অন্য ধনী দেশগুলোর তুলনায় কানাডা শিশুদের জন্য তেমন সেরা স্থান নয়: ইউনিসেফ

কানাডার ২২ শতাংশ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। ছবি : উইন্ডসর স্টার

কানাডার ২২ শতাংশ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। ছবি : উইন্ডসর স্টার

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক :  ইউনিসেফের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের যোগান এবং শিশু হত্যা ও টিনেজ শিশুদের আত্মহত্যার গড় হারের দিক থেকে এগিয়ে থাকা ৪১টি ধনী দেশের তালিকায় কানাডার অবস্থান ৩৭তম এবং সেজন্য এক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সম্পদশালী দেশগুলোতে শিশুর কল্যাণ সম্পর্কিত ইউনিসেফের ১৪ তম রিপোর্টে বলা হয়, কানাডার ২২ শতাংশ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে এবং শিশুদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে গত এক দশকে কোনওরকম উন্নতি হয়নি অথবা আরও অবনতি হয়েছে। খবর দি কানাডিয়ান প্রেসের।

কানাডার টিনেজ শিশুদের মানসিক স্বাস্থের অবনতি ঘটেছে। বয়ঃসন্ধির শিশুদের ২২ শতাংশের ক্ষেত্রে সপ্তাহে একবারের বেশি মানসিক সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ পায় বলে গত বুধবার প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়। এতে আরও দেখানো হয়েছে যে, টিনেজ শিশুদের আত্মহত্যার ঘটনার দিক থেকে কানাডার অবস্থান ৩১ তম।

রিপোর্টে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার দেশগুলোর অবস্থান তুলে ধরা হয়। এতে শিশুদের সার্বিক কল্যাণের দিক থেকে কানাডার অবস্থান ২৫ তম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থার তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে।

২৭টি সূচকের ভিত্তিতে প্রণীত রিপোর্টের সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও চিলি। কানাডা ২১টি সূচকের তথ্য সরবরাহ করতে পেরেছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, অস্বাস্থ্যকর ওজন এবং গালমন্দ করার মত বিষয়।

ইউনিসেফ কানাডার এক সম্পূরক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলোর তুলনায় কানাডার শিশুরা কেমন আছে সে বিষয়ে অনুরূপ সূচকে আমরা ২০১৩ সালে ১৭ তম এবং ২০১৬ সালে ২৩ তম (সার্বিক) অবস্থানে ছিলাম। ইউনিসেফের মূল রিপোর্টের ভিত্তি হলো ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১৯৩ টি দেশের গৃহীত তথাকথিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য যাতে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিরসন, শিক্ষার সুযোগ দান, সহিংসতা থেকে শিশুদের রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউনিসেফ কানাডার প্রেসিডেন্ট ডেভিড মোরলে বলেন, সূচকে যেসব দেশ এগিয়ে রয়েছে তারা শিশুদের দিবাযতœসহ প্রাথমিক পর্যায়ের উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। তিনি বলেন, “দরিদ্রতম শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করা হলে তার বড় ধরণের সুফল পাওয়া যায়। সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার হলে পরিবারও শক্তিশালী হতে পারে।”

তিনি বলেন, গত বছর চালু করা শুল্কমুক্ত শিশু ভাতা কতটা ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে সেটা বলার সময় এখনও আসেনি।

রিপোর্টে বলা হয়, এটি একটি প্রচলিত ধারণা যে, শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য কানাডা হলো বিশ্বের সেরা স্থান এবং এখানে রয়েছে চমৎকার আবহাওয়া।

শিশুর ওজন সম্পর্কিত অস্বাস্থ্যকর অবস্থার ক্ষেত্রে সূচকে কানাডার অবস্থান ৪১টি দেশের মধ্যে ২৯ তম। তরুণ প্রজন্মের প্রায় ২৫ শতাংশই স্থ’ূলোকায়। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এর গড় হার হলো ১৫ শতাংশ।

কানাডার ফার্স্ট নেশন্স চাইল্ড অ্যান্ড ফ্যামিলি কেয়ারিং সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সিনডি বলেন, রিজার্ভে বসবাসকারী আদীবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে দুঃস্থ শিশুদের চাহিদা পূরণে কানাডা ব্যর্থ হয়েছে।

অটোয়া থেকে তিনি বলেন, “এসব শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শৈশবকালীন সেবার জন্য আমরা সবচেয়ে কম অর্থ বরাদ্দ করবো, এমনকি তাদের জন্য নিরাপদ পানির মতো মৌলিক চাহিদা প্রদানে অস্বীকৃতি জানাবো, আর আশা করবো যে তারা ভালো থাকবে, এটা হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৭ সালে এসে দেশের এক লাখ ৬৫ হাজার শিশুর সঙ্গে বর্ণবাদী বৈষম্য করার সুযোগ কোনও রাজনৈতিক দলেরই থাকতে পারে না।”

মন্তব্য