ম্যায় তো মিলনাকে আশা লাগায়ে

 

Mou Modhubonti

মৌ মধুবন্তী

 

সে আমার বন্ধু ছিল,সে আমার নেশা ছিল,নেশার ঘোরে কথন ছিল,বিকেল বেলার কাব্য ছিল, হলুদ রঙের দৃশ্য ছিল,সকাল বেলার আলসে মাখা ঘুম—

 

দুপুর রোদে মুড়িয়ে রাখা— আমসত্ত্ববেলা।

তার সাথেই আমার ছিল নিত্য নতুন খেলা।

 

দুই জনাতে কথার ছলে,

মেঘের ঘরে বইয়ে দিতাম টোল।

আমাদের ছিল শক্ত চলন,নূপুর টলন।

ভর দুপুরে গরম জামা,

একশ, দু’শ হলে পরে,বলতাম, এবার থামা।

 

ঠান্ডা আপেল ছড়িয়ে দিয়ে,দাঁড়িয়ে সে দেখত কেবল,

কেমন করে দিন বদলে,রাত বদলে রক্তে ঢোকে সাপের বাদল।

সাপুড়ে তার বাঁশীর সুরে,

পার করে দেয় অনেক দূরে,

দূরের কি আর থাকে ঠিকানা?

দিনের আলোয় তালের ভেতর

ঢুকেই আমি হয়ে যেতাম তালকানা।

কোন কিছুই বলতে এখন নেই মানা।

 

সেই তাকে আমি এখন খুঁজে বেড়াই

রক্ত জবা,মনসা তলায়,

কঠিন আলোর নীচে

সে এখন একলা কাঁটা

সময় ফাটা,ফটিক চাঁদের ঘুড়ি

তাকে নিয়ে মনে মনে যেখানে খুশী উড়ি।

 

সে কি এখন বুঝতে পারে?

আমার চিত্ত, চিতার আগুন,

তার কাছে চায় কাঠ,

পুড়বে বলে তার আমার সম্পর্কের খাট।

 

সেই আমার আশাবরি ঠাট,

রাগের ময়ুর, ছলা-কলা,

তবলা তালে উদাস সুরের হাট

তাকে নিয়েই ছিল আমার স্বপ্ন পরিবাট

 

আমার দু:খ ছিড়ে আমি করেছি কুটিকুটি

এই দু:খটা কেমন করে চালে

বিরহের লাল গুটি

আমি দু:খের সাথে করছি এখন কেবল খুনসুটি

 

আমাদের  ছিল সুখ পরিপাটি

পাটির ভেতর লুকিয়েছিল পলাশ ফোটা জুটি

সে আর আমি, দুজনেই ছিলাম অনবদ্য

গল্প বলা, পাথর চলা, নখে ছেঁড়া প্রহরবেলার পদ্য

দুজনেই লিখেছিলাম,দুই জীবনের গদ্য

 

এখন কেমন একলা রসিক

অরিন্দমের বেহাগ—-

 

তারপর সময় ভেংগে সময় আসবে

দুজনেরই মিলন হবে

খাড়া পাহাড় নত হবে

তবুও রাগ বিরাগের যন্ত্র

এসে মন্ত্র পড়ে, উঠবে গেয়ে

 

“ম্যায় তো মিলনাকে আশা লাগায়ে —”

 

৮ জুন,২০১৭

টরন্টো, কানাডা, পৃথিবী

মন্তব্য