পারীজাত ফুল

 

 

রীনা গুলশান

 

মুমু, তুই বরং তোর দুঃখগুলো আমাকে দিয়ে দে -

আমার দুঃখগুলো কিভাবে তোকে দেই বলতো?

সেগুলো কখন যেন গ্রথিত শেকড়ের মত

বুকের গহীন অরন্যে দানা বেঁধেছে –

আমি নিজেই আমার দুঃখগুলোকে আর খুঁজে পাইনা॥

 

জীবনের সব ব্যর্থতা, বিষন্নতা, না পাওয়ার বেদনাগুলো

সব একাকার করে, আনন্দের উৎসের মাঝে

খুঁজে খুঁজে খুঁজে আর পাইনে-

তোকে কি করে দেই, বল??

আমার গোটা শরীরটা আটকে আছে

দুঃখের দেয়ালে, কে যেন কবে থেকে যন্ত্রনা হাতুড়ি

দিয়ে ঠুকেঁ ঠুকেঁ দেয়ালের অনেক গভীরে গেথেঁ রেখেছে

 

করতল দুটো, তোকে দেবো বলে সযত্নে তুলে রেখেছিলাম

আজ সকালেই দুঃখী কাঠঠোকরাটা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে

রক্তাক্ত মেহেদীর আলপনা একে দিয়েছে

আর হৃদয়টা? সেতো কবেই…কে যেন

একটু একটু সেতারের তারে আষ্টে পৃষ্টে বেধে রেখেছে

সেখানে ক্যাবোলই বিটোফেনের করুন মূর্চ্ছনা

 

মুমু, তুই এগুলো কিচ্ছু চাস না… তোকে দেবার

মত আর কিছুই নাই… আছে এখনও খুউব

তাজা হু হু করা হওয়ার মত এক টুকরা ভালবাসা-॥

তুই বরঙ তোর সঅব দুঃখ বেদনা, ক্ষোভ

দু’হাতে জড়ো করে আমাকে সপে দে

আমি আকাশের অনেক উপরে নিয়ে ছড়িয়ে দেব

পৃথিবীর উপর॥

কারণ, দুঃখী এই পৃথিবীটা অনেক বড়

তোর সব দুঃখ জগতের সমস্ত অরাজকতায় মিশে যাবে॥

 

তারপর এক ঝাক ভালবাসার শীত পাখী

উড়ে উড়ে, ফিরে ফিরে তোকে নিয়ে যাবে

অন্য একটা কাঙ্খিত সুখের জগতে

আমি জানি জগতের অন্য কোন খানে

আজও খুউব গভীর ভাবে

সুখ বেচেঁ আছে, খুউব স্নিগ্ধতা নিয়ে!!!

 

রীনা গুলশান, টরন্টো

মন্তব্য