কানাডার শ্রমশক্তি অধিকতর শিক্ষিত

২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কানাডীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশের মাধ্যমিকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। ছবি: কানাডিয়ান প্রেস

২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কানাডীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশের মাধ্যমিকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। ছবি: কানাডিয়ান প্রেস

কানাডীয়দের বৃহত্তর অংশ এখন মাধ্যমিকোত্তর ডিগ্রিধারী, বেশি সংখ্যক জ্যেষ্ঠ নাগরিক এখন পূর্ণকালীন কাজ করছেন এবং আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে যাত্রীরা এখন বেশি দূরত্ব ও বেশি সময় ধরে ভ্রমণ করছেন। গত ২৯ নভেম্বর স্ট্যাটিসটিকস্ কানাডার প্রকাশিত তথ্যে এসব জানা গেছে। খবর সিবিসি নিউজের।

২০১৬ সালের আদমশুমারির প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত তথ্যউপাত্ত থেকে জানা যায়, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কানাডীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশের মাধ্যমিকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে যা ২০০৬ সালে ছিলো ৪৮.৩ শতাংশ। এটি হলো শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত এক দশকের মধ্যে অন্তত একটি স্নাতক ডিগ্রিধারী তরুণীর সংখ্যা উল্ল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেড়েছে। এদের সংখ্যা প্রায় আট শতাংশ হারে বেড়ে ৪০.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ সার্টিফিকেটধারীদের। এদের সংখ্যা ৪.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে।

স্নাতক ডিগ্রিধারী তরুণের চেয়ে তরুণীদের সংখ্যা এখন বেশি - ১৯৯০ এর দশক থেকেই এই অবস্থা বিরাজ করছে। আর এখন তরুণীদের ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের সম্ভাবনাও এখন বেশি, বিশেষ করে শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, মানবিক শিক্ষা ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা বেড়েছে।

শুমারির তথ্য অনুযায়ী, স্থাপত্য, প্রকৌশল, গণিত, তথ্যপ্রযুক্তি এবং জীবন বিদ্যায় (life sciences) ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের দিক থেকে ছেলেরা এখনও মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে কর্মরত পুরুষরা আবার ব্যবসায়, মানবিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সামাজিক বিজ্ঞান ও শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োজিত পুরুষদের তুলনায় ২৩.৯ শতাংশ বেশি অর্থ আয় করেন। নারীদের মধ্যে এই অসাম্য নিয়ে খুব কমই কথা হয়।

শুমারিতে দেখা গেছে, যারা নার্সিং, প্রকৌশল, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে ডিগ্রি অর্জন করেন তাদের জন্য নিজ শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু যারা শিল্প, মানবিক বিদ্যা বা সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তাদেরকে এমন ক্ষেত্রে কাজ করতে হয় যে ক্ষেত্রটিতে তিনি অতিরিক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নবাগত অভিবাসীদের বেশিরভাগেরই অন্তত একটি স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। অন্যদিকে এক তৃতীয়াংশেরও কম শরাণার্থী কানাডায় আসার পর তাদের শিক্ষার স্তর বাড়িয়ে নিয়েছে।

 

শ্রমশক্তিতে তরুণদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ নাগরিকের সংখ্যা বেশি

কানাডীয়রা কাজও করেন দীর্ঘকাল ধরে। ১৯৮১ সালে শুমারি শুরুর পর থেকে বর্তমানে সর্বোচ্চ সংখ্যক জ্যেষ্ঠ নাগরিক সারা বছর ধরে পূর্ণকালীন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের সংখ্যা হলো ৫.৯ শতাংশ। ২০১৫ সালে কর্মরত ছিলেন এমন বয়ঃজ্যেষ্ঠদের এক-পঞ্চমাংশই এখনও কর্মরত রয়েছেন যা ১৯৯৫ সালের চেয়ে দ্বিগুণ।

অবশ্য অপেক্ষাকৃত তরুণ কানাডীয়দের কর্মরত হওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে মাত্র ৫১.৯ শতাংশ কর্মরত। ২০০৬ সালে এই বয়সীদের কাজে নিয়োজিত হওয়ার পরিমাণ ছিলো ৫৭.২ শতাংশ।

পুরো বছর ধরে পূর্ণকালীন কাজে নিয়োজিত হওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে পাল্টে গেছে এবং খন্ডকালীন ও বছরের অংশবিশেষে কাজ করার রীতির প্রচলন ঘটেছে। কর্মরত থাকার বয়সী পুরুষদের পূর্ণকালীন কাজে নিয়োজিত হওয়ার সংখ্যা গত এক দশকে ৬৩.৩ শতাংশ থেকে কমে ৫৬.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পূর্ণকালীন কর্মে নিয়োজিত নারীর সংখ্যাও ৪৩.৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

সার্বিকভাবে, ১০ শতাংশ পুরুষ এবং ১৭.৬ শতাংশ নারী একেবারেই কোনও কাজ করে না। এই প্রবণতা পুরুষের মধ্যে বেড়েছে এবং নারীদের ক্ষেত্রে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

আদমশুমারিতেএটাওজানাগেছেযে, ৯৯.২শতাংশ কানাডীয় কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি অথবা ফরাসি ভাষা ব্যবহার করে।

মন্তব্য