বিষন্নতা গোপন রাখবেন না, ‘শেয়ারিং পেইন ডিক্রিজেজ পেইন’

 

প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন : সানজানা হোসেইন

Farin

সানজানা হোসেইন বাংলাদেশী কমিউনিটিতে একজন নিবেদিত প্রাণ সামাজকর্মী। যারা মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী তাদেরকে নিয়ে তার কাজ। সে আন্ডারগ্রাজুয়েট করেছে সাইকোলজীতে। রিহেবিলিটিং কাউন্সিলিং এ পোস্টগ্রাজুয়েট এবং মাস্টার্স রিহেবিলিটিং সাইন্সে। বর্তমানে সে ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ডিজএবিলিটি কেস ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত।

সম্প্রতি টরন্টোতে দুজন বাংলাদেশী তরুণের আত্মহত্যার ঘটনা তাকেও নাড়া দিয়ে গেছে। একজন মেন্টাল হেলথ প্রফেশনাল হিসাবে তার কাছে মনে হয়েছে এ বিষয়ে কমিউনিটিতে কিছু করা জরুরী। ডিপ্রেশনের ব্যাপারে এ্যাওয়ারনেস তৈরী করা সহ আরো কিভাবে লোকজনদেরকে সহায়তা প্রদান করা যায় সে বিষয়ে কাজ করার জন্য সে ও আরো কয়েকজন উদ্যোগী তরুন মিলে গঠন করে লাইট (LIGHT) নামের একটি অনলাইন সংগঠন। এর মাধ্যমে সানজানা ও তার সহযোগিরা কমিউনিটিতে যারা ডিপ্রেশন বা মেন্টাল হেলথ ইস্যু নিয়ে সমস্যায় ভুগছে তাদেরকে সহায়তা প্রদান করবে। লাইট এর সঙ্গে যোগাযোগ ঠিকানা : lightawareness@outlook.com

সানজানা হোসেইন এর কাছে আমরা প্রবাসী কণ্ঠ ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে জানতে চেয়েছিলাম প্রবাসে আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটির দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ডিপ্রেশন কেন দেখা দিচ্ছে, এর লক্ষণগুলো কি কি এবং কেউ ডিপ্রেসড হলে কি কি করনীয় তা নিয়ে। এ বিষয়ে তিনি যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো কি কি?

উত্তর : ডিপ্রেশনের অনেক লক্ষণ থাকতে পারে। প্রথম যে বিষয়টি উল্লেখ করা যায় সেটি হলো বিহেভিরিয়াল চেঞ্জ বা আচরণগত পরিবর্তন। যদি দেখা যায় কোন চুপচাপ মানুষ হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাচ্ছে তখন ধরে নিতে হবে এটি তার আচরণগত পরিবর্তন। আবার যদি দেখা যায় কোন কৌতুকপ্রিয় এবং বহির্মূখী স্বভাবের ব্যক্তি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেছে এবং একা একা থাকতে ভালবাসে তবে ধরে নিতে হবে সেটিও তার আচরণগত পরিবর্তন।

আচরণগত পরিবর্তনের কিছু শারীরিক লক্ষণও আছে। যেমন অবসাদ, ক্লান্তি, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা, কোন কাজে একাগ্রতার অভাব ইত্যাদি।

আচরণগত পরিবর্তনের মধ্যে আরো যে সকল লক্ষণ থাকতে পারে তা হলো, আক্রমনাত্বক বা মারমুখি হওয়া, বিমর্ষ বা বিষন্ন থাকা, নিজেকে অপদার্থ মনে করা, খিটখিটে মেজাজের হওয়া, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা ইত্যাদি।

 

প্রশ্ন : আমরা জানি প্রবাসে প্রথম প্রজন্মের অনেক বাবা-মা’ই কম বেশী ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন। এতে করে কি ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ডিপ্রেশন ছড়ানোর  সম্ভাবনা থাকে?

উত্তর : ডিপ্রেশনের জেনেটিক রিলেশন কিছু কিছু পাওয়া গেছে। আর বাবা মা যদি নতুন দেশে এসে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে বা কাজে কর্মে সুবিধা না করতে পরে ডিপ্রেসড হন বা বিষন্নতায় ভোগেন, ছেলে-মেয়েদেরকে সময় দিত না পারেন, সবসময় বিমর্ষ থাকেন তবে তা থেকে পরিবারে যে একটা অসুখী এনভাইরনমেন্ট বা পরিবেশ তৈরী হয় তার প্রভাব কিছুটা ছেলে-মেয়েদের উপর পড়তেই পারে। তবে পড়বেই এমন কথাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

 

প্রশ্ন : পরিবারিক সহিংসতা ও শাসনের নামে ছেলে-মেয়েদেরকে মারধর করা থেকে কি ডিপ্রেশন জন্ম নিতে পারে?

শাসনের নামে ছেলে-মেয়েদেরকে মারধর করা বাংলাদেশে হয়তো স্বাভাবিক। বা আমরা তা দেখেও না দেখার ভান করি। কিন্তু কানাডায় যখন ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়, অন্য কালচারের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশা করে তখন তারা জানতে পারে যে এ ধরণের নির্যাতন মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং তা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ কল করতে হয়।

এটা আসলে একটি বড় ধরনের সমস্যা। এবং সেভাবেই এটা আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু আমরা যখন বাড়িতে আসি তখন দেখি পরিস্থিতিটা কেমন যেন বদলে যায়। শাসনের নামে মারধর করার বিষয়টি যেন সবাই কেমন স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়। কিছু কিছু বাবা-মা আছে যারা ছেলে-মেয়েদেরকে মারধর করছে, বকাবকি করছে, অভদ্র আচরণ করছে, অপমান করছে। বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এগুলো আমরা দেখেও না দেখার ভাব করছি।

আমরা তখন একটি বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাই। আমরা ভাবতে থাকি শাসনের নামে এই ফিজিক্যাল অথবা মেন্টাল এবিউজ কি ঠিক আছে না এটি সত্যিই বড় ধরনের কোন সমস্যা। শুধু যে ছেলে-মেয়েরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা নয়। অনেক সময় দেখা যায় স্বামী স্ত্রীকে মারধর করছে। এই যে বিষয়গুলো, এ সমস্তের কারণেও অনেক সময় পরিবারের ছেলে-মেয়েরা উদ্বিগ্ন অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে পারে অথবা ডিপ্রেশনের বা বিষন্নতার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে ছেলে-মেয়েরা যখন এর কোন উত্তর খুঁজে না পায় যে, কেন এমন হচ্ছে।

 

প্রশ্ন : ব্যুলিং (bullying) এর শিকার হলেও কি ডিপ্রেসড হতে পারে ছেলে-মেয়েরা? এরকমটা কি হচ্ছে এখানে বাঙ্গালী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে?

উত্তর : ব্যুলিং যেটা হয় স্কুলে, অনলাইনে বা অন্যত্র সেটাও ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা মেন্টাল হেলথ এর কন্ডিশন তৈরী করতে পারে। আর যে ব্যুলিং করে সে নিজেও কোন না কোন ভাবে মানসিক সমস্যার মধ্যে থাকে বলেই এগুলো করে বেড়ায়। যারা ব্যুলিং এর শিকার হয় এবং ক্রমাগত শিকার হতে থাকে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পায়, তারা যদি নিরাপদ অনুভব না করে তবে একটি পর্যায়ে এসে তারাও ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে। এদের কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। এ কারণে, যারা ব্যুলিং করে এবং যারা ব্যুলিং এর শিকার হয় তাদের উভয়ের জন্যই মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।

 

প্রশ্ন : এখানে ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার চাপ হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়। এই চাপের সঙ্গে ডিপ্রেশনের কোন সম্পর্ক আছে কি?

উত্তর : এটা অনেকটাই স্বাভাবিক। হঠাৎ একটা বড় পরিবর্তনের কারণে লেখাপড়ার চাপ বৃদ্ধি পেলে যে কেউ নিজেকে অসহায় ভাবতে পারে বা নিরাশ হয়ে পড়েতে পারে একটা পর্যায়ে। এর জন্য ভয় পাবার কিছু নেই বা লজ্জিত হবারও কিছু নেই। আমি আমার নিজের সহপাঠীদের অনেককেই দেখেছি এরকম সমস্যায় ভুগেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সাপোর্ট সিস্টেম। এই সাপোর্ট আসতে পারে সহপাঠীদের কাছ থেকে অথবা কোন বন্ধুর কাছ থেকে বিশেষ করে যারা নিজেরাও হয়তো একই সমস্যায় ভুগছে। যখন একজন ভুক্তভুগি দেখে সে একা নয়, আরো ভুক্তভুগি আছে তখন তারা অনেকটাই সহজ হয়ে আসতে পারে। এটা একটা বড় সহযোগিতা। কিন্তু এই সহযোগিতাটি প্রবাসে আমরা বাংলাদেশী ছেলে-মেয়েরা সাধারণত অনেক বাবা-মায়ের কাছ থেকে যথাযথভাবে পাই না। আমরা বাবা-মায়ের কাছে সহজভাবে বলতে পারি না যে, প্রতি সেমিস্টারে ৪টা কি ৫টা সাবজেক্ট নিলে খুব কঠিন হয়ে যাবে পাশ করা বা ভাল রেজাল্ট করা। অনেক বাবা-মায়েরাও এ বিষয়ে ছেলে-মেয়েদের সমস্যাটি বুঝতে চান না। তাদের এক কথা, চার বছরের কোর্স চার বছরেই শেষ করতে হবে। কোর্স শেষ করতে গিয়ে সময় বেশী নিলে আমাদের বদনাম হবে, নাক কাটা যাবে। এরকম একটি মনোভাব আমাদের কিছু কিছু বাংলাদেশী বাবা-মায়েদের মধ্যে বিরজমান। এরকম পরিস্থিতিতে ছেলে-মেয়েরা ভীত হয়ে পড়ে, অসহায় হয়ে পড়ে এবং নিরাশ হয়ে পড়ে।

আমার সাজেশন হলো, এরকম অবস্থায় পতিত হলে ছেলে-মেয়েরা স্কুলের কাউন্সিলিং সার্ভিসের বা স্টুডেন্ট এ্যাভাইজরী কমিটির স্মরণাপন্ন হতে পারে সাহায্যের জন্য। বাবা-মাকে খুশী করার জন্য নিজের জীবনকে কঠিন করে তোলার কোন প্রয়োজন নেই। আগে নিজের কথা ভাবতে হবে। চার বছরের কোর্স যদি পাঁচ বছরে শেষ করা যায় সফল ভাবে তবে সেটা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে। ছেলে-মেয়েদের জন্যও বাবা-মায়েদের জন্যও। কোন কোন বাবা-মা হয়েতো বাইরে থেকে খুব কঠিন মনোভাব দেখায়। কিন্তু দেরীতে হলেও যখন ছেলে-মেয়েদের সাফল্য দেখে তখন তরা খুশীই হয়।

 

প্রশ্ন : বাবা-মা অনেক সময় ভাল রেজাল্ট করার জন্য ছেলে-মেয়েদের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকেন। অন্য ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন তারা ভাল করছে তুমি কেন পারছ না। ডিপ্রেসড হওয়ার পিছনে এগুলো কোন ভূমিকা থাকে কি?

উত্তর : এর প্রভাবটা ছেলে-মেয়েরদের উপর বেশ নেগিটিভ ভাবেই পড়ে। তারা ডিপ্রেশনেরও শিকার হতে পারে। কারণ, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা হলে সেটি একজন ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসকে তলানিতে নামিয়ে দেয়। কারো আত্মবিশ্বাসকে যখন খর্ব করা হয় তখন তার প্রভাবটা নানাভাবে হতে পারে। মানসিক ভাবে বিষন্ন হওয়া ছাড়াও একজন ব্যক্তির মনে উদ্বিগ্নতার জন্ম দিতে পারে। সুতরাং অন্যের সঙ্গে তুলনা করার আগে খুবই সতর্ক থাকতে হবে শব্দ চয়নের বেলায়। আমরা সবাই চাই সেরাটা হতে। বাস্তবতা হলো সেটি সবার বেলায় সম্ভব হয় না। সে কারণে আমাদেরকে প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিগত শক্তিমত্তাকে আলাদাভাবে বিচার করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি শিশুরই কোন না কোন বিষয়ে মেধা বা গুণ আছে। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে শিশুটির যে বিষয়ে গুণ আছে সেটির উপর জোর দিন, সেই গুণটিকে উৎসাহিত করুন নানান রকম ইতিবাচক কথা বলে।

প্রশ্ন : প্রবাসে বাঙ্গালী ছেলে-মেয়েরা ঘরে এক সংস্কৃতি এবং বাইরে আরেক সংস্কৃতির মধ্যে বড় হয়। এই দুই সংস্কৃতির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তার প্রভাবটা কিরকম হয় এবং এর কারণেও কি ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে?

উত্তর : ছেলে-মেয়েরা ঘরে দেখে এক সংস্কৃতি আর বাইরে গিয়ে মুখমুখি হয় আরে সংস্কৃতির। এটি অবশ্যই তাদের মনে একধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এবং আইডিয়েন্টি ক্রাইসিস তৈরী করে। আমি কি বাঙ্গালী, আমি কি কানাডিয়ান, না আমি বাঙ্গালী কানাডিয়ান। কোনটা আমি? এই প্রশ্ন অবশ্যই উঠে।

যখন অন্য সংস্কৃতির কারো সঙ্গে কোন বিষয়ে কথা হয় একজন বাংলাদেশীর তখন হয়তো দেখা যায় তার অভিমতের সঙ্গে বাংলাদেশী তরুনের অভিমত মিলেনা। ফলে এরকম পরিস্থিতিতে ঐ তরুনের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি পারে বিভিন্ন পর্যায়ে। এটি একধরণের মানসিক সংকট বা মেন্টাল ক্রাইসিস। আর এই ক্রাইসিস থেকে মেন্টাল এংজাইটি বা ডিপ্রেশন এর সৃষ্টি হতে  পারে।

 

প্রশ্ন : কোন কোন পরিবারে ছেলে-মেয়েদেরকে হিজাব বা বোরখা পরতে বাধ্য করা হয়। এর কারণেও কি ডিপ্রেশন সৃষ্টি হতে পারে?

উত্তর : হিজাব বা বোরখা পরতে বাধ্য করাটা এক ধরণের মানসিক চাপ অবশ্যই। আর যে কোন ধরণের মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হলে একজনের মনে এংজাইটি বা ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হতে পারে। এটি বাচ্চাদের উপর এক ধরণের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা। যে সকল বাবা-মা এই ধরনের আচরণ করেন তাদেরকে আমি বলতে চাই, ধর্মকে ভাল করে জানুন। ধর্মে কোন কিছু জোর করে আরোপ করার কথা বলেনি। ইসলাম ধর্ম এই বিষয়ে সুষ্পষ্ট। ধর্ম প্রচার করুন কিন্তু বল প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। পোশাকে শালীনতা বজায় রেখে শরীর ঢাকা থাকলেই হয়।

 

প্রশ্ন : যদি কোন বাবা-মা বুঝতে পারেন যে তাদের ছেলে বা মেয়ে ডিপ্রেশনে ভুগছে তবে প্রাথমিক পদক্ষেপ কি হওয়া উচিৎ?

উত্তর : প্রথমেই ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাদেরকে জানাতে হবে যে, আমরা কিছু একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। বিষয়টি নিয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমরা এ বিষয়ে তোমাকে সাহায্য করতে চাই। আমরা তোমাকে অভিযুক্ত করছি না কোন বিষয়ে। শুধু জানতে চাচ্ছি কি হয়েছে তোমার।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, প্রথম প্রচেষ্টাতেই হয়তো সফল হওয়া যাবে না। ছেলে-মেয়েরা হয়তো এ বিষয়ে কথা বলতে চাইবে না। বা কোন কিছু ঘটেছে এই কথা স্বীকারও করতে চাইবে না। তাই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার চেষ্টা করুণ তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য। প্রথম সপ্তাহে সফল না হলে দ্বিতীয় সপ্তাহে চেষ্টা অব্যাহত রাখুন, প্রয়োজনে তৃতীয় সপ্তাহেও। হয়তো তখন সে তার মুখ খুলবে। চতুর্থ সপ্তাহে হয়তো সে আরো বিস্তারিতভাবে মনের সমস্যাগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরবে। এটা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

যদি মনে করেন আপনার সন্তানের যে অবস্থা তাতে চূড়ান্ত কিছু ঘটে যেতে পারে তবে সাথে সাথে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে হবে আপনাকে।

আর বিষয়টি না লুকিয়ে আপনার পরিবারের সবাইকে জানান, আপনার প্রতিবেশী, আপনার বন্ধু-বান্ধব সবাইকে জানিয়ে রাখুন যাতে তারাও এই ব্যাপারে সহায়ক হন যখন তার সঙ্গে দেখা হয় বা কথা হয়। এটা খুবই জরুরী।

যারাই বিষন্নতায় ভুগছে তাদের প্রতি আমার পরামর্শ – আপনারা এগিয়ে আসুন, কথা বলুন পরিবারের সদস্যদের সাথে, বন্ধুদের সাথে। যার উপর নির্ভর করতে পারেন বা যাকেই বিশ্বাস করুন তার সাথেই কথা বলুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সমস্যাটি গোপন রাখবেন না, বা জিইয়ে রাখবেন না। মনে রাখবেন, ‘শেয়ারিং পেইন ডিক্রিজেজ পেইন’।

আপনি যদি জানতে পারেন আপনার পরিচিত কেউ মেন্টাল ইলনেস এ ভুগছে তবে তাকে সহায়তা দানের জন্য এ বিষয়টির উপর একটু লেখাপড়া করুন। অনলাইনে সার্চ করুন, ভিডিও দেখুন। শিখুন আপনার ভূমিকা কি হওয়া উচিৎ, শিখুন এই পরিস্থিতিতে আপনি কি অবদান রাখতে পারেন। আপনার কমিউনিটিতে ডিপ্রেশন মোকাবেলায় কি কি সুযোগ রয়েছে সেটাও জেনে রাখুন। ডিপ্রেশন এর কারণে যখনই কারো সহযোগিতা দরকার, স্বপ্রনোদিত হয়ে এগিয়ে আসুন।

বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আমার সবিনয় আহ্বান, এ বিষয়ে এ্যওয়ারনেস বা সচেতনতা গড়ে তুলুন যাতে করে আমাদের আগামী জেনারেশন ডিপ্রেশন বলুন, বিষন্নতা বলুন বা মানসিক রোগ বলুন এগুলোতে না ভুগে যেভাবে আজকের জেনারেশন ভুগছে।

মন্তব্য