বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা ক্ষতিকর

 

অন্টারিওতে সমীক্ষায় দেখা গেছে যেসব লোক দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি

 

যাদেরকে বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বসে কাজ করা কর্মীদের চেয়ে বেশি। ছবি: সিবিসি নিউজের

যাদেরকে বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বসে কাজ করা কর্মীদের চেয়ে বেশি। ছবি: সিবিসি নিউজের

কর্মস্থলে যেসব মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদেরকে তাদের চেয়ারে  বসে কাজ করা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেয়ার আরও একটি কারণ থাকতে পারে।

গবেষকরা যখন অন্টারিওর ৩৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী হৃদরোগমুক্ত সাত হাজার তিন’শ কর্মীর ওপর পরীক্ষা চালান তখন তারা দেখতে পান যে, যাদেরকে বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়েছে তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বসে কাজ করা কর্মেিদর চেয়ে বেশি। খবর সিবিসি নিউজের।

ওয়ার্ক অ্যান্ড হেলথ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিজ্ঞানী এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডালা লানা জনস্বাস্থ্য স্কুলের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পিটার স্মিথ বলেন, “অনেক গবেষণার ফলাফল থেকেই এমন প্রমাণ মেলে যে, দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে

থাকা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। আপনার পায়ে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মত কিছু ঘটতে পারে, শিরায় রক্ত ফিরে আসতে পারে, আপনার পা থেকে রক্ত পাম্প করে হৃদপিন্ডে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আপনার শরীরের ওপর চাপ পড়তে পারে যা আপনার ওপর জারণ চাপ (oxidated stress) বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে আপনার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ”

স্মিথ এবং তার ক্লিনিক্যাল ইভালুয়েটিভ সায়েন্স-এর গবেষক দল বলছেন, যেসব পেশায় কর্মীদেরকে টানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তার মধ্যে রয়েছে ক্যাশিয়ার, পাচক ও মেশিন টুলস অপারেটরদের পেশা।

১২ বছর ধরে গবেষণা চলাকালে দেখা যায়, যাদের নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় নয় শতাংশ ব্যক্তিই প্রধানত দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করেন। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ বেশিরভাগ সময় বসে থেকে কাজ করেন।

২০০৩ সালে কানাডার কমিউনিটি হেলথ সার্ভের এই সমীক্ষায় যাদের নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে তারা লিখিত প্রশ্নপত্রের জবাব দেন। প্রশ্নের মধ্যে ছিলো তাদের বয়স, শিক্ষা, জাতিগত পরিচয়, স্বাস্থ্যগত ধারাবাহিক অবস্থা, উচ্চতা ও ওজন, কাজের পালাক্রম, ধূমপানের অভ্যাস এবং অবসরকালীন শারীরিক তৎপরতা ইত্যাদি।

সমীক্ষার সীমাবদ্ধতা ছিলো এই যে, এতে অংশগ্রহণকারীরা নিজের ইচ্ছামত জবাব দিয়েছেন, তারা মাত্র একবারই জবাব দিয়েছেন এবং কে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করেন সে সম্পর্কে বাস্তব পর্যবেক্ষণের অভাব।

স্মিথ বলেন, “আপনি যদি অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা একজন ব্যক্তিকে কাজের মধ্যে বসার সুযোগ দেন এবং দিনের মধ্যে কয়েকবার এরকমভাবে দাঁড়ানো ও বসার সুযোগ দেন তাহলে হৃদরোগের আশঙ্কা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তা সম্ভবত অনেক ভালো কাজ দেবে।”

‘দাঁড়ানোটা উপবেসনের সমাধান হতে পারে না’

স্মিথ বলেন, সাধারণভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা বা উপবেশন করা স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। আর কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব ফেলে।

এই সমীক্ষায় একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ নেটওয়ার্কের পুনর্বাসন ইন্সটিটিউটের সিনিয়র বিজ্ঞানী ডা. ডেভিড অলটার বলেন, “দাঁড়িয়ে থাকাটা দীর্ঘ সময় ধরে উপবিষ্ট থাকার সমস্যার সমাধান নয়। এর সমাধান সম্ভবত হাঁটাচলা করা। গবেষণায় যা ফলাফল পাওয়া গেছে তা আমাদের জ্ঞান বাড়াতে সহায়ক হবে।”

ডা. অলটার লোকজনকে পরামর্শ দেন, তাদের বসে থাকার সময়টা নিরূপণ করার এবং প্রতি ৩০ মিনিট পর তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার।

যেহেতু নড়াচড়া না করার বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে শারীরিক তৎপরতা কিছুটা হলেও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হয়, সেজন্য ডা. অলটার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদেরকে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট পর্যন্ত মাঝারি থেকে পুরোদমের শারীরিক তৎপরতা বা ব্যায়াম চর্চা করার পরামর্শ দেন। এমনভাবে ব্যায়াম করতে হবে যাতে আপনার শরীর ঘেমে ওঠে এবং আপনার হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যায়।

মন্তব্য