ব্যারিস্টার হিসাবে সাফল্যের দশবছর পূর্তি চয়নিকা দত্তের

Chayanika Dutta 4

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ব্যারিষ্টার চয়নিকা দত্ত। ছবি : বিদ্যুত সরকার

প্রবাসী কণ্ঠ : ব্যারিস্টার হিসাবে চয়নিকা দত্তের দশবছর পূর্তি হলো সম্প্রতি। আর এ উপলক্ষ্যে টরন্টোতে এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় গত ১১ নভেম্বর। ১৭৪ বার্টলী ড্রাইভে অবস্থিত সেলিব্রেশনস ব্যাংকুয়েট হলের বিশাল মিলনায়তনে বিপুল সংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে প্রবাসের বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। এ সময় ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত ব্যাংকুয়েট হলের প্রবেশদ্বারে দাড়িয়ে থেকে অতিথিদের সাদর অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিগণ তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান।
রাত আটটায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব। এই সময় নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন টরন্টোর স্থানীয় বাংলাদেশী শিল্পীগণ। এরই এক ফাঁকে মঞ্চে উঠে আসেন ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত। তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

Chayanika Dutta3

অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করছেন স্থানীয় বাংলাদেশী শিল্পীগণ। ছবি : ম্যাক আজাদ

ব্যারিস্টার চয়নিকা বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে অনেকেই উপস্থিত হয়েছেন যাদের মধ্যে আছেন আইনজীবী, ব্যাংকার, বীমা কোম্পানীর প্রতিনিধি, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও ব্রোকার যারা সবাই আমাকে নানানভাবে সহযোগিতা করেছেন। আজকের এই দিনে আমি সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
আজকের এই অনুষ্ঠানে ব্যাংক, বীমা ও রিয়েল এস্টেট প্রতিনিধি ছাড়া উপস্থিত আছেন আমার কিছু ব্যক্তিগত বন্ধুও। খুবই ঘনিষ্ঠ এবং নিঃশর্ত বন্ধু এরা আমার। তাদের প্রতিও জানাচ্ছি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।
চয়নিকা দত্ত আরো বলেন, আমি আমার কর্মস্থলে কেউ নই আমার ‘মেরুদন্ড’ ছাড়া। আর এই মেরুন্ড হলো যারা আমার কর্মসহযোগী তারা। আমিসহ পাঁচজনের একটি কর্মী বাহিনী আছে আমার। এরা হলেন ইভা, মেরী, সোনিয়া এবং সুবর্ণা। এদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া আমি অচল। আরো একজন আছেন আমার একাউন্টেন্ট জগন। সবাই মিলে অত্যন্ত চমৎকার এই টিম আমার।

Chayanika Dutta1

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের একাংশ। ছবি : ম্যাক আজাদ

Chayanika Dutta 2

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের একাংশ। ছবি : ম্যাক আজাদ

সবশেষে চয়নিকা দত্ত বলেন, আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আরো ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার সন্তান যশ-কে। আরো ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার স্বামী রনি রয়-কেও। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও উৎসাহ প্রদান ছাড়া আমি কোনভাবেই সামনে এগুতে পারতাম না।
উল্লেখ্য যে, ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম সি আর দত্তের সুযোগ্যা কন্যা। তার স্বামী রনি রয় টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গণে একজন স্বনামধন্য সঙ্গীত শিল্পী।
শুধু টরন্টোতেই নয় -এক কথায় গোটা কানাডাতেই প্রথম প্রজন্মের প্রথম বাঙালী মহিলা ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত। প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটির নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অন্যতম একজন পৃষ্ঠপোষক চয়নিকা দত্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে এল এল বি পাশ করে ১৯৮২ সালে চয়নিকা দত্ত পাড়ি জমান কানাডায়। সে বছর মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তি হন মাস্টার্স প্রোগ্রামে।
চয়নিকা দত্ত ইতিপূর্বে প্রবাসী কন্ঠে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি মন্ট্রিয়লেই আইন পেশা শুরু করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু আমাকে বলা হলো, ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষতা না থাকলে ওখানে ওকালতি করা যাবেনা। অগত্যা আমরা চলে এলাম টরন্টোতে। ততোদিনে আমি এক পুত্র সনন্তানেরও জননী হয়ে গেছি। শুরু হলো এক সংগ্রামময় জীবনের। একদিকে ব্যারিস্টারী পড়ছি। একার আয়ে তো আর সংসার চলেনা। দিনে স্কুল-রাতে ফুলটাইম জব-এই করে একসময় দাঁড়িয়ে গেলাম। শুরুর দিকে কিছুদিন একটা ল’ ফার্মে কাজ করেছি। তারপর ২০০৭ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করলাম আমার নিজের ল’ফার্ম।”
রাত দশটায় আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে নৈশ ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

মন্তব্য