কানাডায় অর্ধেকের বেশী মহিলা অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানির শিকার

অর্ধেকের বেশী কানাডীয় মহিলা কোন না কোন ভাবে অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানি বা চাপের শিকার হচ্ছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ভেঙ্গুভারে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সমাবেশ করছেন কয়েকজন নারী। ছবি : Globalnews

অর্ধেকের বেশী কানাডীয় মহিলা কোন না কোন ভাবে অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানি বা চাপের শিকার হচ্ছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ভেঙ্গুভারে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সমাবেশ করছেন কয়েকজন নারী। ছবি : Globalnews

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক : পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে যশস্বী বা সেলিব্রিটি মহিলাদের কেউ কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এমন খবর যখন মিডিয়ায় ফলাও করে ছাপা হচ্ছে তখন কানাডায় মহিলাগণ কতটা অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানি বা চাপ এর শিকার হচ্ছেন তা নিয়ে সম্প্রতি একটি জরীপ চালানো হয়। জরীপে যে তথ্য উঠে এসেছে তা বিষ্ময়করই বলা যায়। কারণ, দেখা গেছে অর্ধেকের বেশী কানাডীয় মহিলা কোন না কোন ভাবে অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানি বা চাপের শিকার হচ্ছেন। খবর সিবিসি নিউজের।

গত অক্টোবর মাসের ২০ ও ২১ তারিখে এ্যাবাকাস ডাটা’র পরিচালিত ঐ জরীপে দেখা যাচ্ছে কানাডার ৫৩% মহিলা অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানি বা চাপ এর শিকার হচ্ছেন। আর শতকরা ১০ জনেরও বেশী পুরুষ এবং মহিলা বলেন তাদের কর্মস্থলে মহিলাদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়া খুবই কমন বা সাধারণ বিষয়। এ্যাবাকাস ডাটা’র চেয়াম্যান ব্র“স এন্ডারসন বলেন, জরীপে উঠে আসা এই তথ্য খুবই আঘাত হানার মত। সংখ্যার হিসাবে বলা যায় কানাডায় ৮০ লক্ষ মহিলা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের জীবনের কোন এক পর্যায়ে।

এই জরীপটি এমন সময় পরিচালিত হলো যখন হলিউডের বিখ্যাত প্রডিউসার হারভি ওয়ানস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। এই অভিনেত্রীদের কেউ কেউ এমন অভিযোগও করেন যে হারভি তাদেরকে যৌন নির্যাতনও করেছে। হারভি এই অপকর্ম প্রায় এক দশক ধরেই করে আসছে।

জরীপে একটি প্রশ্ন ছিল – সম্প্রতি হলিউডে অভিনেত্রীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। আপনি কি অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানি বা চাপের শিকার হয়েছেন কখনো?

এই প্রশ্নের উত্তরে জরীপে অংশগ্রহনকারী ৫% কানাডীয় মহিলা বলেছেন তারা অতি ঘনমাত্রায় অবাঞ্ছিত যৌন হায়রানির শিকার হয়েছেন। ৭% মহিলা বলেছেন তারা অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন প্রায়ই। ৪১% মহিলা বলেছেন তারা অবাঞ্ছিত যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন মাঝেমধ্যে। আর ৪৬% মহিলা বলেছেন তারা কখনোই এরকম অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির শিকার হননি।

কর্মস্থলে মহিলাগণ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না এই প্রশ্নও ছিল জরীপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি। এই প্রশ্ন মহিলা ও পুরুষ উভয়কেই করা হয়। এর উত্তরে তারা (১০% পুরুষ ও ১৪% মহিলা) বলেন কর্মস্থলে মহিলাদের প্রতি যৌন হয়রানি খুবই কমন বা সাধারণ বিষয়। ৪৪% উত্তরদাতা ( ৪৩% পুরুষ এবং ৪৪% মহিলা) বলেন, তাদের কর্মস্থলে এটি ঘটে তবে অনিয়মিতভাবে। আর ৪৪% উত্তরদাতা বলেন, তাদের কর্মস্থলে মহিলাদের প্রতি যৌন নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ্যাবাকাস ডাটা’র চেয়াম্যান ব্র“স এন্ডারসন বলেন, জরীপে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দিতে পারে। কারণ, কেউ হয়তো বলবেন বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে। আবার কেউ হয়তো বলবেন সত্যিকার পরিস্থিতি আরো খারাপ যা জরীপে সঠিকভাবে উঠে আসেনি। আবার কেউ কেউ দাবী উঠাতে পারেন এই বলে যে, যৌন হয়রানি বা অবাঞ্ছিত যৌন চাপ বলতে কি বুঝায় তা স্পষ্ট করা দরকার।

এন্ডারসন বলেন, যৌন হয়রানি বা অবাঞ্ছিত যৌন চাপের সংজ্ঞা কি সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, যারা এই জাতীয় আচরণ পছন্দ করেন না তাদের কাছে তা অবাঞ্ছিত যৌন আচরণ হিসাবেই বিবেচিত।

উলল্খ্যে যে ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে প্রকাশিত অন্য এক জরীপে বলা হয়েছিল কানাডায় প্রতি ১০ জন মহিলার মধ্যে তিনজন ধর্ষণের শিকার হন। কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা তখন বলেছিলেন এটি ‘‘কমিয়ে দেখানো’’ হিসাব।

অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক এলিজাবেথ শিহাই, যিনি যৌন হামলার আইন বিষয়ে পড়ান, তিনি বলেন, ‘‘এধরণের জরিপে যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের প্রকৃত সংখ্যার কাছাকাছিও যেতে পারে বলে আমি মনে করি না।

ফোরাম সার্চ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওই জরিপ চালিয়েছিল যা ঐ সময় টরস্টার নিউজ সার্ভিসে প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য