পুরানো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রকৃত স্বাদ ও খোশবুটাকে প্রবাসীদের সামনে হাজির করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য

টরন্টোর স্টার হাক্কা চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান কুজিন : একই ছাদের নিচে হাক্কা ও দেশী স্বাদের সমাহার

- প্রবাসী ভোজনরসিকরা আমাদের স্টার রেস্টুরেন্ট এর নিয়মিত গ্রাহক।   

- ৩০ জন থেকে ১২ শ লোকের খাবার সরবরাহের ক্যাপাসিটি রয়েছে।

- আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি গ্রাহক সন্তুষ্টি বজায় রাখার জন্য। 

- গতানুগতিক ধারায় আমরা পথ চলি না ।

- আমরা চাই প্রবাসে আমাদের বাংলাদেশী খাবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়–ক।

প্রবাসী কণ্ঠ : কথা হচ্ছিল টরন্টোর স্টার হাক্কা চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান কুজিন এর স্বত্বাধিকারী রিয়াজ আহমদ এর সঙ্গে। অসম্ভব পরিশ্রমী ও এবং একজন স্বপ্নচারী মানুষ তিনি। স্কারবরো ও মিসিসাগায় অবস্থিত তাজমহল ফুডস এরও স্বত্বাধিকারী তিনি।

রিয়াজ আহমদ জানালেন শুরু থেকেই প্রবাসীদের ভালবাসা ও আস্থা নিয়ে পথ চলা শুরু হয় স্টার হাক্কা চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান কুজিন এর। ইতিমধ্যে তিন বছর পার হয়ে গেছে। প্রবাসীদের ভালবাসার কমতি ঘটেনি এক রত্তিও, কমেনি আস্থাও। বরং তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে মিসিসাগায় খোলা হয়েছে স্টার এর দ্বিতীয় ব্রাঞ্চ।

রিয়াজ আহমদ বলেন, মুনাফার চেয়ে গ্রাহকদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সততাই আমাদের কাছে বেশী গুরুত্বর্পূণ। আমরা চেষ্টা করে আসছি পুরানো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রন্ধন শিল্পের খ্যাতি ও খোশবুটাকে প্রবাসীদের সামনে হাজির করার জন্য। গ্রাহকরা যাতে শতভাগ পরিতৃপ্তি পান আমাদের রান্না করা খাবার খেয়ে সে ব্যাপারে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালি যাচ্ছি।

আমাদের রেস্টেুরেন্টে খাবার রান্না ও পরিবেশনের বেলায় পুরাতন ঢাকার ঐতিহ্যকে অনুসরণ করতে গিয়ে আমাদেরকে রীতিমত গবেষণা করতে হয়েছে। আমাদের যে প্রধান শেফ তাকে দুই দফা ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পুরাতন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রান্না হাতে কলেমে শিখানোর জন্য। এ কারণে টরন্টোতে আমাদের রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ ও গুণগত মান অন্যান্যদের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য মন্ডিত।

Star 1

রিয়াজ আহমদ বলেন, আমরা কাচ্চি বিরিয়ানি বলতে বুঝি খাসির মাংস দিয়ে তৈরী করা বিরিয়ানী। কিন্তু এখানে দেখা যায় অনেকেই মুরগী বা গরুর মাংস দিয়ে তৈরী করা বিরিয়ানীকে কাচ্চি বিরিয়ানী বলে চালিয়ে দিচ্ছেন যাতে কম খরচে অধিক মুনাফা করা যায়। কিন্তু আমাদের রেস্টেুরেন্টে আমরা সম্পূর্ণভাবে খাসির মাংশ দিয়েই তৈরী করে থাকি কাচ্চি বিরিয়ানী। আমাদের নিয়মিত গ্রাহক যারা তারা সেটি জানেন। তাছাড়া অরিজিনাল কালিজিরা চালও

আমরা ব্যবহার করে থাকি কাচ্চি বিরিয়ানী রান্না করার সময়। ফলে এর স্বাদটাও

পুরানো ঢাকার অরিজিনাল কাচ্চি বিরিয়ানীর মতই হয়।

কাস্টমার এপ্রিসিয়েশন আমাদের অনেক ভাল। ফলে আমরা বেশ অনুপ্রেরণা পাই গ্রাহক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে। তারা রেস্টুরেন্ট এর খাবারের মান ও স্বাদ নিয়ে যে সুনাম করেন তা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে আরো উন্নত সেবা প্রদান করার ক্ষেত্রে। আমাদের গ্রাহকদের অনেকেই বলেন ডেনফোর্থসহ গ্রেটার টরন্টোর অন্যান্য এলাকাতেও ব্রাঞ্চ খোলার জন্য।

Star 2

আমরা যে ঘি ব্যবহার করি খাবার রান্না করার সময় তা একেবারে অরিজিনাল গাওয়া ঘি এর মতই। আমরা নিজেরাই তৈরী করি এই ঘি। পুরানো ঢাকার ট্রেডিশন অনুযায়ী তৈরী করা হয় এই ঘি। এটি একেবারেই ভেজাল মুক্ত। বাজার থেকে রেডিমেড ঘি কিনলে তাতে অরিজিনাল স্বাদ বা সুগন্ধটা সবসময় থাকে না। আর ভেজালের

আশংকাতো রয়েছেই।

রিয়াজ আহমদ বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা নয়, পুরানো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের রিয়েল টেস্ট টা গ্রাহকদেরকে দেওয়াই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের তৈরী করা খাবারের মধ্যে আছে প্রধানত ঢাকাইয়া স্বাদের কাচ্চি বিরিয়ানী, বিয়ে বাড়ির রোস্ট, মোরাগ মোসাল্লাম, মাটন গ্লোসী, বিফ তেহারী, চিকেন রোস্ট সহ আরো বেশ কয়েকটি পদ। বিয়ে বাড়িতে আস্ত খাসির রোস্ট আমরা সরবারাহ করে থাকি পুরানো ঢাকার স্টাইলে। এটি ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টরন্টোতে।

star 3

আমাদের তৈরী সিংগাড়া বেশ জনপ্রিয় এখানে। এটি বাংলাদেশী স্টাইলে তৈরী করা হয়। গত রোজার সময়  আমরা জিলাপী তৈরী করেছিলাম যা বিক্রি হয়েছে হটকেকের মত। প্রতিদিন বিকেলে লম্বা লাইন পড়ে যেতো রেস্টুরেন্টে।

আমাদের রেস্টেুরেন্টে রান্না করা কাচ্চি বিরিয়ানীর ডিমান্ড সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশী ছাড়াও পাকিস্তানী এবং পশ্চিম বঙ্গের অনেক কাস্টমার আসেন আমাদের রেস্টুরেন্টে। মেইনস্ট্রিমের শ্বেতাঙ্গ কাষ্টমারও আসেন।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে যারা ভোজনরসিক তারা আমাদের রেস্টুরেন্ট এর নিয়মিত গ্রাহক। আমাদের ক্যাটারিং সার্ভিস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জন্মদিন, বিয়ে, হাউজ ওয়ার্মিং পার্টি ইত্যাদি সব ধরণের অনুষ্ঠানের জন্যই আমাদের রয়েছে ক্যাটিরিং সার্ভিস। আমাদের রেস্টুরেন্ট থেকে ৩০ জন থেকে শুরু করে ১২ শ লোকের খাবার সরবরাহ করতে পারি। আমাদের আরো রয়েছে ডেলিভারী সিস্টেম। একশ জন বা তারো বেশী হলে আমার ফ্রি ডেলিভারী করে থাকি যদি তা ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়ে থাকে।

আমাদের প্রধান যে সেফ তিনি একজন নেপালী বংশোদ্ভূত। আগেই বলেছি, তাকে ইতিমধ্যেই দুই বার ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পুরানো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরীর ট্রেনিং দিয়ে এনেছি। ফলে পুরানো ঢাকার সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবারের খোশবুটা তার রান্নায় পুরোমাত্রায়ই আসে।star 4

ঢাকার হাজির বিরিয়ানীর নাম সবাই শুনেছেন। সেই বিরিয়ানীর টেস্ট প্রায় শতভাগই আমাদের এখানে পান গ্রাহকরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর হাজির পরিবার ছাড়া এই কাজটি কেউ ঠিক মত করতে পারেনি। আমরাই প্রথম করলাম। প্রতি শনি ও রবিবার আমরা এই বিরিয়ানী পরিবেশন করি আমাদের রেস্টুরেন্টে। নেপালী শেফ ছাড়াও আমাদের এখানে বাংলাদেশী ও ইন্ডিয়ান শেফ রয়েছে।

আমাদের এখানে যে হাক্কা চাইনিজ রান্না হয় সেটির বিশেষত্ব হলো, এটি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। অনেকেই

তাৎক্ষনিকভাবে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য অধিক পরিমান সায়াসস সহ আরো কিছু উপাদান ব্যবহার করেন। আমরা তা করি না। সয়াসস অধিক পরিমানে ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়। আমরা খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত উপাদান ব্যবহার করি। ফলে আমাদের খাবার সববয়সী গ্রাহকরাই পছন্দ করেন। আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি গ্রাহক সন্তুষ্টি বজায় রাখার জন্য। গতানুগতিক ধারায় আমরা পথ চলি না।

কানাডার নভাস্কোশিয়া থেকে আমদানী করা লবস্টারকে বাঙ্গালী কায়দায় রান্না করে বেশ সাড়া পেয়েছি। গ্রাহকরা বেশ পছন্দ করেন এটি।

star5

আমরা খুব শীগ্রই ফ্রেঞ্চাইজ এর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ৩ টি রেস্টুরেন্ট খোলা হবে। এর একটি হবে ড্যানফোর্থের বাঙ্গালী পাড়ায়। বাকি দুটির একটি হ্যামিলটনে এবং অন্যটি এজাক্সে। এ ব্যাপারে কেউ আগ্রহী হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

রিয়াজ রহমান বলেন, কাস্টমারদের প্রতি আমার ম্যাসেজ হলো, খাবারের রিয়েল টেস্টকে উন্নত করার জন্য আমাদেরকে নিয়মিত ফিডব্যাক দিন। আমরা আমাদের চলার পথে আপনাদের যে সহযোগিতা পাচ্ছি সেটি আরো বেশী করে পেলে আমরা আপনাদের সেবায় আমরা আরো বেশী করে অনুপ্রাণিত হতে পারবো। আমরা চাই প্রবাসে আমাদের বাংলাদেশী খাবারের

সুনাম ছড়িয়ে পড়–ক। আমরা এর শুরুটা করলাম। আগামীমে যারা এই ব্যবসায় নতুন আসবেন তারা এই প্রক্রিয়াকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই আমাদের আশা।

star6

 

মন্তব্য