জঙ্গী সন্দেহে নির্যাতের শিকার তিন মুসলিম কানাডিয়ানকে ৩১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিল কানাডা

মুয়ায়েদ নূরেদীন, আব্দুল্লাহ আলমালিক ও আহমদ এল মাতি । ছবি : কানাডিয়ান প্রেস

মুয়ায়েদ নূরেদীন, আব্দুল্লাহ আলমালিক ও আহমদ এল মাতি । ছবি : কানাডিয়ান প্রেস

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক : জঙ্গী সন্দেহে ভুলভাবে অভিযুক্ত ও নির্যাতিত তিন কানাডিয়ান মুসলিমকে ৩১.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিল কানাডা সরকার। একই সাথে ক্ষমা প্রার্থনাও করা হয়।  ক্ষতিপূরণ পাওয়া এই তিন ব্যক্তি হলেন, আব্দুল্লাহ আলমালিক, আহমদ এল মাতি এবং মুয়ায়েদ নূরেদীন। তারা তিনজন মিলে এই ৩১.২ মিলিয়ন ডরার ভাগ করে নিবেন। তবে অলাদাভাবে কে কত ডলার পাচ্ছেন সে সস্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর সিবিসি নিউজের।

উললেখ্য যে, ৯/১১ এর ঘটনার পর সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এই তিন কানাডিয়ান মুসলিমকে সিরিয়ায় আটক করে ইন্টারোগেশনের নামে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়। আর ঐ নির্যাতনের বিষয়টি কানাডিয়ান গোয়েন্দা কর্মকর্তাগণ ও আরসিএমপি কর্মকর্তাগণ জানতেন। শুধু তাই নয়, ইন্টারোগেশনের ব্যাপারে তারা সিরিয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তাও করেন। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন সিরিয়ায় নিযুক্ত তৎকালীন কানাডিয় রাষ্ট্রদূতও। ২০০৮ সালে ফেডারেল সরকার কর্তৃক পরিচালিত এক তদন্তে দেখা গেছে কানাডিয়ান কর্মকর্তাগণ পরক্ষোভাবে অবদান রাখেন ঐ নির্যাতনের বিষয়ে।

নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে একজন আব্দুল্লাহ আলমালিক বলেন, কানাডিয়ান কর্মকর্তাদের কারনে আটকের ঘটনা ঘটেছে, তাদের কারণে নির্যাতন ঘটেছে। তাদের কারনে আমার ব্যবসায় বিপুল পরিমানের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আমার ভাইদের জীবন ধক্ষংস হয়ে গেছে, আমার বাচ্চাদের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

নির্যাতনের শিকার এই তিনজনেই সরকারের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ১০০ মিলিয়ন ডলার করে ক্ষতিপূরণ মামলা করেছিলেন ১০ বছর আগে।

নির্যাতনের শিকার সাবেক ট্রাক ড্রাইভার টরন্টো নিবাসী আহমদ এল মাতিকে ২০০১ সালে গ্রেফতার করা হয় যখন তিনি সিরিয়া যান তার বিয়ে সেলিব্রেট করার জন্য। পরে তাকে মিশরের এক জেলখানায় স্থানান্তর করা হয়। মোট ২৬ মাস তাকে জেলখানায় আটক করে রাখা হয়েছিল।

অটোয়া নিবাসী ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আলমালিককে আটক করা হয় সিরিয়ায় ২০০২ সালে এবং সেখানে তাকে ২২ মাস জেল খাটতে হয়।

টরন্টো নিবাসী জিওলজিস্ট মুয়ায়েদ নূরেদীনকে সিরিয় কর্মকর্তাগণ আটক করেন ২০০৩ সালে যখন তিনি ইরাক থেকে সিরিয়া যাচ্ছিলেন। জঙ্গী সন্দেহে তাকেও সিরিয়ার জেলে আটক রাখা হয়েছিল ৩৪ দিন।

উল্লেখ্য যে, কানাডা সরকার ২০০৭ সালে মেহের আরার নামের আরেক মুসলিম কানাডিয়ানকে ১০.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল একই কারণে। তার কাছে সরকার ক্ষমা প্রার্থণাও করে। মেহের আরারকে সিরিয়ার জেলে আটক রেখে জঙ্গী সন্দেহে নির্যাতন করা হয়েছিল।

কানাডার ফেডারেল  সরকার গত জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায় কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে’র সাবেক বন্দী ওমর খাদারের কাছেও।  মীমাংসা অনুযায়ী ওমর ১০.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে সরকারের কাছ থেকে। সে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে ২০ মিলিয়ন ডলার ক্ষপিপূরণ চেয়েছিল। ওমরের অভিযোগ ছিল সরকার তার নাগরিক অধিকারকে লঙ্ঘন করেছে। 

মন্তব্য