সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কানাডায় নবাগতদের মধ্যে অ্যালার্জির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়

alergia

বেলেন ফেব্রেস-কর্ডেরো

কানাডায় সদ্য আগত অভিবাসীদের মধ্যে কানাডীয়দের তুলনায় অ্যালার্জির পরিমাণ বেশ কমই দেখা যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবিবাসীদের মধ্যে অ্যালার্জির পরিমাণ বেড়ে যায়। জাতীয পর্যায়ের এক সমীক্ষায় এমনটাই দেখা গেছে। গবেষকরা দেখেছেন যে, জাতিগত খাবার খাওয়া এবং তাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে তা অভিবাসী জনগণের মধ্যে অ্যালার্জির প্রকোপ হ্রাস করতে সহায়ক হতে পারে।

কানাডিয়ান সোসাইটি অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমিউনোলজির (সিএসএসিআই) প্রেসিডেন্ট ড. ডেভিড ফিশার বলেন, “অভিবাসীরা যখন কানাডার মতো পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে আসে তখন তাদের শরীরে অ্যালার্জি নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যায়। কিন্তু এর কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনও জবাব আমাদের কাছে নেই। অবশ্যই এই প্রবণতাটা সত্যিই রয়েছে এবং ব্যাপারটা পরীক্ষা করার দরকার আছে।”

কানাডায় অ্যালার্জি সংক্রমণের হার অনেক দেশের চেয়ে বেশি

এটি সত্য। কারণ কানাডায় অ্যালার্জি সংক্রমণের হার বিশ্বের সর্বোচ্চ। আমেরিকার একাডেমি অব অ্যালার্জি অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ১০-৩০ শতাংশ মানুষের মধ্যে হে ফিভার নামের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ ও তার চেয়ে বেশি বয়সের প্রায় ৭.৮ শতাংশ মানুষ এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়। কিন্তু কানাডায় আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ২০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান বিবেচনা করে গবেষক বিহি ও ইয়াও বোঝার চেষ্টা করেন যে, এদেশের অভিবাসীদের মধ্যেও এই অ্যালার্জি বাড়ছে কি না।

তারা ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমাদের সমীক্ষায় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা স্বাভাবিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছেন, যাতে তাদের চারপাশের পরিবেশ অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ের

মধ্যে নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে, তাদের মধ্যে অ্যালার্জির সংক্রমণ নিয়ে অনুসন্ধানের অভিনব সুযোগ কাজে লাগানো হয়েছে।”

তারা জানান, সমীক্ষাকালে অংশগ্রহণকারীদেরকে প্রশ্ন করা হয় যে তাদের শরীরে খাদ্য-বহির্ভুত কোনও ধরণের অ্যালার্জি আছে কিনাÑ একজন চিকিৎসককে দিয়ে সেটি পরীক্ষা করানো হয়Ñ এরপর জানতে চাওয়া হয়, তিনি কানাডায় অবিবাসী কি না। অবিবাসী হলে তিনি কতদিন ধরে এখানে রয়েছেন। “আমরা এসব প্রশ্নের জবাবের সঙ্গে খাদ্য-বহির্ভুত অ্যালার্জি এবং অভিবাসন সম্পর্কিত অবস্থার মূল্যায়ন করি।”

এই পদ্ধতি অনুসরণ করে সমীক্ষায় দেখা যায় যে, ১০ বছরের কম সময় ধরে কানাডায় রয়েছেন এমন অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ১৪.৩ শতাংশের খাদ্য-বহির্ভুত অ্যালার্জি রয়েছে। অন্যদিকে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছেন এমন অভিবাসী এবং অভিবাসী নন এমন লোকেদের মধ্যে যথাক্রমে ২৩.৯ এবং ২৯.৬ শতাংশের খাদ্য-বহির্ভুত অ্যালার্জি রয়েছে।

ড. ফিশার ব্যাখ্যা করেন, এই ফলাফল থেকে ধারণা করা যায় যে, পরিবেশগত পরিস্থিতি যেমন দূষণ, লবণাক্ততার স্তর এবং খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি কানাডায় অ্যালার্জি পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখে। এদিকে ড. বিহি ও ইয়াও বলেন, অ্যালার্জি বেড়ে যাবার কারণগুলো কি তা সুনির্দিষ্ট করে জানতে এবং উৎস দেশের সঙ্গে এর বেড়ে যাবার সম্পর্ক কি তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তারা নবাগতদের স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের জন্য বহুমুখি সাংস্কৃতিক কৌশল গ্রহণের ওপরও জোর দেন।

 

জাতিগত খাদ্য সহায়ক হতে পারে

ড. বিহি ও ইয়াও আরও বলেন যে, এটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, অ্যালার্জি হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বৈকল্য থেকে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যহীনতাজনিত উপসর্গ। তাদের পরামর্শ হলো, “অভিবাসীদেরকে তাদের জাতিগত খাদ্য খাওয়ার এবং তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিতে পারলে সম্ভবত সেটা তাদের জন্য শরীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট না করেই নতুন পরিবেশের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে খাপখাইয়ে নিতে সহায়ক হবে।

তারা বলেন, “অ্যালার্জিজনিত রোগব্যাধির ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের প্রবণতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমাদের ভরসা হলো এটিকে প্রতিরোধ করা। আর প্রতিরোধ করা তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা এর ঝুঁকির দিকগুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারবো।” তারা বলেন, অভিবাসন, পরিবেশ এবং অ্যালার্জির মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেই তা তাদের রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়ক হতে পারে।

ড. ফিশার বলেন, “চিকিৎসকদের মূল ভূমিকা হতে হবে রোগীদের অ্যালার্জি আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া এবং রোগ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কোনওরকম সংশয় থাকলে তাকে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো।”

-নিউ কানাডিয়ান মিডিয়া

মন্তব্য