আমার বাবার গান সংরক্ষণের জন্যে ইউনেস্কোর ভূমিকা প্রশংসনীয় : জহির আলীম

গত ১৭ সেপ্টেম্বর টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে মরমী শিল্পী আব্দুল আলীমকে দেয়া সম্মাননা জহির আলীম এর হাতে তুলে দিচ্ছেন ফোবানার কনভেনর আবু জুবায়ের দারা

গত ১৭ সেপ্টেম্বর টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে মরমী শিল্পী আব্দুল আলীমকে দেয়া সম্মাননা জহির আলীম এর হাতে তুলে দিচ্ছেন ফোবানার কনভেনর আবু জুবায়ের দারা

Abdul Allimরেজাউল হাসান ॥ সম্প্রতি টরন্টোতে সমাপ্ত ফোবানা সম্মেলনে যোগ দিতে টরন্টোতে এসেছিলেন কিংবদন্তির লোক সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল আলিমের সুযোগ্য পুত্র বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী জহির আলীম। বাবার ঘরাণায় গান করে জহির আলীম-বলা যায়, বাবার গানের দীপে আলো জ্বেলে রেখেছেন। টরন্টো ছেড়ে যাওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় শিল্পী এসেছিলেন প্রবাসী কন্ঠের অফিসে। প্রবাসী কন্ঠের সম্পাদক খুরশিদ আলম আর জহির আলিম ঢাকায় একই মহল্লার অধিবাসী হওয়ার সুবাদে তারা শৈশব আর কৈশোরে বেড়ে ওঠেছেন একই সাথে। সেই সন্ধ্যায় অবশ্য স্মৃতি চারণের তেমন একটা সুযোগ ছিলনা-শহর ছেড়ে যাওয়ার আগের রাত বলে বেশ ব্যস্ত ছিলেন। বললেন, ২০১৪-১৫ সালে আব্দুল আলিম ফাউন্ডেশনের ইউনেস্কো পার্টিসিপেশনের সুবাদে ৭টি বিভাগ থেকে আমরা ১৪ জন আলিম গবেষক ও ১৪ জন তরুণ কন্ঠ শিল্পী নির্বাচন করি। এবং এদের নিয়ে ঢাকায় আমরা সেমিনার ও সঙ্গীত সম্মেলনের উদ্যোগ নিই। এ উপলক্ষে যে সুভেনীয়র প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বাণী দেন। কবি রফিক আজাদ ও কবি আসাদ চৌধুরী বাবাকে নিয়ে বিশেষ হৃদয়গ্রাহী লেখা দিয়েছিলেন। সঙ্গীতের ব্যাপারে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কথা জানতাম তবে তিনি যে এতোটা আন্তরিক তা জানতাম না। আমরা অনুষ্ঠানের একদিন আগে তাঁর বাণীর জন্যে তাঁর সচিবালয়ে ধর্ণা দিই। তিনি তার সহকারীকে বললেন, কালকে অনুষ্ঠান আর আজকে কি করে বাণী দেবো-দু’একদিন সময় তো লাগবে। অনুষ্ঠান এক সপ্তাহ পেছালে বাণী দেবো। আসগর বললেন, আমরা তার আগ্রহ দেখে অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দিই। সুভেনীয়রে তার বাণীও ছাপা হয়।

একজন পেশাদার শিল্পী ছাড়াও জহির আলীম মিউজিক কলেজে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বললেন, আব্দুল আলিম আমার বাবা-তার চেয়েও বড় তিনি কিংবদন্তীর একজন লোক সঙ্গীত শিল্পী এবং জাতীয় সম্পদ। তার সব কিছুই আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ইউ টিউবে তার যে গান গুলো এখন প্রচার করা হয়-সেই গানগুলো বাবারই একজন ভক্ত আমাদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিল।এখন গানের রয়্যালটি আব্দুল আলিম ফাউন্ডেশন পাচ্ছেনা-পাচ্ছেন বাবার সেই ভক্ত। এই গানগুলো আলিম ফাউন্ডেশনে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি-কোন কাজ হয়নি। গান গুলোর কপি রাইট আলিম ফাউন্ডেশনের। গানগুলো ফেরত পেতে সম্ভবত আমাদেরকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের কিংবদন্তীর আরেক শিল্পী আব্দুল জব্বারের মৃত্যুর ব্যাপারে জহির আলীমের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের অতি আপন জন। বাবার সাথে খুবই বন্ধুত্ব ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর চাচীর সাথে দেখা করেছিলাম। বললেন,যাবার আগে তোমার চাচা তোমার কথা জিগ্যেস করেছিলেন। জহির তো এলোনা আমাকে দেখতে! তিনি যখন হাসপাতালে ভর্তি হন-তাঁর খোঁজ খবর নিতাম। জানতে চাইলাম তাঁকে চিকিৎসার জন্যে বিদেশে না পাঠানোতে তার পরিবার সহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জহির বললেন, যতোদূর শুনেছি, খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে তার ফাইল সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। তার সেরে ওঠার ব্যাপারে তারা নাকি ইতিবাচক সাড়া দেননি। তিনি মানুষের ভালবাসা নিয়েই বেঁচে থাকবেন।

তরুণ শিল্পীদের ব্যাপারে জহির আলিম বেশ আশাবাদী। বললেন, হীরের কণার মতোই অনেক তরুণ এখন দ্যুতি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, টিভি চ্যানেলগুলোও এ ব্যাপারে বেশ ভূমিকা রাখছে। তারা কোটারী ভেঙ্গে তরুণদের গাইবার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এখন তো গানে বেশ সম্মানীও পাওয়া যায়।

মন্তব্য