স্পাউস বা পার্টনাদের কন্ডিশনাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সী আইনে বড় ধরনে পরিবর্তন

 

দুই বছর ঘর করার বাধ্যবাধকতা বাতিল

spouse sponsorship

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক : সরকার স্পাউস বা পার্টনারদেরকের যে কন্ডিশনাল পার্মান্টে রেসিডেন্সী দেয়ার আইন করেছিল তা বাতি করে দিয়েছে। ফলে স্পন্সর্ড হয়ে আসা কোন স্পাউস বা পার্টনারকে এখন থেকে আর দুই বছর ধরে ঘর করতে হবে না তার পার্মান্টে রেসিডেন্সী ধরে রাখার জন্য। যারা ইতিমধ্যে স্পন্সর্ড হয়ে কানাডায় এসেছেন তারাও এই আইনের সুবিধা পাবেন। যারা কানাডায় আসার পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারাও এই আইনের সুবিধা পাবেন। খবর টরন্টো স্টারের।

উল্লেখ্য যে, ঐ কন্ডিশনাল পার্মান্টে রেসিডেন্সী আইনের কারণে স্পন্সরর্ড হওয়া অনেক স্পাউস বা পার্টনার নির্যাতনের শিকার হলেও মুখ বুজে তা সহ্য করতেন। কারণ, নির্যাতনের হাত থেকে বাচার জন্য আলাদা হয়ে গেলে পার্মান্টে রেসিডেন্সী হারাতে হতো ঐ আইনে।

ইমিগ্রেশন মন্ত্রী আহমেদ হোসেন বলেন, এই আইনটি বাতিল করার মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণ হলো যে, ফ্যামিলি রিউনিফিকেশনের বিষয় সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

কানাডার মিনিস্টার অব স্ট্যাটাস অব উইম্যান মরিয়ম মুন্সেফ বলেন, “আমাদের সরকার জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স কমিয়ে আনার বিষয়ে অঙ্গিকারাবদ্ধ। কন্ডিশনাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সী আইনে পরিবর্তন আনার ফলে কানাডায় স্পন্সর্ড হয়ে আসা স্পাউস বা পার্টনাররা এখন আর আগের মত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না।”

২০১৫ সালে পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর এক গবেষণায় দেখা গেছে স্পন্সর্ড হয়ে আসা স্পাউস বা পার্টনারদের মধ্যে শতকরা ৬৪ ভাগই মহিলা এবং এদের বেশীরভাগই মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা।  সরকারী তথ্যে দেখা গেছে কন্ডিশনাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সী আইন প্রবর্তনের পর প্রথম দুই বছরে ৫৭ জন মহিলা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ আনেন। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম দুই বছর একত্রে ঘর করার যে আইনী বাধ্যবাধকতাটি ছিল তা বাদ দেয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তারা। ঐ ৫৭ জন মহিলার মধ্যে শতকরা ৭৫ জনের আবেদনই গ্রহণ করা হয়েছিল।

মন্তব্য