্চে আনে লিন এসনার ও কৃষ্ণকলি সেনগুপ্ত নির্দেশনায় কানাডার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ইংরেজী “ সমবেত সঙ্গীত ” এবং মিহির দাস এর নির্দেশনায় রবি ঠাকুরের “ ছাত্রের পরীক্ষা”। ক্ষুদে শিল্পীদের মনোজ্ঞ আয়োজন ।
প্রথম দিনঃ
প্রথমদিনে এনাক্ষী সিনহার গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় “ বঙ্গ বসুন্ধরা ” শীর্ষক কাব্যগীতিনৃত্য সমন্বয়ে অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় । দর্শকশ্রোতার হৃদয় কেড়ে নেয় এই অসাধারণ কাব্যগীতিনৃত্য আলেখ্যটি ।
সংক্ষিপ্ত স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন চলতি সংগঠন সভাপতি শান্তনু চৌধুরী । এরপর মঞ্চস্থ হয় লিন এসনার ও কৃষ্ণকলি সেনগুপ্ত নির্দেশনায় কানাডার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শিশুকিশোরদের “সমবেত সঙ্গীত”। তারপরে মিহির দাস এর নির্দেশনায় রবি ঠাকুরের “ছাত্রের পরীক্ষা”।
প্রথমদিনে আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পীদের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট জনপ্রিয় বাউল শিল্পী কার্তিক দাস বাউল। বাউলের দর্শনে সুরে-কথায় নিজের চেনা গল্প শুনিয়ে দর্শকশ্রোতাদের মন জয় করেন কার্তিক দাস বাউল । শিল্পীর সাথে সঙ্গত করেন তবলায় অশোক দত্ত এবং বাঁশীতে দীপঙ্কর গাঙ্গুলী ।
রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাশা ঘোষাল । শাশা রবির গানের এর ইংরেজী ও বাংলায় পরিবেশন করেন । প্রথমদিনের শেষান্তে মঞ্চে আসেন অরিত্র দাসগুপ্ত । পুরনো দিনের বাংলা গান থেকে শুরু করে হাল আমলের গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন অরিত্র সকলকে মধ্যরাত অবধি ।
দ্বিতীয় দিনঃ
দ্বিতীয় দিনে জয়িতা চক্রবর্তী এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় “চড়ুই ভাতি”। এই সুন্দর আলেখ্য দর্শক শ্রোতার হৃদয় জয় করেছে । এর পর মঞ্চে আসে সুরকার আর ডি বর্মন স্মরণে সঙ্গীতালেখ্য “পঞ্চম- তুমি কত যে দূরে”। দ্বিতীয় দিনে আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পীদের মধ্যে যন্ত্র-সঙ্গীত পরিবেশন করেন উস্তাদ ইরশাদ খান । নান্দীকার নাট্যদলের বিশিষ্ট অভিনেত্রী সোহেনী সেনগুপ্ত উপস্থাপন করে একক নাটক “ তোমার নাম ” ও “সুয়োরানীর সাধ”।
দ্বিতীয় দিনে সবশেষে মঞ্চে আসেন উজ্জয়নী মুখার্জী । উজ্জয়নী পুরনো দিনের / হাল আমলের বাংলা হিন্দী গান গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন সকলকে অনুষ্ঠানে যবনিকাপাত পর্যন্ত ।
লক্ষ্ণী যারাঃ
টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থার এই দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দর্শকশ্রোতাগন যেমন টিকেট কেটে সাহায্য করেছে ঠিক তেমনি বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দিয়ে , শুভানুধ্যায়ীরা – পৃষ্ঠপোষকগন অর্থ অনুদান দিয়ে আর শিল্পী কলাকুশলীরা শ্রম-সময়- মেধা দিয়ে উৎসবকে করেছে সার্থক-প্রানবন্ত – উচ্ছল- রঙীন ।
জয়তু টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা (টিএসএস)-জয়তু বাঙালি কৃষ্টি আর মেধা ।

মন্তব্য