ইনফরমেশন টেকনোলজি সেক্টরের লোকজনদের জন্য এই মুহূর্তে ওন্টারিওতে আসার সূবর্ণ সূযোগ

 

immigration 1

তুমি কেমন কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট! আমি তোমার মামা, এতো শিক্ষিত, আর তুমি আমাকে কানাডা নিতে পারছো না? হাজারে হাজারে রিফিউজি সিরিয়া থেকে কানাডা চলে যায়, আর তুমি কি করো?” – এইরকম এক ঝাড়ি গতকাল আমার এক মামা বাংলাদেশ থেকে আমাকে দিলো।
মামাকে কি করে বোঝাই আনতে চাইলেই যেমন আমি আনতে পারি না, তেমন আসতে চাইলেই কেউ কানাডা আসতে পারে না। এটি একটি নিয়মের দেশ, নিয়মের বাইরে কারো কোনো কিছুই করার নেই।
এতো বিশাল একটি দেশ, যেটি সবসময়ই অভিবাসীদের উপর নির্ভর করে এসেছে এবং করবেও, চলে নিয়মের মধ্যে। অভিবাসনের নিয়ম পরিবর্তিত হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। এই মুহূর্তে ওন্টারিওতে আসার সূবর্ণ সূযোগ আছে ইনফরমেশন টেকনোলজি সেক্টরের লোকজনদের জন্য। গ্রাফিক ডিজাইনার, ওয়েবডেভালপার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলোজিস্টস, কম্পিউটার প্রোগ্রামার এন্ড ইন্টারাক্টিভ মিডিয়া ডেভলপার , ডাটাবেস এনালিস্ট এন্ড ডাটা এডমিনিস্ট্রেটর, ইনফরমেশন সিস্টেমস এনালিস্টস এন্ড কন্সাল্ট্যান্টস, ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার, টেলিকম্যুনিকেশন ক্যারিয়ার্স ম্যানেজার, কম্পিউটার এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ম্যানেজার এইসব পদের জন্য অন্টারিও এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে মাত্র ৪০০ নম্বর পেলেই আবেদন করার সুযোগ আছে, কোনো জব অফার লাগবে না । মজার ব্যাপার হলো ইনফরমেশন টেকনোলজি শুনলেই আমরা ধরে নেই শুধু বোধ হয় কম্পিউটার আর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররাই বুঝি আবেদন করতে পারবে। বাংলাদেশে প্রচুর গ্রাফিক ডিজাইনার, ওয়েবডেভেলপার কম্পিউটার টেকনোলোজিস্টস আছে যারা এইসব ক্যাটাগরিতে পড়ে। আপনারা সবাই জানেন গ্রাফিক ডিজাইনিং এবং ওয়েবডেভেলপিং এর অধিকাংশ কাজই বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সস্তা লেবার এর দেশ থেকে করে আনা হচ্ছে। তাই দেরি না করে আপনার পরিচিত কেউ এই সেক্টরে থাকলে আজি অন্টারিও এক্সপ্রেস এন্ট্রি তে আবেদন করতে বলুন। স্বপ্নের দেশ কানাডাতে চলে আসতে পারবে চোখের পলকে।
লিভ ইন কেয়ারগিভার প্রোগ্রাম চালু আছে একটু অন্য নামে। ধনকুবের ইহুদি ব্যাবসায়িরা কানাডা রেভিনিউ এজেন্সিকে ৫ লক্ষ ডলার বাৎসরিক ইনকাম দেখায়। ওরা বাচ্চার বা বয়স্ক লোকের দেখভালের জন্য বিদেশী কেয়ারগিভার নিয়ে আসে হর হামেশাই। আমাদের যারা বাৎসরিক ইনকাম বেশি দেখতে পারেন, তারা বাংলাদেশ থেকে কেয়ারগিভার নিয়ে আসতে পারেন। এই কেয়ারগিভার তিন বছর এদেশে কাজ করার পর পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
স্কীলড ইমিগ্র্যান্ট হিসাবে আসতে হলে এখন সার্ভিস কানাডা ভ্যালিডেটেড জব অফার লাগছে, যা পাওয়া খুবই দুস্কর। স্কীলড লোকজন বিশেষ করে ডেন্টিস্ট, নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, শেফ, কুক, বুচার, পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার, সোশ্যাল ওয়ার্কার, কানাডাতে কোনো কলেজে গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করতে আসতে পারে। কানাডিয়ান সার্টিফিকেট এবং এক বছরের ডিপ্লোমা নিয়েই তারা এক্সট্রা পয়েন্ট নিয়ে পার্মানেন্ট রেসিডেনন্ট হওয়ার আবেদন করতে পারে।
এরকম সময় উপযোগী ইমিগ্রেশন আলোচনা করবো আবার পরবর্তী সংখ্যায় । আজ এপর্যন্তই- ভালো থাকুন এবং ভালো রাখুন সকলকে।

মাহমুদা নাসরিন, রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট R (517333)। nasrinmahmuda8@gmail.com 

-টরন্টো

মন্তব্য