টরন্টো আগামী তিন বছরে এক লাখ ৭০ হাজার অভিবাসীকে স্বাগত জানাতে পারে : আমরা কি প্রস্তুত?

আগামী তিন বছরে কানাডা প্রায় ১০ লাখ অভিবাসীকে স্বাগত জানাবে। ছবি : কানাডিয়ান প্রেস

আগামী তিন বছরে কানাডা প্রায় ১০ লাখ অভিবাসীকে স্বাগত জানাবে। ছবি : কানাডিয়ান প্রেস

সাধ্যের মধ্যে আবাসন, স্থিতিশীল কর্মসংস্থান কানাডায় নবাগতদের জন্য বড় সমস্যা

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ৫ নভেম্বর ২০১৭ : আগামী তিন বছরে কানাডায় প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী আসবেন এবং তাদের মধ্যে হাজার হাজার অভিবাসী টরন্টোতে ঠাঁই নেবেন। কিন্তু নবাগতদের এই ঢলের জন্য এই নগরী কি প্রস্তুত?

আগামী বছরগুলোতে অভিবাসনের  পরিমাণ বাড়ানোর লিবারেল সরকারের নতুন ঘোষিত নীতির প্রেক্ষিতে টরন্টোর অভিবাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন যে, অর্থনৈতিক অভিবাসী, পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে আসা এবং শরণার্থীদের বাড়তি স্রোত সামলে নিতে এই নগরী প্রস্তুত কিনা, বিশেষত যে শহরে স্থিতিশীর কর্মসংস্থান এবং আবাসন সুবিধা দুটোই খুঁজে পাওয়া কঠিন। খবর সিবিসি নিউজ এর।

বন্দোবস্ত বিষয়ক অলাভজনক সংগঠন নবাগত নারী সার্ভিসের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন ম্যাকনিলি বলেন, “জাতিগত অভিবাসী নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার খুবই বেশি।” তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ আদমশুমারীর তথ্য অনুযায়ী, টরন্টোতে বসবাসকারী দৃশ্যমান সংখ্যালঘু নারীদের ৫৫ শতাংশই বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম অর্থে জীবনযাপন করে।

তিনি বলেন, “তারা যখন কাজ করতে যায় তখন তাদেরকে সর্বনি¤œ মজুরি দেওয়া হয়, তাদের কাজ হয় অনিশ্চিত এবং পালা অনুযায়ী। আমরা ড্যানফোর্থের সামান্য উত্তরে বসবাসকারী অনেক নারীকে সেবা দিয়ে থাকি যেখানে ৫৭ শতাংশ পরিবারের আয়

বছরে ৪০ হাজার ডলারের কম।”

তার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করলেন মার্গারেট ইটন। ইটন হলেন টরন্টো অঞ্চলের অভিবাসী কর্মসংস্থান কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক। তিনি গুরুত্ব দিলেন কীভাবে উচ্চশিক্ষিত অভিবাসীদের মধ্যেও অর্থনৈতিক বিভাজন থেকে যায় সেই বিষয়টির ওপর।

তিনি বলেন, নিয়োগদাতাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং নবাগতদেরকে সুযোগ দিতে হবে। তার ভাষায়, “এসব বৃহৎ করপোরেশনের প্রধানদেরকে তাদের পক্ষে নিয়োগদানকারী ব্যবস্থাপকদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে হবে, তাহলেই তারা কাউকে নিয়োগ দেবে।”

 

২০২০ সালে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে তিন লাখ ৪০ হাজার

আর সম্ভাব্য কর্মীদের এই সমাবেশ খুব দ্রুতই বাড়তে থাকবে। অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ হোসেনের গত পহেলা নভেম্বর ঘোষিত নতুন পরিকল্পনার কারণেই এটা ঘটবে যেটিকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের “সবচাইতে উচ্চাভিলাসী” পরিকল্পনা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, কানাডায় আসা অভিবাসীর সংখ্যা ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়াবে তিন লাখ ১০ হাজারে, যা চলতি বছরের তিন লাখকে ছাড়িয়ে যাবে।

অভিবাসীর সংখ্যা ২০১৯ সালে আরও বেড়ে তিন লাখ ৩০ হাজার এবং ২০২০ সালে তিন লাখ ৪০ হাজারে উন্নীত হবে।

স্কারবরো-এজিনকোর্টের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধি কাউন্ট জিম ক্যারিজিয়ানিস লিবারেল সরকারের এই পরিকল্পনার প্রশংসা করে বলেন, আগের সরকারগুলো এপথে এগুনোর মতো ‘এতটা সাহসী’ ছিলো না। তিনি আরও বলেন, টরন্টোতে আরও বেশি মানুষের অর্থ হলো তাদের জন্য আরও বেশি সহায়তার প্রয়োজন হবে।

ক্যারিজিয়ানিস ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমাদেরকে তাদের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমাদেরকে এটা নিশ্চিত করা দরকার যে, আমাদের স্কুলগুলো প্রস্তুত থাকবে কারণ অনেক বেশি সংখ্যক শিশু আসবে যারা ইংরেজিতে কথা বলে না। আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের পরিষেবা কার্যক্রম রয়েছে।”

ইটন বলেন, টরন্টোতে এটা খুবই জটিল বিশেষ করে এমন একটি শহরে যেটি ছিলো বিদেশ থেকে আসা লোকেদের কাছে সাধারণভাবে এক ’বিরাট চুম্বক’ বিশেষ।

অভিবাসন মন্ত্রী হুসেন বলেন, সরকার অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের কানাডীয় সমাজের সঙ্গে একীভূতকরণের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, “তাদের জন্য সহায়তা রয়েছে এবং সেগুলো অব্যাহত থাকবে। আর আমরা এই বিষয়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”

সাম্প্রতিক সময়ে আসা অভিবাসীদের ১৭ শতাংশকে ঠাঁই দিয়েছে টরন্টো

২০১৬ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিককালে কানাডায় আসা সব অভিবাসীর মধ্যে ১৭ শতাংশ টরন্টোতে বসবাস করছে, তার পরও দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র আট শতাংশ টরন্টোতে বাস করে।

যদি অভিবাসী আসার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে তাহলে এই নগরী কেবল ২০১৮ সালেই ৫০ হাজার অভিবাসীকে স্বাগত জানাবে এবং পরবর্তী তিন বছরে তা বেড়ে এক লাখ ৭০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছবে।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “সাধ্যের মধ্যে আবাসন সুবিধার সঙ্কট বিদ্যমান থাকলে পরবর্তী সময়ে এই নগরী অভিবাসীদের আর আকর্ষণ না-ও করতে পারে।

উডগ্রিন কমিউনিটি সার্ভিসের গবেষণা ও জননীতি বিষয়ক পরিচালক ডিয়েন ডাইসন বলেন, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে আসা সিরীয় উদ্বাস্তুদের অনেকে বৃহত্তর টরন্টো অঞ্চলের অন্য কোন জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে। তিনি বলেন, “তাদের অনেকেই টরন্টোতে এসেছে, টরন্টোতে থাকার স্পন্সর নিয়ে এসেছে, কিন্তু তারা নগরীর সীমানার বাইরের কোন জায়গা যেমন মিসিসগা এবং মারখহাম-এর মতো স্থানে বাসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে আবাসন সুবিধা অপেক্ষাকৃত সাধ্যের মধ্যে।” তারপরও, নবাগতদের প্রবাহ সঙ্কুচিত হয়ে এলেও তা নিঃসন্দেহে একেবারে থিতিয়ে পড়বে না। ইটনের ভাষায়, “অভিবাসীরা যদি টরন্টোতে আসতে থাকে এবং সাফল্য অর্জন করতে চায় তাহলে তাদেরকে সহায়তা দেওয়া হবে।”

মন্তব্য